আটকে পড়া অভিবাসীদের সহায়তা দেবে ফিলিপাইন

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১৯ মে , ২০১৫ সময় ০৬:১২ অপরাহ্ণ

এই প্রথম কোনো দেশ সমুদ্রপথে পাড়ি জমানো অবৈধ অভিভাসীদের সাহায্য করার বিষয়টি জানালো। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যেসব নাগরিক নৌকায় ভাসছেন তাদের আশ্রয় দেবে ফিলিপাইন। সম্প্রতি গণমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়, ফিলিপাইন নৌকায় ভাসা অভিবাসীদেরও ফেরত পাঠাবে। এই প্রতিবেদনের তথ্য অস্বীকার করেছে ফিলিপাইন সরকার।

অভিবাসীদের অনেকেই এখন সমুদ্রে ভাসছেন। দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছেন তারা। এরই মধ্যে ইন্দোনেশিয়া ঘোষণা দেয়, তারা কোনো অভিবাসীকে আশ্রয় দেবে না। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট বেনিগনো অ্যাকুইনোর মুখপাত্র হারমিনিয়ো কলোমা মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানান, ম্যানিলা সরকার এসব অভিবাসীদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে। জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী, আমরা এসব অভিবাসীদের জীবন বাঁচাতে প্রয়োজনী সহায়তা দিয়ে যাবো। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) জো লাওরি জানিয়েছেন, ফিলিপাইনের এই বিবৃতি আমরা আশা ফিরে এলাম। কিছুটা হলেও অভিবাসীদের সংকট কাটবে। তিনি বলেন, গত ১০ দিন ধরে আমরা এসব অভিবাসীদের আশ্রয় দিতে বিভিন্ন দেশকে আহবান জানিয়ে আসছি।

সাগরে ডুবতে দেখলেও অভিবাসীদের তীরে না তুলতে জেলেদের নির্দেশনা দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া কর্তৃপক্ষ। একি সাথে ওই অঞ্চলে সাগরে ভাসতে থাকা অভিবাসীদের নৌকাগুলোর আরোহীদের কোন রকম সাহায্য না করতে জেলেদের বলে দেয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে কয়েক হাজার অভিবাসী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উপকূলে সাগরে ভাসছে। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, এবং ইন্দোনেশিয়া এই অভিবাসীদের বহনকারী নৌকাগুলো তীরে ভিড়তে দিচ্ছে না। জাতিসংঘ এর আগে খাবার ও পানির তীব্র সংকটে থাকা এসব অভিবাসীকে তীরে ভিড়তে দেবার আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু এখন জাতিসংঘ বলছে, কোন দেশই তা মানছে না।

জীবনের ঝুঁকিতে থাকা এসব অভিবাসীদের বিষয়ে দেশগুলোর এমন কঠোর অবস্থান কেন? মালয়েশিয়াভিত্তিক অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা কারাম এশিয়ার সমন্বয়ক হারুন আর রশিদ এ সম্পর্কে বলেন, দেশগুলো ভাবতে পারে যে তীরে ভিড়তে দিলে আরও লোকজন আসতে পারে তবে মানবিক কারণেই তাদের তীরে আসতে দেওয়া উচিত। তবে এর আগে মানবপাচারের উৎসদেশগুলোর একটি হিসেবে বাংলাদেশ সরকারেরও কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি মানবপাচার বন্ধে। তিনি বলেন, সংকট নিরসনে জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উদ্যোগ ঠিক কাজ করছেনা। এ অবস্থা চলতে থাকলেও তো ভবিষ্যতে মানবিক কোন বিপর্যয়ে তো সহায়তা করতে কেউই এগিয়ে আসবেনা। যারা এখন অবৈধ অভিবাসীদের তীরে ভিড়তে দিচ্ছেনা তাদের নাগরিকদের ক্ষেত্রে হলে কি হবে সেটিও তাদের ভেবে রাখা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। হারুণ বলেন মিয়ানমারকেও রোহিঙ্গাদের স্বীকৃতি দিতে হবে না হলে এরা যাবে কোথায়। আন্তর্জাতিক বিশ্বকেও এ বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করা উচিত। সূত্র : বিবিসি ও গার্ডিয়ান


আরোও সংবাদ