আজকের কুতুবদিয়া

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর , ২০১৩ সময় ০৭:৪২ অপরাহ্ণ

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন,কক্সবাজার প্রতিনিধি,নিউজচিটাগাং২৪.কম।।
ক৩১
কুতুবদিয়ায় জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় ২ মামলায় আসামী সাড়ে ৪’শ

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলায় জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় হত্যা ও সন্ত্রাস দমন আইনে পৃথক দু’টি মামলা হয়েছে। ২ মামলার এজাহারে ৩৮ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো সাড়ে ৪’শ জনকে আসামী করা হয়েছে। বুধবার রাত ১০টার দিকে কুতুবদিয়া থানা পুলিশের এসআই আবুল কালাম ও এস আই শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে পুলিশের উপর হামলা ও সন্ত্রাস দমন আ্ইনে থানায় পৃথক এ মামলা করেছেন। মামলায় কুতুবদিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আনোয়ার হোছাইন, সেক্রেটারী ও দ্বীপের উত্তর ধুরং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আসম শাহরিয়ার চৌধুরী, ধুরং এলাকার জামায়াত নেতা ডা: সাঈদুল মনির, নুরুল আমিন,ডা: হান্নান, নিজাম উদ্দিন, হেলাল উদ্দিন, মৌলভী ছলিম উল্লাহসহ আরো ৩০ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ করে মামলা ২টিতেই আসামী করা হয়েছে।
মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে কুতুবদিয়া থানার ওসি জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ দ্বীপের বিভিন্ন গ্রামে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মামলা দায়েরের পর থেকেই কুতুবদিয়ার জামায়াত-শিবিরের শীর্ষ নেতারা গ্রেফতার এড়াতে আতœগোপনে চলে গেছে। প্রসঙ্গত: গত মঙ্গলবার কুতুবদিয়া ধুরং বাজারে পুলিশের সাথে জামায়াত-শিবিরের সংঘর্ষে ৩ দিনমজুর নিহত হয়। এছাড়াও পুলিশের ওসিসহ জামায়াত-শিবিরের আরো ২০ নেতাকর্মী আহত হয়। বুধবার রাত ৯টার দিকে নিহত তিন দিনমজুর আজিজুল হক (২২), মো: ইসমাঈল (২৩), ও আবু বক্কর ছিদ্দিক (৪০) এর লাশ ময়না তদন্ত শেষে তাদের স্ব-স্ব এলাকার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।


কুতুবদিয়ায় ১৮ দলের হরতাল নিরুত্তাপ হরতাল

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় ১৮দলের নিরুত্তাপ হরতাল পালিত হয়েছে। কুতুবদিয়া ও চকরিয়ায় সংঘর্ষে কয়েকজন দলীয় কর্মী নিহতের জের ধরে জেলার ১৮ দল বুধবার সকাল সন্ধ্যা হরতাল ডাক দেয়। এদিকে হরতালে কুতুবদিয়ায় কোন ধরণের প্রভাব পড়েনি। সকাল থেকেই কুতুবদিয়ার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। শিক্ষা প্রতিষ্টান, সরকারী অফিস, আদালত, ব্যাংক ও বীমার কার্যাক্রম স্বাভাবিক ছিল। মঙ্গলবার কুতুবদিয়ায় পুলিশ-জামায়াত সংঘর্ষে ৩ দিনমজুর নিহত হয়েছিল। এরই জের ধরে হরতালে কুতুবদিয়ায় নাশকতার আশংকা ছিল। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক নজরদারীর কারণে কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই হরতাল শেষ হয়েছে।

কুতুবদিয়ার ধুরং বাজারে ব্যসায়ীদের মাঝে আতংক কাটেনি: দোকান পাঠ বন্ধ

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার ধুরং বাজারে ব্যবসায়ীদের মাঝে আতংক কাটেনি। ধুরং বাজারে পুলিশ-জামায়াত সংঘর্ষের ঘটনায় ৩দিন অতিবাহিত হলেও এখানকার ব্যবসায়ীরা তাদের দোকন পাঠ বন্ধ রেখেছে। অজানা আতংকে ভূগছে ধুরং বাজারের ব্যবসায়ীসহ পুরো দ্বীপের লোকজন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুতুবদিয়ার সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত ধুরং বাজারে পুলিশ-জামায়াত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে ৩ দিনমজুর নিহত ও পুলিশসহ আরো ২০ জন আহত হয়েছে। এরপর থেকেই ধুরং বাজারে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। অবশ্য এ নিয়ে বাজারের অনেক ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

কুতুবদিয়ার ধুরং বাজারের ব্যবসায়ী আলমগীর ক্ষোভের সূরে জানালেন, বার বার ধুরং বাজারে জামায়াত-শিবিরের ব্যানারে কিছু লোক অপ্রীতিকর ঘটনা সংগঠিত করে। এর মাশুল দিতে আমাদের ব্যবসায়ীদের। ক্ষতি হয় ব্যবসায়ীদের। ওই ব্যবসায়ী আরো জানালেন, গত ৩ দিন ধরে ধুরং বাজারের ব্যবসায়ীরা বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের ২০ ফেব্র“য়ারী ধুরং বাজারে জামায়াত-শিবির যুদ্ধাপরাধী দেলোয়ার হোছাইন সাঈদীর মুক্তির দাবীতে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যেতে ‘সাঈদী মঞ্চ’ তৈরী করে ব্যাপক ভাংচুর ও চালিয়েছিল। এ ঘটনায় ও বাজারের ব্যবসায়ীরা কয়েক দিন দোকান পাঠ বন্ধ রেখেছিল।

অভিযোগ রয়েছে,কুতুবদিয়ার সাংসদ ও কেন্দ্রীয় জামায়াত নেতা এইচএম হামিদুর রহমান আযাদের গ্রামের বাড়ী ধুরং বাজারের সন্নিকটে হওয়ায় প্রায় সময় এখানে জামায়াত-শিবির আধিপত্য বিস্তারে চেষ্টা চালায়। ইতিপূর্বেও বেশ কয়েক বার ধুরং বাজারে পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছিল সাংসদের অনুসারী জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা।

কুতুবদিয়ার ধুরং বাজারের ব্যসায়ীদের দোকান পাঠ খুলে ব্যবসায়ীক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে বুধবার সকাল ১১ টার দিকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো: রুহুল আমিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জাফর আলম, কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমদ, কুতুবদিয়ার ইউএনও ফিরোজ আহমদসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করলেও স্বাভাবিক হয়নি। পরিদর্শণকালে জেলা প্রশাসক ধুরং বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় করেন। এসময় ব্যবসায়ীদের নির্ভয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন তিনি। কিন্তু চিত্র উল্টো। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাজারের হাতেগুনা কয়েকটি চায়ের দোকানছাড়া অন্য সব দোকান পাঠ বন্ধ রয়েছে। বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে জেলা প্রশাসকের অনুরোধ বাস্তবায়ন হয়নি।

ধুরং বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও দক্ষিণ ধুরং ইউপি চেয়ারম্যান আলা উদ্দিন আল আযাদ জানিয়েছেন, আতংকে হয়তো ব্যবসায়ীরা দোকান-পাঠ বন্ধ রেখেছে। ব্যবসায়ীদের দোকান-পাঠ খুলে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তবে তিনি কয়েক দিনের মধ্যে বাজারে অবস্থা স্বাভাবিক বলে জানিয়েছেন।


আরোও সংবাদ