আদালতে গেলেন তবে মানুষ মারলেন কেন- কামরুল

প্রকাশ:| রবিবার, ৫ এপ্রিল , ২০১৫ সময় ০৩:৩৩ অপরাহ্ণ

খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘সুবোধ, শান্ত-শিষ্টের মতো আদালতে গেলেন তাহলে মানুষ হত্যা করলেন কেন? এর জবাব আপনি পাবেন, জনগণ আপনাকে সঠিক জবাব দেবে।’

রোববার দুপুরে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল মান্নানের ১০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রশ্ন রাখেন।

খালেদা জিয়া তার কার্যালয়ে স্বেচ্ছায় অবস্থান করছিলেন মন্তব্য করে কামরুল ইসলাম বলেন, ‘সেখান থেকে তিনি স্বেচ্ছাই বের হয়েছেন।’

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সিটি নির্বাচনে এসেছে ভালো কথা। কিন্তু লেভেল প্লেইং ফিল্ডের নামে তারা আবার নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। তারা ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করতে চায়। আমরা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে চাই। অহেতুক উল্টাপাল্টা কিছু বলবেন না।’

তিনি বলেন, ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড মানে এই না, যারা মানুষ মেরেছে তাদের পুলিশ খুঁজবে না আর যারা জেলে আছে তাদের ছেড়ে দেয়া হবে। তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না, তারা যতো বড়ই হোক না কেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এতোগুলো মানুষের জীবন নিলেন, ১০০ জনেরও অধিক। শত নাগরিক কমিটির নেতা এমাজউদ্দিন সাহেবের কাছে প্রশ্ন, এর ফলাফল কি? আমি বলি- মানুষ হত্যা করে জাতীয় নির্বাচনের আদায় করা যায় না।’

কামরুল ইসলাম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে আরো বলেন, ‘দীর্ঘদিন যান না তাই আদালতে গেছেন। আসলে এটা মামলাকে বিলম্বিত করার কৌশল। যাইহোক আদালত তাকে জামিন দিয়েছে। আশা করি, খালেদা জিয়া আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন। বিচার বিলম্বিত করার আর কোনো কৌশল নেবেন না।’

এদিকে নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে না যাওয়াটা বিএনপি নেতাদের সাহসের অভাব বলে মন্তব্য করেন কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘নয়া পল্টনের কার্যালয়ে তো পুলিশ পাহারা দেয়ার জন্য ছিল। সেখানে না যাওয়াটা তাদের সাহসের অভাব। যাক সিটি নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি গণতন্ত্রের পথে ফিরি এসেছে।’

নাট্য ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, মহানগর নেতা হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই কানু প্রমুখ।