আইসিটিতে গুরুত্ব দাবি

প্রকাশ:| শনিবার, ১৮ জুন , ২০১৬ সময় ০৯:৪৭ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের পোশাক খাতকে যেভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল সেভাবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতকে (আইসিটি) কেন দেওয়া হচ্ছে না- সে প্রশ্ন উঠেছে প্রস্তাবিত বাজেট এবং খাতটির ‘বাস্তবতা তুলে ধরতে’ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায়।
শনিবার রাজধানীতে সফটওয়্যার ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ সংগঠন বেসিস আয়োজিত এই সভায় সংগঠনটির পক্ষে কিছু প্রস্তাব তুলে ধরার পর তার ওপর মতামত দেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
গুরুত্ব দাবি আইসিটিতে
কারওয়ান বাজারে বেসিস মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় সংগঠনটির সভাপতি শামীম আহসান বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট ও আইসিটি খাতের বাস্তবতা তুলে ধরতে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।

আইসিটি খাতের ব্যবসায়ীদের ২০২১ সাল পর্যন্ত সব ধরনের কর মওকুফের দাবি জানিয়ে বেসিস সভাপতির উপদেষ্টা আবদুল্লাহ এইচ কাফি বলেন, “ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। এই খাতের যারা ব্যবসা করেন তাদের ২০২১ সাল পর্যন্ত সব ধরনের ট্যাক্স মওকুফ করার আবেদন জানাচ্ছি।”

সভায় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং- বাক্য এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াহিদ শরীফ প্রশ্ন রেখে বলেন, “২০ বছর আগে গার্মেন্টস সেক্টরকে যেভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এখন আইসিটি সেক্টরকে কেন সেটি দেওয়া হচ্ছে না?”

আইসিটি খাতকে এগিয়ে নিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এতে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা করা সহজ হবে। বিদেশিদের দেশে আনতে চাইলে তারা রাজনৈতিক পরিস্থিতি না বরং দেশের পলিসি নিয়ে চিন্তা করে থাকে।”

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো- ইপিবি দেশের পণ্য রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, জুলাই-মে মাসের রপ্তানি আয়ের মধ্যে ৮১ দশমিক ৮০ শতাংশই তৈরি পোশাক খাত থেকে এসেছে।

ওই তথ্য অনুযায়ী, রপ্তানি আয়ের ১ শতাংশেরও কম এসেছে আইসিটি খাত থেকে।

অবশ্য সরকারের নীতি নির্ধারকরা আশা করছেন, ‘অচিরেই’ পোশাক খাতকে ছাড়িয়ে যাবে আইসিটি খাত।

সভায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞানের অধ্যাপক মো. রোকনুজ্জামান বলেন, “আইসিটি খাতের বিকাশে পাবলিক প্রকিউমেন্ট ব্যবহার করে দেশের ইন্ডাস্ট্রিকে প্রমোট করার কথা বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।”
ইন্টারনেট খরচ কমানোর দাবি জানিয়ে সিটিও ফোরাম সভাপতি তপন কান্তি সরকার বলেন, “ইন্টারনেট কস্ট কমানোর কথা বারবার বললেও তা হচ্ছে না। অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত না হলে কাজ করতে সমস্যা হয়।”

প্রিয়শপের প্রতিষ্ঠাতা আশিকুল আলম খান ‘নিরাপত্তহীনতার’ প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “ই-কমার্স সেক্টরে লোকাল কোম্পানিগুলোর নিরাপত্তা নেই। দেশি উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তা দরকার।

“এখানে ট্রান্সপারেন্ট পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি। কাজের পরিবেশ দেন, কাজ করব।”

বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক আশরাফুল ইসলাম আইসিটি খাতের সমস্যাগুলো সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানে কাজ করে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, “এই খাতের উন্নয়নে সরকারের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। সরকারের কাছে সমস্যাগুলো সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।”

সভায় বেসিসের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি শামীম যেসব প্রস্তাব তুলে ধরেন তার মধ্যে রয়েছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পক্ষে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ট্যাক্স সার্কেল থেকে আয়কর প্রত্যয়নপত্র ইস্যু, সফটওয়্যার ও আইটিইএস এর আয়কর কাটা, স্থানীয় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানিকে আয়কর অব্যহতি প্রদান।

ই-কমার্স এর উপর থেকে আয়কর ও ভ্যাট প্রত্যাহার, সফটওয়্যার ও আইটিইএস কোম্পানিগুলোর বাড়িভাড়ার ওপর প্রযোজ্য মূসক মওকুফ এবং পাঁচ বছরের পুরনো ভ্যাট তামাদি ঘোষণা করার প্রস্তাবও তুলে ধরেন বেসিস সভাপতি।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ১০% আইসিটি খাতের উন্নয়নে বরাদ্দ, আইটিইএস (আইটি এনেবলড সার্ভিস) এর সংজ্ঞায় আইটি কনসালটেন্সিকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং ঢাকা কাস্টমস হাউজকে সফটওয়্যার আমদানির উপর প্রযোজ্য শুল্ক আদায়ের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

সভায় অন্যদের মধ্যে ছিলেন আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হারুনুর রশীদ, বিডিজবস ডটকমের সিইও ফাহিম মাশরুর ও দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী পরিচালক তারিন হোসেন মঞ্জু।

অনুষ্ঠানের সহ-আয়োজক ছিল দৈনিক ইত্তেফাক।