আনোয়ারায় দু’নাবিকের ঘরে আনন্দ, বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস

প্রকাশ:| রবিবার, ৮ জুন , ২০১৪ সময় ১০:৪৯ অপরাহ্ণ

আনোয়ারার মেরিন একাডেমী ঘুরে এসে বিশেষ প্রতিনিধি,নিউজটিচাগাং২৪.কম।।

ঈদের আগেই ঈদের খুশি উপচে পড়ছে আনোয়ারার মেরিন একাডেমী কলোনীর দু নাবিকের ঘরে। সাড়ে তিন বছর পর ওই দুঘরে এমন খুশিদেখা যাচ্ছে।

নাবিকের1রবিবার মেরিন একাডেমির আবাসিক কলোনিতে সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া চাঁদপুরের ক্যাডেট জাকির হোসেনের পিতা মো. আবুল কালাম ও আমিনুল ইসলামের পিতা নুরুল ইসলামসহ পরিবারের সদস্যদেও সাথে। নুরুল ইসলাম বলেন, সাড়ে তিন বছর বহু কষ্টে দিন কাটিয়েছি। শেষ পর্যন্ত ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আনন্দে অতীতের সব কষ্ট দুর হয়ে গেছে।
জাকির হোসেনের বড় ভাই রাশেদ কবির বলেন, ২০১০ সালের ৩১ জুলাই মালেশিয়ান কোম্পানির জাহাজ আলবেডোতে উঠে দেশ ছাড়ে আমার ভাইসহ নাবিকেরা। আর ২০১১ সালের জানুয়ারীতে এটি সোমালি ঝলদস্যু দ্বারা অপহরণ হয়। জিম্মি দশার সাড়ে তিন বছরে অনেক সময় জলদস্যুদের মোবাইল ফোন থেকে মিস কল আসত। আমরা কল বেক করে কয়েক মিনিট কথা বলতে পারতাম। আশা ছিল তাদেও পাব।
জানা যায়, অপহৃত আমিনুল ইসলামের পিতা নুরুল ইসলাম মেরিন একাডেমিতে নটিক্যাল বিভাগে চাকরি করেন আর জাকির হোসেনের পিতা আবুল কালাম চাকরি করেন বিদ্যুৎ বিভাগে। নুরুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর আর আমিনুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলায়। আমিনুল ইসলাম (২৭) ২০১০ সালে ডেক ক্যাডেট হিসেবে এবং জাকির হোসেন ইঞ্জিন ক্যাডেট হিসেবে মালয়েশিয়ান জাহাজে চাকরি নেয়।
আমিনুল ইসলামের পিতা নুরুল ইসলাম বলেন, অপহরণের পর থেকে ছেলেকে ফিরে পেতে বর্তমান মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট সাজিদ হোসেন অনেক সহযোগিতা করেছেন।
আমিনুল ইসলামের ছোট বোন সানজিদা আকতার বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর ভাইকে ফিরে পেয়ে আনন্দ লাগছে। পরিবারে আনন্দ বলে কিছুই ছিলোনা এখন খুব খুশি লাগছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমীর কমান্ডেন্ট সাজিদ হোসেন বলেন, খুব ভালো লাগছে, ওরা ফিরছে।
প্রসঙ্গত; ২০১১ সালের জানুয়ারিতে মালেশিয়ান মালিকানাধীন জাহাজ আলবেডো বাংলাদেশী ৭ নাবিকসহ সোমালি জলদস্যুদের হাতে অপহৃত হয়। এর মধ্যে ২ জনের পরিবার থাকে আনোয়ারার মেরিন একাডেমী কলোনীতে। তাদের মধ্যে ডেক ক্যাডেট আমিনুল ইসলামের পিতা একাডেমীর নটিক্যাল বিভাগে ও ইঞ্জিন ক্যাডেট জাকির হোসেনের পিতা বিদ্যুত উন্নয়ন বিভাগের মেরিন একাডেমী এলাকায় চাকুরী করতেন। আমিনুল ইসলামের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম ও জাকির হোসেনের বাড়ি চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে। বন্দীদশার সাড়ে ৩ বছর পর গত শুক্রবার জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় মুক্তি পেলেন তারা। মুক্তির পর তাদেরকে বাংলাদেশী দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবির একটি হোটেলে রাখা হয়েছে। বৃহষ্পতি বা শুক্রবার তারা ঢাকা আসবেন।


আরোও সংবাদ