আত্মসাতের পরিকল্পনা নিয়ে দেশে ফিরেছিল রিয়াজ

প্রকাশ:| রবিবার, ৪ ডিসেম্বর , ২০১৬ সময় ০৭:৫১ অপরাহ্ণ

দুবাই থেকে মালিকের পাঠানো স্বর্ণালংকার, মোবাইল, ল্যাপটপ আত্মসাতের পরিকল্পনা নিয়ে দেশে ফিরেছিল রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী নামে এক যুবক। এজন্য নগরীতে ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ৮ যুবককে ‘ডিবি পুলিশ’ সাজিয়েছিল রিয়াজ। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর সেই মালামালগুলো ডিবি সেজে ওই যুবকরা রিয়াজ ও মালিকের ভাইয়ের কাছ থেকে কেড়ে নেয়।

কিন্তু আত্মসাতের জন্য সাজানো রিয়াজের এই নাটক ব্যর্থ হয়েছে। রিয়াজসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে নাটকের অন্তরালের কাহিনী ফাঁস করতে সক্ষম হয়েছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রামের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা।

গ্রেফতার হওয়া ৫ জন হল, মূল পরিকল্পনাকারী রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী (৩০), আব্দুল আওয়াল তুহিন (২৭), মোহাম্মদ আলী (৩০), ফয়সাল আহমেদ মাকসুদ (২৬) এবং দিদারুল আলম (৪১)।

পিবিআই, চট্টগ্রামের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা বাংলানিউজকে বলেন, দুবাইয়ে বসেই মালিকের পাঠানো মালামাল আত্মসাতের পরিকল্পনা করেছিল রিয়াজ। এজন্য দুবাই থেকে একটি ছিনতাইকারী গ্রুপের সঙ্গে সে যোগাযোগ করে। ১১ জন মিলে ছিনতাইয়ে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৮ জন নিজেকে ডিবি পুলিশ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ছিনতাইয়ে অংশ নেয়।

সূত্রমতে, গত ২০ নভেম্বর সকালে দুবাই থেকে দেশে ফিরেন রিয়াজ। সে দুবাইয়ে গোলাম কিবরিয়ার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারি। গোলাম কিবরিয়ার বাড়ি হাটহাজারী উপজেলার মন্দাকিনিতে রিয়াজের বাড়ির পাশে। গোলাম কিবরিয়া ৯ ভরি স্বর্ণালংকার, মোবাইল, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন মালামাল রিয়াজকে দিয়ে পাঠায়।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে রিয়াজের কাছ থেকে মালামালগুলো বুঝে নিতে যান গোলাম কিবরিয়ার ভাই সামুনুল হক। সকাল ৯টার দিকে বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে রিয়াজ ও সামুনুল নগরীর ফকিরহাট এলাকায় ক্যাফে ডি মমতাজ হোটেলে নাস্তা করার জন্য ঢোকে। হোটেলে বসে রিয়াজ স্বর্ণালংকারসহ মালামালগুলো সামুনুলকে বুঝিয়ে দেয়।

হোটেলে ঢোকার ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই সেখানে চারজন যুবক ঢোকে। এসময় তারা নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দেয়। সামুনুল এবং রিয়াজের কাছে অবৈধভাবে আনা স্বর্ণের বার আছে অভিযোগ করে তারা দুজনকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকারসহ মালামালগুলো কেড়ে নিয়ে তাদের সাগরিকা এলাকায় নামিয়ে দেয়া হয়।

এই ঘটনায় গোলাম কিবরিয়ার আরেক ভাই আবদুল্লাহ আল মামুন বাদি হয়ে বন্দর থানায় গত ২ ডিসেম্বর একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা তদন্তের দায়িত্বভার পড়ে পিবিআই টিমের উপর।

পিবিআই, চট্টগ্রামের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, মমতাজ হোটেলের সামনে সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ আমরা সংগ্রহ করি। এতে দেখা যায় মাইক্রোবাসে ৫ জন, প্রাইভেট কারে ১ জন এবং মোটর সাইকেলে করে ২ জন ঘটনার সময় সেখানে যায়। এদের মধ্যে মাইক্রোবাস থেকে নামা ৪ জন হোটেলের ভেতরে ঢোকে। বাকি সদস্যরা বাইরে অপেক্ষমাণ ছিল। এর বাইরে আরও দুজন অবস্থান করছিল ঘটনাস্থলের আশপাশে।
%e0%a6%86%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a7%87

%e0%a6%86%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a7%87
‘ভিডিও ফুটেজ দেখে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করি। সামুনুলের মোবাইলও তারা ছিনতাই করে নিয়ে গিয়েছিল। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান নির্ণয় করে শনিবার রাত থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত নগরীর পাহাড়তলী, আকবর শাহ ও হাটহাজারী এলাকায় অভিযান চালায় এবং ৫ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। শুরু থেকেই রিয়াজ আমাদের সন্দেহের তালিকায় ছিল। আটক হওয়া চারজনই ঘটনার পরিকল্পনাকারী হিসেবে রিয়াজের নাম বলেছে। ’ বলেন সন্তোষ কুমার চাকমা।

পরিদর্শক সন্তোষ জানান, রিয়াজের সঙ্গে ছিনতাইকারীদের চুক্তি হয়েছিল তারা মালামাল দুই ভাগে ভাগ করবে। এক ভাগ ছিনতাইকারীদের, বাকিগুলো রিয়াজের। ছিনতাইকারীদের ভাগে পাওয়া স্বর্ণালংকার, ল্যাপটপ বিক্রি করে তারা প্রত্যেকে ৩০ হাজার টাকা করে পায়।

ডিবি পুলিশ সেজে পাহাড়তলী-আকবর শাহ এলাকার এই চক্রটি আগেও একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়েছিল বলে তিনি ‍জানান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই, চট্টগ্রামের পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম ৫ জনকে রোববার আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড চেয়েছেন। আদালত সোমবার শুনানির সময় নির্ধারণ করেছেন বলে জানিয়েছেন পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা।