আটকের পর পায়ে গুলি

প্রকাশ:| রবিবার, ২৮ জুন , ২০১৫ সময় ১০:৪৯ অপরাহ্ণ

আটকের পর পায়ে গুলিনগরীর বায়েজিদ থানার সালাউদ্দিন সাজু নামে এক যুবককে আটকের পর পায়ে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। তবে পুলিশের দাবি, বন্ধুকযুদ্ধে নিজের সহযোগিদের ছোঁড়া গুলিতেই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন সাজু। পরিবার ও পুলিশের পরস্পর বিরোধী বক্তব্যে প্রশ্ন উঠেছে সত্যি ঘটনা বলছে টা কে?

বায়েজিদ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, ‘অক্সিজেন নয়াহাট এলাকার সৌদি আরব প্রবাসী জাকির হোসেনর কাছে জেল থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন শিবির ক্যাডার সরোয়ার। তার হয়ে এ চাঁদা আনতে যান গুলিবিদ্ধ সাজু। শনিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তারের পর তার দেয়া স্বীকারোক্তিতে অনন্যা আবাসিক এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারে অভিযানে গেলে সাজুর সহযোগি শিবির ক্যাডাররা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায়ে তার সহযোগিদের ছুঁড়া গুলিতে সাজু পায়ে গুলিব্ধি হয়।’

ওসি আরো বলেন, ‘পরে সেখান থেকে এসময় একটি দেশিয় এলজি, একটি বিদেশি স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র, দুই রাউন্ড গুলি, দুইটি চাপাতি ও একটি কিরিচ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ প্রহরায় তাকে ভর্তি করা হয়। এঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।’

তবে সালাউদ্দিন সাজুর পরিবারের দাবি ভিন্ন। সালা উদ্দিনের বড় ভাই ফোরকান উদ্দিন বাংলামেইলকে বলেন, ‘শনিবার সন্ধ্যায় ইফতার সামগ্রী কেনার জন্য আতুরার ডিপো এলাকা গেলে সাদা পোষাকের ৩ পুলিশ সদস্য সাজুকে আটক করে। এসময় আমার ছোট ভাই সরোয়ার মুন্না বড় ভাইকে আটকের কারন জিজ্ঞেস করলে পুলিশ তাকে লাঠি পেটা করা হয়। এরপর রাত দুইটায় ১৮/২০ জনের পুলিশের একটি দল সালাউদ্দিনকে নিয়ে আমাদের কামরাবাদের বাড়ীতে তন্ন তন্ন করে তল্লাশী চালায়। এসময় পুলিশ আমাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে অসদাচরন করেন। পরে সাজুর এক জোড়া কাপড় পুলিশ সাথে নিয়ে যায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘পুলিশ এসময় বলেন, তোমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সকালে থানায় দেখা করিও। তবে খবর পেয়ে রোববার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে আহত অবস্থায় সালাহ উদ্দিনকে জরুরী বিভাগের বারান্দায় পুলিশ প্রহরায় দেখতে পায়।’

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘রোববার ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে সাজুকে পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ভর্তি করা হয়। অপারেশনের পর তাকে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে পুলিশি প্রহরায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।’

সাজুর পরিবারের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বায়োজিদ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, ‘তাকে শনিবার সন্ধ্যায় আতুরার ডিপো থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এটা সত্যি কথা। পরে তার দেয়া সীকারোক্তিতে অস্ত্র উদ্ধার করতে গেলে তার বাহিনীর সাথে পুলিশের বন্ধুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহ সহযোগিদের ছোঁড়া গুলিতেই সে গুলিবিদ্ধ হয়। তাদের ফেলে যাওয়া অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়।’