আগাম কুলে সফলতা

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর , ২০১৫ সময় ১১:১৮ অপরাহ্ণ

আগাম কুল চাষে সুদিন ফিরেছে যশোরের শার্শা উপজেলার কাঠুরিয়ার কয়েকটি পরিবারের। মৌসুমের আগেই বাজারে বাউকুলসদৃশ নতুন জাতের এ কুল সরবরাহ করে তারা ভালো দাম পেয়েছেন। ছায়ন স্টক ও ব্যাগিং পদ্ধতিতে নতুন জাতের এ কুল চাষ করে সংসারে সচ্ছলতা এনেছেন কাঠুরিয়ার জাহানারার বেগম, শরিফুল ইসলাম ও খোরসেদ আলম। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) উদ্ভাবন করা বাউকুলের এ আগামজাত চাষ করে মাত্র চার মাসে লাখ টাকার ফলন পেয়েছেন তারা। তাদের চাষ করা আগাম জাতের কুল সরবরাহ করা হচ্ছে রাজধানী ঢাকা ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামে। প্রতি কেজি বিক্রি করছেন ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। তাদের সফলতায় এলাকায় অনেক চাষি আগাম জাতের কুল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
কুল
পোকামাকড় রক্ষায় উপরে কারেন্ট জাল দিয়ে ঘেরা ১০ বিঘা জমিতে নতুন জাতের এ কুল চাষ করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কাঠুরিয়ার জাহানারা বেগম। তিনি জানান, ১ বিঘা জমিতে কুল চাষ করতে তার খরচ হয়েছে দেড় লাখ টাকা। প্রতি বিঘা জমির কুল বিক্রি করতে পারবেন ৫ লাখ টাকার উপরে।  তিনি আরও বলেন, সাধারণত আমাদের দেশে কুল ওঠে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে। আগাম নতুন জাতের এ কুল সেপ্টম্বর মাস থেকেই বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতি কেজিতে দাম পাচ্ছেন ৮০ থেকে ৯০ টাকা। একই কথা বলেন, চাষি খোরসেদ আলম ও শরিফুল ইসলাম।  নতুন জাতের এ কুলের ভালো দাম পেয়ে তারা বেজায় খুশি। তাদের চাষ করা আগাম জাতের কুল সরবরাহ করা হচ্ছে রাজধানী ঢাকা ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামে।

সফল কুল চাষি কাঠুরিয়ার জাহানারা বেগম বলেন, ছেলেকে নিয়ে কুলের চাষ করেছেন। সময়ের আগেই বাজারে কুল সরবরাহ করে ভালো দাম পাচ্ছেন। শাহজাহান আলী বলেন, ধান-পাট চাষ করে প্রতি বছর লোকসানের মুখে পড়তে হয়। এ বছর আগাম জাতের কুল চাষ করে লাভবান হয়েছেন। এজন্য আগামীতে আরও বেশি করে কুল চাষ করবেন বলে জানান তিনি। খোরসেদ আলম বলেন, সময়ের আগেই বাজারে এ কুল ওঠায়  ভালো দাম পাচ্ছেন। তিনি ৮০ টাকা কেজি দরে এ কুল কিনে নিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিক্রি করছেন ১২০ টাকা কেজিতে। লাভ পাচ্ছেন ভালো। কাঠুরিয়া গ্রামের শ্রমিক মনজেল হোসেন বলেন, তিনিসহ ৮ থেকে ১০ শ্রমিক কুল বাগানে কাজ করেন। এ থেকে যে উপার্জন হয়, তা থেকে ভালোভাবেই তাদের সংসার চলছে। শার্শা উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পলাশ কিশোর ঘোষ জানান, সাধারণত আমাদের দেশে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহ বাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির মৌসুমি কুলের। আপেল, নারিকেল, বাউ সুন্দরী, টমাসহ বিভিন্ন ধরনের কুল প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৭০ টাকায় পাওয়া যায়। বাউকুল মেলে প্রতি কেজি ১০ থেকে ২০     টাকায়। তবে সেপ্টেম্বর থেকে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে আগাম জাতের কুল বিক্রি করছেন চাষি জাহানারা বেগম, খোরসেদ আলম ও শরিফুল ইসলাম। এতে তারা বেশ লাভবান হচ্ছেন। নতুন উদ্ভাবিত এ কুলের ফলন পাওয়া যায় বিঘাপ্রতি ১৩০ থেকে ১৫০ মণ। তিনি আরও জানান, আগাম জাতের কুল চাষ লাভজনক হওয়ায় এ কুল চাষে কৃষকের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে।