আনোয়ারায় কালভার্ট নির্মাণে অনিয়ম

প্রকাশ:| শনিবার, ১৯ আগস্ট , ২০১৭ সময় ০৫:৩৭ অপরাহ্ণ

ইমরান এমি, আনোয়ারা:
আনোয়ারা উপজেলার পারকি সৈকত সড়কের বুড়ির পুলের কালভার্ট নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দ্রুত নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করার কথা থাকলেও এক মাস অতিবাহিত হলে এখনো দৃশ্যমান কোন কাজ হয়নি। জানা যায়, এর আগে কালভার্টে বসানোর আগেই সংশ্লিষ্ঠ ঠিকাদারের তৈরিকৃত পাকা পাইপগুলো ভাঙ্গাচোরা দেখে স্থানীয়রা ফুঁসে উঠেছে। পাইপগুলোর টেম্পার না আসার আগে বসাতে গিয়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে স্বীকার করেছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী ও ঠিকাদার।
জানা যায়,ঘূর্ণিঝড় মোরার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ বুড়ির পুলের কালভার্টটির সংস্কারের জন্য জরুরী ভিত্তিতে ৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি)। আর এ কাজটি পায় জসিম এন্ড ব্রাদার্স নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কাজ পেয়ে দীর্ঘদিন গড়িমসি করে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের চাঁপের মুখে তড়িগড়ি করে কাজ করতে গিয়ে কালভার্টে টেম্পার আসার আগেই তা বসাতে গিয়ে খসে পড়ে। এ সময় পাইপের বেশিরভাগ অংশের পলেস্তার ঝরে চিকন চিকন লোহার রড দেখা গেলে স্থানীয়রা কাজের টেশসই নিয়ে অভিযোগ তোলেন। স্থানীয় অভিযোগ করে বলেন, সরকারীদলের নেতাদের ম্যানেজ করে কোন রকম কাজ করতে চাইছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান, তার জন্য কয়েকজন নেতাকে মাসোহারা দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
এদিকে দীর্ঘদিন কাজ পেয়ে কাজে অনিয়ম দূর্ণীতি, সাময়িক চলার মতো কোন ব্যবস্থা না হওয়ায় দ্বিতীয় সমুদ্র সৈকত পারকি বিচে আসতে পর্যটকদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। জীবনের ঝুকি নিয়ে চলাচল করলেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কোন মাথা ব্যাথা নেই। সরকারি ছুটির শুক্রবারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা বুড়ির পুলের দু’পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্ঠি হয়েছে, দূর দূরান্ত থেকে আসা বাস, প্রাইভেট কার, নোহা সহ অনান্য যানবাহন বিচ পর্যন্ত যেতে পারতেছে না। পরে ছুটির দিনে পর্যটকদের উপছে পড়া ভিড়ের মধ্যে যানজটের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। এসময় স্থানীয় চেয়ারম্যান এম এ কাইয়ুম শাহ সাময়িকভাবে সিএনজি চলাচলের জন্য ব্যবস্থা করে দেন নিজ উপস্থিত হয়ে। এদিকে পারকি বিচে যাওয়ার পথে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও গৌতম বাড়ৈকেও আটকা থাকতে হয় এ যানজটে।
এব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এম এ কাইয়ুম শাহ জানান, সপ্তাহের ছুটির ছাড়াও পারকী সমুদ্র সৈকতে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক ও এষানকার বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যদি কর্তব্য নিয়ে কাজ করে তাহলে কালভার্টটি দ্রুত নির্মাণ করতে পারবে। কালভার্টটি না থাকায় আগত পর্যটকদের নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
এব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জসিম এন্ড ব্রাদাসের জসিম উদ্দীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কাজ যখন পেয়েছি, কাজ তো করবই। অনিয়মের কথা জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করে বলেন উপজেলা চেয়ারম্যান জানেন, কাজে কোন ধরণের অনিয়ম হচ্ছে না, লিখে কি হবে।
এব্যাপারে আনোয়ারা উপজেলা প্রকৌশলী তাসলিমা জাহানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সংযোগ দিতে ব্যার্থ হয়।


আরোও সংবাদ