পেট্রোল বোমাবাজিতে আলীগ নেতাকর্মীরাই জড়িত

প্রকাশ:| বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ সময় ০৮:১৬ অপরাহ্ণ

পেট্রলবোমায় আক্রান্ত মানুষের আর্তনাদকে পুঁজি করে আন্তর্জাতিক মহলের সহানুভূতি অর্জনের আওয়ামী ভণ্ডামি জনগণের সামনে অনেক আগেই উন্মোচিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ।
সালাহউদ্দিন আহমেদ
তিনি অভিযোগ করে বলেন, জনগণের বৈধ গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে সন্ত্রাসী ও জঙ্গি কার্যক্রম বলে চালিয়ে দেওয়ার প্রচারযুদ্ধ শুরু করেছে অবৈধ সরকার।

কতিপয় দলকানা গণমাধ্যমে দিবানিশি অপপ্রচারের মাধ্যমে গোয়েবলসীয় কায়দায় বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতৃত্বে চলমান শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনকে কলুষিত করার হীন চক্রান্ত কখনো সফল হবে না।

আজ বুধবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ অভিযোগ ও দাবি করেন।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বিবৃতিতে বলেন, আমরা অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে তথ্য-উপাত্ত সহকারে জাতির সামনে বার বারই উপস্থাপন করেছি। এ সব জঘন্য পেট্রোল-বোমাবাজির সঙ্গে সরকারি দলের নেতাকর্মীরাই জড়িত।‌ গণতন্ত্র মুক্তির ন্যায্য আন্দোলনকে দমন-পীড়নের সব অপচেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে এখন কেবল নিয়ন্ত্রিত ও দলকানা কতিপয় মিডিয়ার বদৌলতে অনির্বাচিত ও অবৈধ সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে চায়।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারির (২০১৪) প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে লুণ্ঠনকৃত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা চিরস্থায়ীকরণের প্রাণান্তকর আওয়ামী কসরত জাতীয় জীবনে চরম রাজনৈতিক সংকট উৎপত্তির মূল কারণ। গায়ের জোরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি ঘটানোর ফলেই সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, বাকশালের অনুকরণে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের উগ্র বাসনাই জাতিকে চরম সংকটে নিপতিত করেছে।

সরকারের সমালোচনা করে বিবৃতিতে বলা হয়, বিরোধী দলের কার্যালয় তালাবদ্ধ করে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে, বিদ্যুৎ, টেলিফোন, ফ্যাক্স, ইন্টারনেট, ক্যাবল লাইন কেটে দিয়ে এবং সর্বশেষ খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষকে গণতন্ত্রের ছবক শেখাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী ও তার নেতামন্ত্রীদের মিথ্যার বেশাতি এ দেশের জনগণ এবং সারাবিশ্ব জানে।

বিবৃতিতে সালাহ উদ্দিন উল্লেখ করেন, গতকাল (মঙ্গলবার) প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মতো। তিনি ঠিকই বলেছেন।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ’৭১-এ শাসক শ্রেণির বিরুদ্ধে জনগণের মুক্তি সংগ্রাম জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল। আর বর্তমানে গণতন্ত্র হত্যাকারী আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী গণতান্ত্রিক সমাজ পুনঃপ্রতিষ্ঠার দুর্বার আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনায় সমৃদ্ধ প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণে জাতীয় ঐক্যমতের বিকল্প নেই। সেই জাতীয় স্পৃহা পূরণে সমগ্র জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ।

বিজয় দ্বারপ্রান্তে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, জনগণের ভোটের অধিকার আদায়ের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পুনর্প্রতিষ্ঠা, সাংবিধানিক মৌলিক ও মানবাধিকার আদায়ের সংগ্রামে আন্দোলনরত জনগণ বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে উপনীত প্রায়।

বিভিন্নস্থানে জামায়াত নেতাকর্মীর নিহত হওয়ার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সালাহ উদ্দিন বলেন, আমরা এহেন ঘৃন্য নরহত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ক্ষমতার পট পরিবর্তন হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী আদালতে এ সব নরহত্যার বিচার করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, আপনার পিতা রক্ষীবাহিনী সৃষ্টি করে ৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছে; অসংখ্য বিরোধী মতের রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে বিনাবিচারে হত্যা করে হত্যার রাজনীতি প্রচলন করেছিলেন। আওয়ামী লীগ বিলুপ্ত করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করে স্বঘোষিত সম্রাট বনে গিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি।

আপনিও চলমান গণআন্দোলনকে দমন করার জন্য আপনার পেটোয়া পুলিশ-র‌্যাব ও বিজিবিকে দলীয় বাহিনীতে পরিণত করে নরহত্যার নির্দেশ প্রদান করে গণতন্ত্রের শবযাত্রার আয়োজন সম্পন্ন করেছেন। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিন। পিতার নির্মম পরিণতির কারণ বিশ্লেষণ করুন। গণহত্যা বন্ধ করুন।

আবার নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করে বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে দ্রুত পদত্যাগ করুন। তবেই জনগণ আপনার নিরাপদ অবতরণের বিষয়টি সহানুভূতির সাথে বিবেচনা করবে।