আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের পেছনে ছাত্রলীগ

প্রকাশ:| শনিবার, ৩ জানুয়ারি , ২০১৫ সময় ১১:৫১ অপরাহ্ণ

ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শাহরিয়ার কবির

আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের পেছনে ছাত্রলীগএকাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সভাপতি লেখক-সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা শাহরিয়ার কবির বলেছেন, যে জাতি তার বীর সন্তানদের সম্মান করে না, তারা দুর্ভাগা, যে সংগঠন তার পূর্বসূরীদের অবদানকে অস্বীকার করে তারাও দুর্ভাগা।
সুস্থ রাজনীতিতে আগ্রহী ছাত্র সমাজকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তৃণমূল কর্মীবৃন্দের নবধারার আন্দোলনকে গ্রহণ করার আহবান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ছাত্র রাজনীতির দুর্বৃত্তায়নের বাইরে এসে সুস্থ ও মূল ধারার আওয়ামী ছাত্র রাজনীতির যে চর্চা ছাত্রলীগের তৃণমূল কর্মীরা শুরু করেছেন সারা বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
বিগত দু’টি জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অভূতপূর্ণ সাফল্য ও ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের পেছনে রয়েছে অসংখ্য ছাত্রলীগ কর্মীর অবদান। তাদের অবদানকে স্মরণ করতে, সম্মান জানাতে প্রত্যেক ছাত্রলীগ কর্মীকে সুস্থ ধারার রাজনীতি চর্চার মাধ্যমে প্রকৃত ছাত্রলীগ কর্মীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে।
স্বাধীনতা বিরোধীরা কখনো ক্ষমতায় আসতে পারবেনা উল্লেখ করে শাহরিয়ার কবির আরো বলেন, জামাত-শিবিরকে প্রতিহত করার কাজে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তৃণমূল কর্মীদের কার্যক্রমকে মডেল হিসেবে গ্রহণ করা যায়।
ছাত্রলীগের তৃণমূল কর্মীদের মেধাভিত্তিক ছাত্র রাজনীতির চর্চার আহবান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, অস্ত্রবাজ, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ কোন মেধাবী শিক্ষার্থীর নামের আগে যাতে না বসে সে বিষয়ে তির্যক দৃষ্টি রাখতে হবে।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৬৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গতকাল ৩ জানুয়ারি নগরীর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তৃণমূল কর্মীবৃন্দ’ আয়োজিত ‘ছাত্ররাজনীতির সংকট, সম্ভাবনা: করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গৌরবের ৬৭ বছরের আয়োজনটি ব্যাপক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তৃণমূল কর্মীবৃন্দ। কর্মসূচির মধ্যে ছিলো ১৯৮৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর জামাত-শিবিরের হাতে নির্মমভাবে নিহত শহীদ মোহাম্মদ ইউছুফের নামে শহীদ ইউছুফ স্মৃতি পাঠচক্রের উদ্বোধন, ৩জন মহিয়সী মাকে, ১০জন স্বাধীনতা সংগ্রামীর যোগ্য উত্তরসূরীকে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্রলীগের দুই তৃণমূল কর্মী ও বিবর্তনকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান।
ছাত্র রাজনীতির দুর্বৃত্তায়িত ধারার নির্মম হামলায় নিহত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তাপস সরকারকে উৎসর্গকৃত আয়োজনে শহীদ ইউছুফ স্মৃতি পাঠচক্রের উদ্বোধন করেন শহীদ ইউছুফের মা শামসুন নাহার এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন সোহেল। তৃণমূল ছাত্রলীগকর্মী মাউসুফ উদ্দিন মাসুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালি। আলোচনায় অংশ নেন-চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর বেণু কুমার দে, সাবেক ছাত্র নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রফিকুল হোসেন বাচ্চু, নগর আওয়ামী লীগ নেতা জামশেদুল আলম চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নগর যুগ্ম-আহবায়ক কে.বি.এম শাহজাহান, লালখান বাজার আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুম, সাবেক ছাত্রনেতা গোলাম মু. জোবায়ের প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক শওকত বাঙালি বলেন, অনেকেই ভাবছেন, বলছেন ছাত্রলীগের তৃণমূল কর্মীরা ভিন্ন কোন ছাত্র সংগঠন। কিন্তু এটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের ধারক-বাহক এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারীদের একটি সংগঠন। যে সংগঠনটি সংবিধানের প্রতি অনুগত থেকে ছাত্রলীগের ভেতর সুস্থ ধারার রাজনীতি চর্চা করতে চায়। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দুঃসময়ে তথা আজকের ছাত্র রাজনীতির ধান্ধাবাজির বিরুদ্ধে, নোংরামির বিরুদ্ধে একই আদর্শের কর্মীর সাথে কর্মীর দ্বন্দ্বের বিরুদ্ধে সর্বোপরি ড্রয়িং রুম ভিত্তিক রাজনীতির বিরুদ্ধে, তথাকথিত নেতাদের লেজুড়বৃত্তির বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক ও মুক্তচিন্তার অসাধারণ কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করতে চায়। ৬৭ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক সংগঠনটিকে পুণজাগরণের জায়গায় নিয়ে যেতে চায়।
তিনি বলেন, আজকের গণজমায়েতে আমি প্রচন্ড আশাবাদী। একদিন আজকের এই তরুণ ছাত্ররাই বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় নেতৃত্ব দেবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন তৃণমূল ছাত্রলীগ কর্মী আকর দে পিনাক। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সদ্য সাবেক তৃণমূল ছাত্রলীগ কর্মী প্রকৃতি চৌধুরী ছোটন।
অনুষ্ঠানে অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য দেন-মহিয়সী মা মুক্তিযোদ্ধা রমা চৌধুরী, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হাছিনা জাকারিয়া বেলা এবং নারীনেত্রী নূর জাহান খানের পক্ষে তাঁর মেয়ে সাংবাদিক সুমি খান, স্বাধীনতা সংগ্রামী জননেতা এমএ আজিজের সন্তান মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সদস্য সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, ভূপতি ভূষণ চৌধুরী (মানিক চৌধুরী)’র সন্তান আওয়ামী লীগ নেতা দীপংকর চৌধুরী কাজল, ভাষাসৈনিক আবদুল্লাহ আল হারুন চৌধুরী’র সন্তান আওয়ামী লীগ নেত্রী শামীমা হারুন লুবনা, শহীদ মুরিদুল আলমের সন্তান দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সদস্য মাহাবুবুর রহমান শিবলী, বিএম ফয়েজুর রহমানের সন্তান মানবাধিকার কর্মী, আওয়ামী লীগ নেত্রী জেসিকা ইরফান, কাজী ইনামুল হক দানু’র সন্তান মহানগর যুবলীগ সদস্য স্থপতি কাজী রাজিশ ইমরান প্রমুখ। পর্যবেক্ষক অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও আওয়ামী লীগ নেত্রী বৃজেট ডায়েস, যুব মহিলা লীগ মহানগর আহবায়ক সায়েরা বানু রুশ্নি।
অতিথিবৃন্দের হাত থেকে সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডভোকেট সীমান্ত তালুকদার, নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক জিয়া উদ্দিন জিয়া, গিয়াস উদ্দিন হিরু, আব্দুল হাই, রাশেদ খান মেনন, সুকান্ত চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার হাসমত আলী প্রমুখ।
স্ব স্ব ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তৃণমূল ছাত্রলীগকর্মী তরুণ মুক্তিযুদ্ধ গবেষক, মুক্তিযুদ্ধ ই আর্কাইভের স্রষ্টা সাব্বির হোসাইন, বঙ্গবন্ধু মেধাবৃত্তির সংগঠক সাজ্জাত হোসেন ও পথ কলি শিশুদের শিক্ষা ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার জন্য বিবর্তনকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
পুরো আয়োজন সঞ্চালন করেন ছাত্রলীগের তৃণমূল কর্মী শাহাজাদা জিহাদ, নিখিলেষ সরকার রাজ, নূর-ই-নোমান, পল্টন দাশ।


আরোও সংবাদ