আগ্রহের কেন্দ্রে বাংলাদেশ

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ সময় ১১:১৯ অপরাহ্ণ

রথি-মহারথিদের ভিড়। বিশ্বের সব ক্রিকেট তারকারা গিজ গিজ করছে এখন অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে। অথচ সেইসব তারকার ভীড়ে কি না মাশরাফিদের কদর খানিকটা আলাদা! অন্যদের চেয়ে সাকিব-তামিম-মাশরাফিদের অটোগ্রাফ নিতে ব্যাস্ত অসিরা। রীতিমত অবাক করা ব্যাপার!

আসল সত্য হলো, আফগানিস্তানকে ১০৫ রানে বিধ্বস্ত করার পরই বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিয়ে আগ্রহ বেড়ে গেছে অস্ট্রেলিয়ানদের। মানুকা ওভালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় শেষে ব্রিসবেনের ফ্লাইট ধরতে নিরাপত্তা তল্লাশীর পর ক্যানবেরা বিমানবন্দরে মাশরাফি, সাকিবদের পড়তে হয়েছিল মধুর বিড়ম্বনায়।

বিমানবন্দরে কেউবা ক্রিকেটারদের অটোগ্রাফ নিয়েছেন, কেউবা তাদের সঙ্গে তুলতে চাইছেন ছবি। আবার কেউবা তুলেছেন সেলফি । তবে কাউকে নিরাশ করেননি সাকিব, তামীম, মাশরাফি, মুশফিকরা। আর অস্ট্রেলিয়ানরা মাশরাফিদের দেখলেই বলছেন, ‘ওয়েল ডান বয়েজ!’ বোঝাই যাচ্ছে, এক ম্যাচ দিয়েই অসিদের মন জয় করে নিয়েছেন বাংলাদেশের ১১ দামাল ছেলে।

এক অস্ট্রেলিয়ান তো কয়েক ধাপ এগিয়ে এলেন। বিমানবন্দর থেকে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উপর প্রকাশিত একটি ম্যাগাজিন কিনে, সেখানে বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের এক একজনের প্রোফাইলের উপর নিয়েছেন অটোগ্রাফ!
পকেটের টাকা খরচ করে বাংলাদেশের ম্যাচ দেখতে এসেছিলেন বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের (বিওএ) সহ-সভাপতি বশির আল মামুন। তিনি পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের ঘিরে এতোটা কৌতূহল দেখে বিস্মিত।

অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে ক্রিকেটারদের এই কদর দেখে সৌম্য সরকারকে দেখিয়ে বললেন- ‘সৌম্য’র জন্য আমাকেও কিন্তু কিছুটা কষ্ট করতে হয়েছে। রবিউলের পর ও কিন্তু সাতক্ষীরা থেকেই ক্রিকেটার হিসেবে বেড়ে উঠেছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ও যেভাবে খেলেছে, তাতে ওকে নিয়ে গর্ব করছি।’

কোয়ান্টাসের ১২টা ১৫ মিনিটের ফ্লাইটে বাংলাদেশ দল, সেখানে ভার্জিন অস্ট্রেলিয়ার ১২টা ৩৫ মিনিটের ফ্লাইটে আমরা ক’ সাংবাদিক ব্রিসবেন যাত্রী। গন্তব্য এক জায়গায় হওয়ায় ক্রিকেটারদের প্রতি এই কৌতূহল পড়েছে চোখে।

কোয়ান্টাসের ১২টা ১৫ মিনিটের ফ্লাইটে বাংলাদেশ দল। বাংলাদেশ থেকে বিশ্বকাপ কাভার করতে যাওয়া সাংবাদিকরাও একই বিমানবন্দরে, ব্রিসবেনের উদ্দেশ্যে বিমানে ওঠার অপেক্ষায়। তারা নিজ চোখেই দেখলেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিয়ে অসিদের সে কি আগ্রহ!

তবে যাদেরকে ঘিরে এতোটা আগ্রহ, কৌতুহল-সেই বাংলাদেশ দল কিন্তু বিজনেস ক্লাসে ভ্রমন সুবিধা পায়নি। পেয়েছে ইকোনমি ক্লাসে। মাশরাফিকে বসতে হয়েছে ফ্লাইটের পেছনের সিটে !

উন্নত দেশ, ক্রিকেটে নাম্বার ওয়ানদের দেশে প্রেস বক্সে যেখানে ওয়াইফাই ইন্টারনেট সুবিধা অপ্রতুল, মাঠের বাইরে যতোই সহযোগীতার মনোভাব দেখাক না কেন, অজিরা বড়ই পেশাদার এবং যান্ত্রিক।

তবে ক্যানবেরা আর ব্রিসবেনের আবহাওয়ায় কোন মিল নেই। ক্যানবেরায় সব সময়ই শীতবস্ত্র সাথে রাখতে হয়। যে কোন সময় শৈত্যপ্রবাহ কাঁপিয়ে দিতে পারে। কিন্তু, ৭৫ মিনিটের ফ্লাইট শেষে ব্রিসবেনে পা রাখার পরই পার্থক্যটা অনুভব করতে হলো। ঠিক যেন বাংলাদেশের গ্রীষ্মকালের ভ্যাপসা গরম।

হয়তো সে কারণেই, এমন ঝড়ো হাওয়া আর বৃষ্টি। টানা কয়েকদিন বৃষ্টির কারণে ব্রিসবেনের গ্যাবায় আগামীকাল (শনিবার) বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টায় খেলাটা মাঠে গড়াবে কি না তা নিয়ে এখনও রয়েছে ঘোর সংশয়। আবহাওয়াবীদরা এখনও ঠিক করে বলতে পারছেন না, ম্যাচটা বৃষ্টি ভাসিয়ে দিয়ে যাবে না কি, বল মাঠে গড়াতে দেবে।

বৃষ্টিতে খেলা পণ্ড হলে আপাতত বাংলাদেশেরই লাভ। ভাগাভাগি করে পকেটে পুরতে পারবে একটি পয়েন্ট। আর খেলা হলে, ক্যাঙ্গারুদের সাথে বাঘের মতই লড়াই করতে প্রস্তুত মাশরাফি অ্যান্ড কোং।