‘আওয়ামী লীগের শাখা অফিস ডিএমপি’

প্রকাশ:| রবিবার, ৯ নভেম্বর , ২০১৪ সময় ১১:২১ অপরাহ্ণ

অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকতে রক্ষীবাহিনীর আত্মা দিয়ে বর্তমান সরকার র‌্যাব-পুলিশকে গড়ে তুলেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ। তিনি বলেছেন, অবৈধ সরকার বিএনপির বিশাল জনসমাবেশের কথা শুনলেই আতঙ্কিত হয়ে উঠছে। তাই প্রশাসন দিয়ে জনগণের কণ্ঠকে দমাতে মরণঘাতী কর্মসূচি নিয়েছে। এদের শেখ মুজিব সরকারের রক্ষীবাহিনীর আত্মা দিয়ে পুলিশ ও র‌্যাবকে গড়ে তোলা হয়েছে। বিকালে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। রিজভী আহমেদ বলেন, সরকার গণতন্ত্রের বদলে পুলিশতন্ত্রকে তাদের সরকারি নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে। তাই সংবিধান স্বীকৃত বিরোধী দলের সব অধিকার অর্থাৎ সভা, সমাবেশ, মিছিল দেখলেই তাদের বন্দুকের নল তাক করে চাঁদমারি করে। তারা নিরপেক্ষ ভাবমূর্তির কোন তোয়াক্কা করে না। বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, পুলিশ বাহিনী অবৈধ সরকারের মনতুষ্টিতে বিবেকবর্জিত অপকর্ম করতেই ব্যস্ত। বিএনপি আয়োজিত সমাবেশ করতে না দেয়া এবং এর প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিএনপি’র কর্মসূচির ওপর পুলিশের নারকীয় আক্রমণ দেশের মৃতপ্রায় গণতন্ত্রের ওপর আরেকটি নির্মম আঘাত। সরকারের প্রত্যক্ষ মদদের কারণে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের আদলে পুলিশের বেপরোয়া অনৈতিক কর্মকাণ্ডে দেশের জননিরাপত্তা এখন চরম হুমকির মুখে। ড. মিজানের বিরুদ্ধে পুলিশের বিষোদগারের সমালোচনা করে রিজভী আহমেদ বলেন, পুলিশ সম্পর্কে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমানের বক্তব্য জঙ্গিবাদকে উৎসাহিত করতে পারে বলে মন্তব্য করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। এছাড়াও ড. মিজানের বক্তব্যকে অত্যন্ত তীর্যকভাবে কটাক্ষ করেছে ডিএমপি। সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত একজন সম্মানিত ব্যক্তিকে ডিএমপি এহেন শিষ্টাচার বহির্ভূত মন্তব্য করতে পারে কিনা এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি। রিজভী আহমেদ বলেন, রাষ্ট্রের একটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংগঠন হিসেবে তাদের যে নিরপেক্ষ দায়িত্ব সেটি ভুলে গিয়ে এদেশের নাগরিকদের ক্রীতদাসে পরিণত করতে চাচ্ছে। এদেরকে এত বেশি ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, তারা ধরাকে সরাজ্ঞান করছে। তাদের আচরণেই মনে হয় ডিএমপি শাসক দলের একটি শাখা অফিস। তিনি বলেন, সভা, সমাবেশ, মিছিল করতে না দেয়া ক্ষমতাসীনদের বিরোধী দলের প্রতি অন্ধ হিংস্রতা ও বিকৃত রুচির পশুপ্রবৃত্তি। জনগণ সহ্য ক্ষমতার প্রান্তসীমানায় এসে পৌঁছেছেন। এই হিংস্র রাজনীতির বেড়াজাল ভেঙে আনতে হবে আমাদের পরিবর্তন। এজন্য জনগণের দুর্বার গণআন্দোলনই লক্ষ্য অর্জনের একমাত্র পথ।