আইন-শৃংখলা বাহিনী গ্রেফতার,হয়রানীর হুমকি দিচ্ছে-চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলন

প্রকাশ:| সোমবার, ২০ এপ্রিল , ২০১৫ সময় ১০:১১ অপরাহ্ণ

আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী সংস্থার মাধ্যমে গ্রেফতার-হয়রানী-আতংক তৈরীর মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রমে বাধা দান ও নির্বাচন প্রভাবিত করার অভিযোগ করেছে মেয়র প্রার্থী মনজুর আলমের পক্ষে চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলন। এ বিষয়ে দ্রুত রিটার্নিং অফিসারের কাছে নির্দেশনা প্রদানের আহ্বান জানানো হয়।
নির্বাচন কমিশনের চট্টগ্রামের রির্টানিং অফিসারের কাছে করা অভিযোগে উল্লেখ করা যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলন মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ মনজুর আলমের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা, প্রচার ও ভোটারদের সচেতনামূলক কার্যক্রমে নেতৃত্বদানকারী থানা-ওয়ার্ড় পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের পুলিশসহ আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ন অন্যায়ভাবে, বিনা অভিযোগে গ্রেফতার , হয়রানী, হুমকি-ধামকি প্রদান করছে।
পুলিশের এহেন কার্যক্রম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বিধিমালা-২০১০ এর বিধি ৮ এর ( অর্থ, অস্ত্র ও পেশী শক্তি কিংবা স্থানীয় ক্ষমতা দ্বারা নির্বাচন প্রভাবিত করা যাইবে না ) সুস্পস্ট লংঘন ।
অথচ পুলিশসহ আইন-শৃংখলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা নগরীর প্রতিটি থানার এলাকায় মনজুর আলমের পক্ষে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের সক্রিয় নেতা-কর্মীদের একটি তালিকা তৈরী করে তাদের গ্রেফতার-হয়রানী, হুমকী-ধামকির মাধ্যমে এলাকায় ভোটারদের মধ্যে ভীতি ও আতংক তৈরীর জন্য বাসা-বাড়ীতে রাত-বিরাতে অভিযান পরিচালনা করছে।
সরকারী দলের প্রার্থীর সমর্থক বহু কর্মী বিভিন্ন মামলার আসামী যারা এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মাধ্যমে মেয়র প্রার্থী মনজুর আলমের নির্বাচনে কাজে বাধা দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিস্ট অভিযোগ দায়ের সত্বেও কোন ব্যবস্থাই গ্রহন করা হচ্ছে না। অন্যদিকে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিনা কারনে গ্রেফতার হয়রানী করা হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
রির্টানিং অফিসারের কাছে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয় ডবলমুরিং থানা বিএনপি’র সভাপতি এস এম সাইফুল আলম , বন্দর থানা বিএনপি’র সভাপতি এম এ আজিজ, পাঠানটুলি ওয়ার্ড় কাউন্সিলর নিয়াজ মোহাম্মদ খানসহ নগরীর অনেক নেতা-কর্মী পুলিশী হয়রানীর মুখে বাসা-বাড়ীতে অবস্থান এবং এলাকায় নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন না।
গতরাতে কোন মামলা না থাকা সত্বেও জনাব সাইফুল আলম ও পাঠানটুলি ওয়ার্ড়ের কাউন্সিলর নিয়াজ মোহাম্মদ খানকে এলাকায় খোঁজাখুজি করা হয়। তাদের না পেয়ে পুলিশ এলাকার লোকজনকে “ নির্বাচনের কাজে জড়িত থাকলে জনাব সাইফুল আলম ও জনাব নিয়াজ মোহাম্মদ খানকে তুলে নিয়ে যাবো, তারা নির্বাচনের কাজ থেকে বিরত না থাকলে খবর আছে” বলে হুমকী প্রদান করে। গত রোববার ১৯ এপ্রিল ডবলমুরিং থানা বিএনপি’র সভাপতি এস এম সাইফুল আলমের কদমতলীস্থ বাসায় রাত আনুমানিক ১টায় পুলিশ তল্লাশী চালায়।
নির্বাচনী তফশিল ঘোষনার পর সংশ্লিস্ট এলাকার পুলিশসহ সরকারী বিভিন্ন সংস্থা নির্বাচন কমিশনের আওতায় ও নির্দেশনায় তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এমতাবস্থায় নির্বাচনের সুষ্ঠু , শান্তিপূর্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং প্রভাবমুক্ত পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়-দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে পুলিশ মেয়র প্রার্থী মনজুর আলমের পক্ষের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার-হয়রানীর মাধ্যমে সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে তাদের তৎপরতা প্রদর্শন করছেন।
এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারের পক্ষ থেকে দ্রুত নির্দেশনা প্রদানের জন্য অনুরোধ জানানো হয়।