‘আত্মমগ্নতা ও আত্মকেন্দ্রীকতা সমাজ মঙ্গলের অন্তরায়’

প্রকাশ:| শনিবার, ৩০ এপ্রিল , ২০১৬ সময় ০৯:৪৬ অপরাহ্ণ

টুম্পা
প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের অকাল প্রয়াত মেধাবী শিক্ষার্থী ফৌজিয়া সুলতানা টুম্পা স্মারকগ্রন্থ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সমাজবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. অনুপম সেন বলেছেন, অর্থে-বিত্তে নয় মানুষের প্রতি সমমর্মিতা, সহানুভূতি ও সংবেদনশীলতায় মানুষ পরিশুদ্ধ হতে পারে। আত্মমগ্নতা ও আত্মকেন্দ্রীকতা আমাদেরকে একে অপরের কাছ বিচ্ছিন্ন করে চলছে। টুম্পার মধ্যে আত্মমগ্নতা ছিল না। সে ছিল পরার্থপর ও মানবিকতার বৃক্ষ ছায়া।
আজ বিকেলে ‘ডেল’ এ্যালামনাই সোসাইটি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ইংরেজী বিভাগের ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, টুম্পা ছিল শুধু প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় নয়, এই বাংলাদেশের অসীম সম্ভাবনাময়ী ছাত্রী। তার মেধা, প্রজ্ঞা, সংস্কৃতিবোধ, মানবপ্রেম আমাকে মুগ্ধ করেছিল। আমি জানতাম না সে মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর মেয়ে। যখন জেনেছিলাম তখন তার বাবা কারাগারে। এই মেয়েটি তার পিতার পরিচয়ে কখনো আমাদের কাছে অন্যায় আবদার করেনি। বরং তার অসচ্ছ্বল সহপাঠীদের জন্যই সে কিছু ছাড় দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল। আমি টুম্পাকে দেখে বারবার অনুভব করেছি কোন কোন মানুষের এমন কিছু গুণ থাকে যা আকাশ ছোঁয়া। সে শুধু মেধাবী ছাত্রীই নয় বির্তক, আবৃত্তি, অভিনয় ও উপস্থাপনায় অনন্য এক বহুমাত্রিক প্রতিভা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেছেন, প্রাণচঞ্চল ও খোলা মনের মেধাবী ছাত্রী টুম্পাকে বিস্তরভাবে চেনা ও জানার সুযোগ ছিল না। আমন্ত্রিত শিক্ষক হিসেবে কয়েকটি ক্লাশে তার ভেতরের পরিশুদ্ধ প্রভায় আমি মুদ্ধ হয়েছি। তার মধ্যে কোন নেতিবাচক আচরণ ছিল না। সে শিক্ষকদের সম্মান করতো। সে বিনত ছিলো ফলভারে আনত বৃক্ষের মত। তার মূল্য বোধকে যদি সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে পারি এবং তার খোলা মনের বিশুদ্ধ বাতাসকে যদি ফিরিয়ে আনতে পারি আমরা শুদ্ধ পরিবেশে ভালো নিঃশ্বাস নিতে পারবো। এভাবেই টুম্পার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব।
কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহীত-উল-আলম বলেন, আমারা পরজীবী সংস্কৃতিতে আগ্রহী হচ্ছি। এ কারণে নতুন প্রজন্ম শিকড়চ্যুত হচ্ছে। এই নেতিবাচক দিকটি আমাদের সমাজকে গ্রাস করছে। টুম্পা এই সত্যটি উপলব্ধি করেই জ্ঞান আহরনের পাশাপাশি শুদ্ধ সংস্কৃতি ও ধ্রুপদী সাহিত্য চর্চায় নিবেদিত হয়েছিল। তিনি আরো বলেন, টুম্পার নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতা ছিল অসাধারণ। সহমর্মিতা ও মানবিক গুণে সে ভাল কাজের জন্য এক সঙ্গে চলার মানসিকতায় সফলকে কাছে টানতো। সে বেঁচে থাকলে আমরা মাদার তেরেসার মত একজন মহিয়সীকে পেতে পারতাম।
ফৌজিয়া সুলতানা টুম্পার জননী হাসিনা মহিউদ্দিন বলেন, নিজের প্রয়াত মেয়ের সম্পর্কে কোন অনুষ্ঠানে মায়ের কিছু বলা বড়ই কঠিন কাজ। তবু বলতে হয় আমার মেয়েটি বড়ই অভিমানী ছিল, কিন্তু বেশি জেদীও ছিল। বাংলা মিডিয়ামে পড়েও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে ভর্তি হয়ে তার জেদ পূর্ণ করেছিল। ষষ্ঠ সেমিস্টারে পড়ার সময় আমি মা হিসেবে ইংরেজি সাহিত্যই শুধু নয়, আবৃত্তি-বিতর্ক-অভিনয়সহ সংস্কৃতির সকল শাখায় তার দক্ষতায় মুগ্ধ হয়েছি। তিনি আরো বলেন, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে আমি টুম্পার মুখ খুঁজে পাই। আবার দুঃখও পাই যখন ব্যবসা প্রশাসন ক্যাম্পাসে ঠুনকো কারণে একজন ছাত্র আরেকজনকে খুন করেছে। অথচ দু’জনই আমাদের সন্তান। তিনি আশা করেন এই বিশ্ববিদ্যালয় একদিন কীর্তির চূড়ায় পৌঁছুবে। এ জন্য শিক্ষকদের পাঠদানে মনোযোগী হওয়ার আহবান জানান।
ডপ্রমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড.সাদাত জামান খানের সভাপতিত্বে ও মিসেস কোহিনুর আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করেন টুম্পার সহপাঠী মোমিন রহমান।


আরোও সংবাদ