আজহারের যুদ্ধাপরাধ

প্রকাশ:| সোমবার, ৮ জুলাই , ২০১৩ সময় ০৯:২১ অপরাহ্ণ

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে একাত্তরের এটিএম আজহারেমানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।’আজহারের যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ মিলেছে’
এ টি এম আজহারুল ইসলাম। ফাইল ছবি

সোমবার রাজধানীর ধানমণ্ডি ২৭ নম্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় তদন্ত সংস্থা।

তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়কারী মো. আব্দুল হান্নান খান সংবাদ সম্মেলনে জানান, তদন্তে এ টি এম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে নয় ধরনের অপরাধের ছয়টি অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, রংপুরে কারমাইকেল কলেজে থাকাকালে আজহার জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ছাত্র সংঘের রংপুর শাখার সভাপতি ও আলবদর বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন। তিনি রংপুর ক্যান্টনমেন্টে সব সময় যাতায়াত করতেন এবং পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেছিলেন।

আব্দুল হান্নান জানান, একাত্তরের মার্চ মাস থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এটিএম আজহারের নেতৃত্বে এবং তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তায় ১ হাজার ২২৫ জনকে গণহত্যা, ৪ জনকে হত্যা, একজনকে ধর্ষণ, ১৭ জনকে অপহরণ, ১৩ জনকে আটক ও নির্যাতন এবং শত শত বাড়িঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

হান্নান জানান, একাত্তরে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, লুণ্ঠন, গুরুতর জখমসহ সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটির দায়ে এটিএম আজহারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মূল তদন্ত প্রতিবেদনটি ৩০০ পৃষ্ঠার। এই প্রতিবেদন তৈরিতে ৬০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তদন্ত সংস্থা। আর সাক্ষী করা হয়েছে ২৭ জনকে।

প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখায় বিকেলেই জমা দেয়া হবে বলে জানান তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়কারী হান্নান।

গত ৩০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এক আদেশে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আগামী ১৫ জুলাই জামায়াতে ইসলামী নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের নির্দেশ দেন। গত বছরের ২২ আগস্ট রাজধানীর মগবাজারের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন।