আউয়ালের নিথর মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ:| শনিবার, ১৫ এপ্রিল , ২০১৭ সময় ০৮:১৭ অপরাহ্ণ

আবদুল আউয়ালের (৩৫) নিথর মরদেহটি যখন ডুবুরি উদ্ধার করে আনলেন তখন শঙ্খের দুপাড়ে হাজার হাজার মানুষ। সবার চোখ ছলছল।

আগের দিন শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) সপরিবারে পিকনিকে গিয়ে নৌকা থেকে পড়ে যান আউয়াল। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে নগরীর আগ্রাবাদ থেকে ছুটে যান লিডার সাইফুল ইসলাম। শনিবার (১৫ এপ্রিল) বেলা দুইটায় ৮০ ফুট পানির নিচ থেকে মরদেহটি তুলে আনেন অভিজ্ঞ এ ডুবুরি।

লিডার সাইফুল বলেন, ২৫৩ নম্বর ঘাটফরহাদবেগ বাই লেনের বাসিন্দা মো. ইকবালের ছেলে আউয়াল সপরিবারে পিকনিক করতে গিয়েছিলেন। একপর্যায়ে নৌকায় চেপে ঘুরে বেড়ান তারা। তিনি ছিলেন পেছনের দিকে। স্বজনরা বলেছেন, মৃগী রোগ থাকায় তিনি নৌকা থেকে ছিটকে পড়েন। আমরা মরদেহ উদ্ধার করে আড়াইটায় নিহতের মামাত ভাই এরশাদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেছি।

টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান বলেন, সমিতির উপদেষ্টা মো. ইকবালের ছেলে আবদুল আউয়াল স্ত্রী, শাশুড়ি, দুই কন্যাসহ আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে শঙ্খ পাড়ে পিকনিকে গিয়েছিলেন। একপর্যায়ে বিকেলে তারা বোট নিয়ে নদীতে ভ্রমণ করেন। এ সময় বোটের পেছনের দিকে থাকা আউয়াল শঙ্খে পড়ে যান। সোমবার বেলা দুইটার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন ডুবুরিরা। রাত নয়টায় ঘাটফরহাদবেগ আতরজান জামে মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

পরিবর্তন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান নওশাদ চৌধুরীর মিটু দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, পরিবারের সবাইকে নিয়ে উদযাপনের উদ্দেশ্যে সপরিবারে দোহাজারি ভাইরা ভাইয়ের বিশেষ আবদারে সফর সঙ্গী হন আবদুল আউয়াল। তার দুই মেয়ে। একজনের বয়স ৫ বছর। আরেকজনের বয়স আট মাস। তিনি নদীর কূল থেকে বাচ্চাদের হাত থেকে টিউবওয়েলের পানি কিনে এনে সবাইকে পান করিয়েছেন। পানিতে পড়ার ২০ মিনিট আগেও আট মাসের বাচ্চাটি তার কোলে ছিল। বাচ্চাটিকে মায়ের কোলে দিয়ে নৌকার মাঝির পাশে গিয়ে বসার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি পানিতে পড়ে যান। কিন্তু কেউই তা লক্ষ করেনি। শুধু মাঝি দেখলেন দুটি হাত পানির মধ্যে ডুবে যাচ্ছে।

শহরের অধিকাংশ ছেলেমেয়েই সা‍ঁতার জানে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অভিভাবকদের উচিত নিজেদের আপনজনদের আত্মরক্ষার্থে অবশ্যই সা‍ঁতার শেখানো।