আজ এই শহরে তো কাল ওই শহরে মামলা করেন

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২৩ আগস্ট , ২০১৮ সময় ০৯:০০ অপরাহ্ণ

সবুজ মিয়া ও আসমা বেগম। ভ্রাম্যমাণ এক দম্পতি। আজ এই শহরে তো কাল ওই শহরে। আজ এই জেলায় তো কাল ওই জেলায়। তাদের বছর কাটে জেলা ঘুরে। বছরজুড়ে জেলায় জেলায় ঘুরেন আর মামলা করেন!

মামলার কাহিনী কাকতালীয়ভাবে প্রতিবারই এক। প্রতিবারই স্ত্রী আসমা ধর্ষণের শিকার হন আর স্বামী বাদী হয়ে মামলা করেন।

হোটেল বয় থেকে শুরু করে হোটেল মালিক, বাড়ির দারোয়ান থেকে শুরু করে বাড়ির মালিক- প্রত্যেকেই আসমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে আর বাদী হয়ে মামলা করেন স্বামী সবুজ মিয়া। পাহাড় থেকে সমতলে সমানতালে মামলা করেছেন এই দম্পতি।

বৃহস্পতিবার (২৩ আগস্ট) তারা যান নগরের কোতোয়ালী থানায়। অভিযোগ করেন, হোটেল লালদিঘীর এক বয় আসমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে।

কিন্তু তাদের অভিযোগের সঙ্গে মুখের অভিব্যক্তির সাদৃশ্য না থাকায় সন্দেহ হয় পুলিশের। এরপর তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শেষে বেরিয়ে আসে সবুজ মিয়া ও আসমা বেগমের ভয়ঙ্কর প্রতারণার কথা।

প্রতারক দম্পতি পুলিশকে জানায়, এমন ভয়ঙ্কর প্রতারণা তারা করে আসছেন সেই ২০০৫ সাল থেকে। তারা প্রথমে কোনো মধ্যম মানের হোটেলে যান। সেখানে বাইরে বেরোনের কথা বলে চাবি ম্যানেজারের কাছে দিয়ে যান। এরপর এসেই অভিযোগ করে বসেন, রুমে নগদ টাকা রাখা ছিলো কিন্তু তা পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রাথমিকভাবে হোটেলেই মালিকের মধ্যস্থতায় মোট অংকের টাকার বিনিময়ে আপোষ করে ফেলেন। কিন্তু আপোষে না আসলে সেই হোটেলের মালিক কিংবা বয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ তোলেন। মামলা করেন থানায় গিয়ে। এরপর আদায় করেন মোটা অঙ্কের টাকা।

মাস ছয়েক আগে স্টেশন রোডের একটি হোটেলেও একই কায়দায় হাতিয়ে নিয়েছে ১২ হাজার টাকা।

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন জানান, হোটেল লালদিঘীর বয় মো শাহিনের সঙ্গে প্রতারণা করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিতে চেয়েছিলেন এ দম্পতি। এ জন্য তারা শাহিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে কোতোয়ালী থানায় আসে। কিন্তু অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের সন্দেহ হলে তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আর এতেই আসল ঘটনা বেরিয়ে আসে।

তিনি বলেন, প্রতারক এ দম্পতি চট্টগ্রামের বাইরেও একাধিক জেলায় এরকম প্রতারণা করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।