আগামী অর্থবছরেই কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ কাজ শুরু হবে-যোগাযোগমন্ত্রী

প্রকাশ:| শনিবার, ১২ এপ্রিল , ২০১৪ সময় ১০:৪৯ অপরাহ্ণ

যোগাযোগমন্ত্রীশনিবার বিকেলে নগরীর পোলোগ্রাউন্ড মাঠে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত ২২তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পুরুস্কার ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন আগামী অর্থবছরেই কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন । তিনি বলেন, ইতিমধ্যে টানেল নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হয়েছে। ১১’শ একর জমি অধিগ্রহণ করার পরিকল্পনাসহ প্রক্রিয়া শুরুর কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। টানেল বাস্তবায়ন হলে দুটো বাণিজ্যিক নগরীর যোগাযোগ স্থাপন হবে। একটি পুরাতন নগরী অন্যটি কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড়ে নতুন বাণিজ্যিক নগরী গড়ে উঠবে। টানেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে চট্টগ্রাম সমৃদ্ধ নগরীতে পরিণত হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহসড়কের চার লেনের কাজ শেষ হবে। ইতিমধ্যে ৬২ কিলোমিটার কাজ শেষ হয়েছে।

চারলেনের কাজ বাস্তবায়ন দুরূহ ছিলো উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, সড়কের পাশে মসজিদ, মন্দির ও কবরস্থান ছিলো। এসব সরাতে গিয়ে বিভিন্ন বাধার সম্মুখিন হতে হয়েছে। দু’বছর ধরে এসবের পিছনে কাজ করতে হয়েছে। এখন আর সে সমস্যা নেই।

মন্ত্রী বলেন, চীনাহাইড্রো কোম্পানিকে ৭টি প্যাকেজের কাজ দেওয়া হয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠানকে ৭টি প্যাকেজ কিভাবে দিয়েছে আমি জানি না। চীনা রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে ডেকে এনে কাজ জোরদার করার জন্য বলা হয়েছে। তারা কাজের গতি বাড়িয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো কাজ শেষ না হলেও বেশিরভাগ কাজ শেষ হবে।

জুনে পদ্মাসেতুর কার্যাদেশ

যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, পদ্মা সেতুর ১৬‘শ কোটি টাকার কাজ চলছে। আগামী জুন মাসের মধ্যে নদী শাসনের কাজ শেষ করা হবে। জুন মাসে কার্যাদেশ দেওয়া হবে। ২০১৭ সালের মধ্যে পদ্মাসেতুর কাজ শেষ হবে।

বিলবোর্ডে ঢেকে গেছে নগরী

চট্টগ্রামের বিলবোর্ডের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামে আমরা ছুটে আসতাম স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলার জন্য। কিন্তু এখন আর সেই নগরী নেই। বিলবোর্ডে ঢেকে গেছে সবুজ। বিলবোর্ডের জন্য নির্মল আকাশ দেখতে পাই না, সবুজ পাহাড় দেখতে পাই না, কর্ণফুলীর ঢেউ শুনতে পাইনা, বৃষ্টির রিনিঝিনি শব্দ শুনতে পাই না, পাখির গান শুনতে পাই না। বিলবোর্ড উচ্ছেদে চট্টগ্রামের এমপি,মন্ত্রী ও সিটি মেয়রের প্রতি আহবান জানান।

চট্টগ্রামে নামবে দেড়শ ট্যাক্সি ক্যাব

যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, জাপান থেকে ১৫’শ সিসি অকটেন চালিত ট্যাক্সি ক্যাব আনা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৪৬টি চলে এসেছে। চট্টগ্রামের জন্যও দেড়শ ট্যাক্সি ক্যাব আমদানি করা হবে। প্রাইভেট এবং সেনাবাহিনীর মাধ্যমে এসব ট্যাক্সি ক্যাব আমদানি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ট্যাক্সি ক্যাব নিয়ে একটি পক্ষ সমালোচনা শুরু করেছে। ভালো গাড়িতে চড়লে একটু বেশি টাকাতো গুনতে হবে। এটা এক ধরণের ষড়যন্ত্র। অনেকে আমার কাছে ডিজেল চালিত গাড়ি আমদানি করার তদবির করেছিলেন কিন্তু আমি সেটা করিনি। তাই তারা এ সমালোচনা করছে। এরপরও যদি জনগণ তা গ্রহণ না করে তাহলে আমরা পুনর্বিবেচনার কথা বলেছি।

জনগণ ওয়াদা চায় না কাজ চায়

যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিবিদরা সৌজন্যবোধ হারিয়ে ফেলেছে। অন্ধ, স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছে। রাজনীতিবিদদের উপর আস্থা তলানিতে চলে গেলে এদেশ চালাবে কে?

মন্ত্রী বলেন, এসব ভাষণ দিয়ে কি হবে? যে ভাষণ কর্তৃত্ব বহন করে না, সে ভাষণ দিয়ে কি হবে। ভাষণ না দিয়ে কাজ করতে হবে। মন্ত্রীর কাছে মানুষ কাজ চায়, ওয়াদা চায় না। এখন মানুষ আর অত বোকা নেই।

যারা রাস্তায় শিক্ষার্থীদের দাঁড় করিয়ে সংবর্ধনা নেন তাদের দেশপ্রেম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মন্ত্রী।

এছাড়া মন্ত্রী জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন হলে বিসিআইএম করিডোরে চট্টগ্রামকে যুক্ত করার পাশাপাশি কলকাতা-সিলেট প্রস্তাবিত রোডও বাস্তবায়ন হতে পারে জানিয়ে সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর, চট্টগ্রাম শহরে মেট্রো রেল চালু এবং বাঁশখালী হয়ে কক্সবাজারের সংযোগ সড়ক প্রশস্ত করতে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এম এ লতিফ এমপি, চেম্বার সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. নুরুন নেওয়াজ, সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন চেম্বার পরিচালক দিদারুল আলম এমপি, ওয়াসিকা আয়শা খান এমপি।

মেলায় অংশগ্রহণকারী স্টল এবং প্যাভিলিয়নকে তিন ক্যাটাগরিতে পুরুস্কৃত করা হয়। বিদেশী প্যাভিলয়নের মধ্য সেরা হয় থাই প্যাভিলিয়ন। এছাড়া দেশীয় অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে যেসব প্রতিষ্ঠান পুরুস্কৃত হয়- রাজশাহী সিল্ক বেঙ্গল টেক্সটাইল, এন মোহাম্মদ প্লাস্টিক, নাভানা ফার্নিচার লিমিটেড, পারটেক্স ফার্নিচার লিমিটেড, কিষোয়ান স্ন্যাকস লিমিটেড, হাটিল কমপ্লেক্স লিমিটেড, ইলেক্ট্রো মার্ট, আবুল খায়ের মিল্ক প্রোডাক্ট লিমিটেড, দিল্লী অ্যালুমেনিয়াম, পেডরোলা লিমিটেড, আলী অ্যান্ড ব্রাদার্স ও কে কে ডিস্ট্রিবিউশন।