মার্চের মধ্যে ফ্ল্যাট ও প্লট রেজিস্ট্রেশনের সহজীকরণ

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি , ২০১৮ সময় ০৫:০৩ অপরাহ্ণ

টেবিলে বসেই যেকোন সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেছেন, ‘আগামী মার্চের মধ্যে ফ্ল্যাট ও প্লট রেজিস্ট্রেশনের সহজীকরণের ক্ষেত্রে রিহ্যাবের দাবি পূরণ করা হবে।’

বৃহস্পতিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগরীর পাঁচতারকা হোটেল রেডিসন ব্লু’র মেজবান হলে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) আয়োজনে রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ার-২০১৮ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে স্বাগত বক্তব্যে সিডিএ চেয়ারম্যানের কাছে ফ্ল্যাট ও প্লট রেজিস্ট্রশনে গ্রাহকদের হয়রানিরোধে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালুসহ বেশ কয়েকটি দাবি-দাওয়ার কথা জানান রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী।

আবদুচ ছালাম বলেন, আবাসন খাতের সমস্যা সমাধান সিডিএ কাজ করে যাচ্ছে। এরপরেও রিহ্যাবের পক্ষ থেকে যে সমস্যার কথা জানানো হয়েছে, তা সমাধান করা হবে। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানের জন্য একটি সাব কমিটি গঠন করা হোক। ওই কমিটির মাধ্যমে যেকোন প্রস্তাবনা সিডিএ কর্তৃপক্ষকে জানাবে। সিডিএ তা সমাধান করে দিবে। সময় তেমন নেই, আমি থাকাকালীন আপনারা আসুন। আগামী মার্চের মধ্যে ফ্ল্যাট ও প্লট রেজিস্ট্রেশনের সুবিধার্থে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু, সহজে নকশা অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হবে।

গত নয় বছর ধরে চট্টগ্রামে উন্নয়ন কাজ চলছে জানিয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান আরও বলেন, আবাসন শিল্প ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। সিডিএ’কে বাদ দিয়ে আবাসনখাতে ব্যবসা করা অসম্ভব। এক্ষেত্রে অবশ্যই আবাসন ব্যবসায়ীকে আইনের আওতায় থাকতে হবে। কেউ যাতে প্রতারিত না হয়। আবাসন খাতকে সমৃদ্ধ করতে সিডিএ সব ধরনের সুযোগ সুবিধা করে যাবে।

স্বাগত বক্তব্যে রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নির্মাণখাতের অবদান প্রায় ১৫ শতাংশ। সরকারের রাজস্ব আয়, কর্মসংস্থান, রড, সিমেন্ট, টাইলসসহ ২৬৯ প্রকার লিকেজ শিল্প প্রসারের মাধ্যমে সমগ্র নির্মাণ খাত জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। আবাসনে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের কাছে হাউজিং লোন নামে ২০ হাজার কোটি

টাকার তহবিল গঠন করতে হবে। ফ্ল্যাট কেনার সময় যাতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির নাগরিকেরা এ তহবিল থেকে ৫ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে পারে। বাংলাদেশের আবাসন শিল্প শুধু আবাসনই সরবরাহ করছে না, একই সাথে ৩৫ লাখ শ্রমিকের উপর নির্ভরশীল ২ কোটি লোকের অন্নের যোগান দিয়েছে। আবাসনখাত নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি করছে। ফ্ল্যাট ও প্লট রেজিস্ট্রেশনে হয়রানিরোধে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু, নকশা অনুমোদনে হয়রানি বন্ধ ও রেজিস্ট্রেশন ফি কমানোরও দাবি জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট মো. আলমগীর শামসুল আল আমিন কাজল বলেন, দেশের অর্থনীতিতে আবাসনখাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আবাসন খাত রড, সিমেন্টসহ আবাসন সংশ্লিষ্ট লিকেজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লাখো নাগরিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। ১/১১ এর পর দেশে ব্যাংক লোন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আবাসনখাতে কিছুটা ধস নামে। এরপর থেকে আজোবধি আবাসনখাতকে সমৃদ্ধ করতে রিহ্যাব সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় আবাসন খাত আরও এগিয়ে যাবে। কক্সবাজারের ট্যুরিজমকে আরও সমৃদ্ধ করতে রিহ্যাব একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। পরবর্তী ৩ মাসের মধ্যে তা বাস্তবায়ন হওয়ার কথাও জানান তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রিহ্যাবের কো-চেয়ারম্যান শাকিল কামাল চৌধুরী, রিহ্যাবের চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির কো-চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক, কো-চেয়ারম্যান (২) ইঞ্জিনিয়ার মো. দিদারুল হক চৌধুরী।

‘স্বপ্নীল আবাসন সবুজ দেশ, লাল সবুজের বাংলাদেশ’ শিরোনামে রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ার-২০১৮’তে এবার ৫৯টি প্রতিষ্ঠানের ৮৩টি স্টল অংশ নিয়েছে।

রিহ্যাব চট্টগ্রাম রিজিয়নের প্রেস অ্যান্ড মিডিয়ার আহ্বায়ক এএসএম আবদুল গাফফার মিয়াজী জানান,

রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ারে এবার কো-স্পন্সর হিসেবে রয়েছে ২১টি প্রতিষ্ঠান, ২১টি সাধারণ স্টল, ১০টি ম্যাটেরিয়ালস এবং ৭টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। রিহ্যাব ইতিমধ্যে চট্টগ্রামে ১০টি ফেয়ার সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। ২০০৪ সাল থেকে রিহ্যাব যুক্তরাজ্যে ১২টি, দুবাই, ইতালির রোম,কানাডা, সিডনি ও কাতারে হাউজিং ফেয়ার করেছে।
বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এ ফেয়ার চলবে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ফেয়ার উপলক্ষে ৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টায় রেডিসন ব্লু’তে শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। চার দিনব্যাপী এ ফেয়ার প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে পারবেন।


আরোও সংবাদ