আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসনির্ভর একটি দলে পরিণত হয়েছে -আমীর খসরু

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি , ২০১৪ সময় ০৯:৩৫ অপরাহ্ণ

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসনির্ভর একটি দলে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ‘৫ জানুয়ারির প্রহসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়েছে। এটা ছিল ইলেকশনের নামে সিলেকশন। এ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম দেখেছে আওয়ামী লীগ প্রকৃতপক্ষে একটি ফ্যাসিস্ট দল। তারা গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। এ সংসদে যারা প্রতিনিধিত্ব করছে তারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নয়। তাই এ সংসদও অবৈধ।’

গণতন্ত্র হত্যা, ফ্যাসিবাদী কায়দায় নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং নির্ভীক কলমযোদ্ধা প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমানের মুক্তির দাবি’তে অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এ্যাব) এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে, বিএনপির নির্বাচন বর্জন আদৌ সঠিক ছিল কি না? প্রকৃতপক্ষে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচন না গিয়ে সঠিক সিন্ধান্ত নিয়েছিলেন। কেন না শেখ হাসিনা, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ছাড়াও আরো বৃহৎ একটি শক্তি ৫ জানুয়ারি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে নিয়ে বিএনপিকে নামমাত্র কিছু আসন দিয়ে নীল নকশার মাধ্যমে পরাজিত করার পরিকল্পনা করেছিল।’

উপজেলা নির্বাচনের কারচুপির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রথম দফায় আওয়ামী লীগের ঘাটিসহ বিভিন্ন জায়গায় পরাজয়ে দিশেহারা হয়ে গতকাল অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফা উপজেলা নির্বাচনে তারা প্রশাসন ও দলীয় ক্যাডার বাহিনী দিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্র দখল করে ভোট ডাকাতি করেছে। প্রকৃত ভোট হলে জামায়াত এবং আওয়ামী লীগের মাঝে বেশি ব্যবধান থাকতো না।’

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের সাংবাদিকতার জগতে দৈনিক আমারদেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান একজন সুশিক্ষিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব। তার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতালব্ধ সাহসী লেখনীর কারণে তিনি শুধু রাজনৈতিকভাবেই নয় ব্যক্তিগতভাবেও অনেকের কাছে ঈর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় তার অবদান ইতিহাসে সাক্ষি হয়ে থাকবে।’

প্রকৌশলী কেএম সুফিয়ানের সভাপতিত্বে ও ইঞ্জিনিয়ার সেলিম মোহাম্মদ জানে আলমের পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আবু সুফিয়ান, সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ ছাড়াও বক্তব্য দেন বিশিষ্ট সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি, মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ, কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মনি, এমএ আজিজ, এসএম সাইফুল আলম, জেলী চৌধুরী, প্রকৌশলী ওয়াসিউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার সুমা, ইঞ্জিনিয়ার বিজু বড়ুয়া, ইঞ্জনিয়ার জাহিদ, ইঞ্জিনিয়ার আদনান, লায়ন ডা. একেএম ফজলুল হক সিদ্দিকিসহ প্রমুখ।