আজাদী চট্টগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ : চট্টগ্রাম সুহৃদ

mirza imtiaz প্রকাশ:| শনিবার, ৮ সেপ্টেম্বর , ২০১৮ সময় ০২:০৩ অপরাহ্ণ

আজাদীর ৫৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চট্টগ্রাম সুহৃদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর সময় চট্টগ্রাম সুহৃদের কার্যনির্বাহী পরিষদ এমন অভিমত ব্যক্ত করেন

আজাদীর ৫৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চট্টগ্রাম সুহৃদের ফুলেল শুভেচ্ছা জ্ঞাপন আয়োজনে অংশ গ্রহনের পর আজাদী অফিসের সামনে এক আলোচনা চট্টগ্রাম সুহৃদ’র অন্যতম সংগঠক লেখক-সাংবাদিক মির্জা ইমতিয়াজ শাওন এর সভাপতিত্বে ও লেখক-সংগঠক সৈকত শুভ্র অন্তুর পরিচালনায় আলেচনায় অংশ নেন লেখক-সংগঠক রহমান মিজান, সংগঠক শিল্পী শাদ ইরশাদ, লেখক-সংগঠক জাহেদ কায়সার, লেখক-সংগঠক আলী রশিদ, লেখক-শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলাম সবুজ ও সংগঠক মেছবাহ হোসেন প্রমুখ।

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংবাদপত্র দৈনিক আজাদী। কিন্তু তার জন্ম বাংলাদেশের জন্মের ১১ বছর ৩ মাস ১১ দিন আগে, আজকের এই দিনে অর্থাৎ ১৯৬০ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর। আজাদী চট্টগ্রামের মাটি ও মানুষের সংবাদপত্র। সুদীর্ঘ সময় ধরে অবহেলিত চট্টগ্রামের দুঃখ–হাহাকার–সংকট আর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরতে ধরতে এটি পরিণত হয়েছে এই অঞ্চলের মানুষের ভালোবাসার মুখপত্রে। চট্টগ্রামের জনমানুষের কথা বলার জন্য– সর্বোপরি বঞ্চিত ও অবহেলিত জনপদের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার লক্ষ্য নিয়ে ৫৮ বছর আগে যাত্রা শুরু করেছিল দৈনিক আজাদী। আজাদী আজ শুধু একটি সংবাদপত্রই নয়, এটি এখন চট্টগ্রামের আয়না হিসেবেও স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

আজ ৫ই সেপ্টেম্বর সেই প্রিয় আজাদী পদার্পণ করলো ৫৯ বছরে। এ উপলক্ষে দৈনিক আজাদীর পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা, হকার ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাই কৃতজ্ঞতা।

আজাদীর প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আবদুল খালেক হলেন বৃহত্তর চট্টগ্রামের প্রথম মুসলিম ইঞ্জিনিয়ার, যিনি নিজের উজ্জ্বল পেশা ছেড়ে লাইব্রেরি, প্রেস ও পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন পশ্চাদপদ মুসলিম সমাজকে শিক্ষার মাধ্যমে এগিয়ে নিতে। বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনে কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী রচিত একুশের প্রথম কবিতা ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ কবিতাটি তিনি ছেপেছিলেন অসীম সাহসিকতায়। বায়ান্নের ২২ ফেব্রুয়ারি রাতেই তাঁর প্রতিষ্ঠিত কোহিনুর ইলেকট্রিক প্রেসে শুরু হয়ে যায় কবিতাটি প্রকাশের কার্যক্রম। গভীর রাতে কম্পোজ ও প্রুফের কাজ যখন সমাপ্ত প্রায়, তখন সরকারের গোয়েন্দা বাহিনী হঠাৎ হামলা শুরু করে প্রেসে। কিন্তু প্রেস কর্মচারীরা অতীব দ্রুততায় সম্পূর্ণ কম্পোজ ম্যাটার এমনভাবে লুকিয়ে ফেলে যে, তন্ন তন্ন করে খোঁজাখুঁজির পরও পুলিশ তার খোঁজ পায়নি। ফলে ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’–র প্রকাশনার কাজ শেষ করা যায়। পরদিন তেইশে ফেব্রুয়ারি তারিখে লালদীঘি প্রতিবাদ সভায় কবিতাটি পাঠের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। পাক–সরকার কবিতাটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রেফতার করতে এলে প্রেস ম্যানেজার দবির আহমদ চৌধুরী নিজ কাঁধে ছাপার দায়িত্ব তুলে নেন। তাই গ্রেফতার করা হয় প্রেস ম্যানেজার দবিরকে। অবশ্য পরে তাঁর জামিন দেয়া হয়েছিল। ভাষা ও দেশ মাতৃকার সেবায় নিবেদিত ব্যক্তিত্ব আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ার পরবর্তী সময়ে আজাদী প্রকাশে ব্রত হন। আজ থেকে ৫৯ বছর আগে ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৬০ সালে সেই স্বপ্নের আজাদী আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এর আগে অবশ্য তিনি কোহিনুর নামে এক সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন। আজাদী প্রকাশের দুই বছরের মাথায় ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৬২ সালে তিনি ইন্তেকাল করেন। এই সময় অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে আমৃত্যু কাজ করে যান। ষাটের দশকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে যত আন্দোলন সংগ্রাম– সবকিছুর সঙ্গে দৈনিক আজাদী ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। আমাদের পরম আনন্দের বিষয়, আজাদী স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম দৈনিক। কেননা ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় লাভের পর ১৭ ডিসেম্বর প্রথম প্রকাশিত হয় দৈনিক আজাদী।