আইনজীবী সমিতির রুদ্ধশ্বাস নির্বাচন রোববার

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারি , ২০১৮ সময় ০৮:৪১ অপরাহ্ণ

রুদ্ধশ্বাস প্রচারণার পর রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) প্রায় চার হাজার আইনজীবীর ভোটে নির্বাচিত হবেন সমিতির আগামী এক বছরের নেতৃত্ব।

সাধারণ আইনজীবীদের মতে, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলে বিভক্তি, বারবার প্রার্থী পরিবর্তনসহ বেশ কয়েকটি বিষয় এবারের নির্বাচনকে ভিন্নমাত্রা এনে দিয়েছে। প্রায় দেড় দশকের নিয়ম ভেঙে এবার নির্বাচনে চারটি প্যানেল অংশ নিচ্ছে। ফলে নির্বাচন এবং এর ফলাফল নিয়ে সবার মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে।

দেড় দশক ধরে তিন প্যানেলে বিভক্ত হয়ে আইনজীবীরা সমিতির নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছে ওই তিন প্যানেল-আওয়ামীলীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ, বিএনপি–জামায়াত জোট সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদ এবং দলনিরপেক্ষ আইনজীবীদের সংগঠন সমমনা আইনজীবী সংসদ।

এর বাইরে এবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও প্রগতিশীল ভাবধারায় বিশ্বাসী আইনজীবীদের সংগঠন গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি আলাদা একটি প্যানেল দিয়েছে।

আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী নিয়ে বিভক্তি এবার অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে বলে মনে করেন ভোটাররা। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রথমে প্রার্থী করা হয়েছিল বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফকে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ বিরোধে হঠাৎ করে পরিবর্তন করে সাবেক পিপি আবুল হাশেমকে প্রার্থী করা হয়। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অনড় আবু হানিফ। বিরোধ সামলাতে আওয়ামী লীগের শীর্ষ আইনজীবী নেতা ইউসুফ হোসেন হুমায়ন, সাহারা খাতুন, শেখ ফজলে নূর তাপস আসেন চট্টগ্রামে। তারা সর্বসম্মতভাবে তৃতীয় প্রার্থী ঘোষণা করেন উত্তম কুমার বিশ্বাসকে। কিন্তু অনড় আবু হানিফ শেষ পর্যন্তও আকস্মিকভাবে তার প্রার্থীতা পরিবর্তন মেনে নিতে পারেননি। ফলে ভোটযুদ্ধে আছেন তিনিও।

সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে এই বিভক্তির প্রভাব প্যানেলের অন্য পদেও পড়বে বলে আশংকা আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোটারদের।

নির্বাচন কমিশনার আখতার কবির চৌধুরী জানিয়েছেন, এবার নির্বাচনে ৩ হাজার ৭ শ ১৫ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে। মোট ১৯টি পদে ভোটগ্রহণ হবে। এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫৬ জন।নির্বাচনে সমন্বয় পরিষদ ও ঐক্য পরিষদ১৯টি পদের সবকটিতে প্রার্থী দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি প্রথমবার প্যানেল ঘোষণা করে সভাপতি–সাধারণ সম্পাদকসহ ৬টি পদে প্রার্থী দিয়েছে। সমমনা আইনজীবী সংসদ সম্পাদকীয় পদের সবকটিসহ একটি নির্বাহী সদস্য পদে প্রার্থী দিয়েছে।

প্রতিদ্বন্দ্বী ৫৬ প্রার্থীর মধ্যে সভাপতি পদে ৪ জন, সাধারণ সম্পাদক পদে ৬ জন, সিনিয়র সহ–সভাপতি ও সহ–সভাপতি পদে ৩ জন করে, সহ–সাধারণ সম্পাদক. ক্রীড়া–সাংস্কৃতিক ও অর্থ সম্পাদক পদে ৪ জন করে, পাঠাগার সম্পাদক ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক পদে ৩ জন করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাহী সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২২ জন।

সভাপতি পদে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে তিন হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে এরা হলেন সমন্বয়ের শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, সমমনার চন্দন দাশ ও ঐক্য পরিষদের এএসএম বদরুল আনোয়ার। এ পদে গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির প্রার্থী কামাল সাত্তার চৌধুরীর অন্যদের ভোট ব্যাংকে আঘাত আনতে পারে।

সাধারণ সম্পাদক পদে সমন্বয়ের উত্তম কুমার দত্ত, ঐক্যের মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, সমমনার নুরুল ইসলাম, গণতান্ত্রিকের জহীর উদ্দীন মাহমুদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু হানিফ এবং বিএনপিপন্থী আবদুল মুকিম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

প্রত্যেক প্রার্থীই বাংলানিউজের কাছে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও ভোটারদের মতামত ভিন্ন। কেউ কেউ বলছেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে নাজিম এবং আবু হানিফের মধ্যে। আবার কারও মতে নাজিমই সবচেয়ে বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন।

সিনিয়র সহ–সভাপতি পদে সমন্বয়েরমোহাম্মদ ছুরত জামাল, ঐক্যের মো. ইছহাক, সমমনার মো. মাফুজুর রহমান চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সহ–সভাপতি পদে সমন্বয়ের মোহাম্মদ রফিকুল আলম, ঐক্যের মো. নুরুদ্দিন আরিফ চৌধুরী, সমমনার একেএম রুহুল আমিন নির্বাচনের মাঠে আছেন।

সহ–সাধারণ সম্পাদক পদে সমন্বয়ের মোহাম্মদ ইয়াছিন খোকন, ঐক্যের মুহাম্মদ কবির হোসাইন, সমমনার সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং গণতান্ত্রিকের নারায়ন প্রসাদ বিশ্বাস প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন।

অর্থ সম্পাদক পদে সমন্বয়ের মঈনুল আলম চৌধুরী টিপু, ঐক্যের মোহাম্মদ শফিউল হক চৌধুরী সেলিম, সমমনার হামিদ আলী চৌধুরী, গণতান্ত্রিকের মো. মোশারেফ হোসেন ভোটযুদ্ধে আছেন।

পাঠাগার সম্পাদক পদে সমন্বয়ের জিকো বড়ুয়া, ঐক্যের মো. নুরুল করিম এরফান, সমমনার ভাস্কর রায় চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন।

সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে সমন্বয়ের রুবেল পাল, ঐক্যের হাসনা হেনা, সমমনার আক্তার বেগম, গণতান্ত্রিকের মোহাম্মদ মনির হোসেন ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন।

তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক পদে সমন্বয়ের মো. রাশেদুল আজম রাশেদ, ঐক্যের মো. হেলাল উদ্দিন আবু এবং সমমনার মোহাম্মদ ফারুক মাহমুদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাহী সদস্য পদে সমন্বয় পরিষদের ফারহানা রবিউল লিজা, মুহাম্মদ বরকত উল্লাহ খান, মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম চৌধুরী, মোহাম্মদুন্নবী শিমুল, রুপম রায়, সাহেদা বেগম, সঞ্জীব কুমার ধর, সেলিনা আক্তার ও ইয়াসিন মাহমুদ তানজিল প্রার্থী হয়েছেন।

ঐক্য পরিষদের এইচএস সোহরাওয়ার্দী, মো. এনামুল হক, মো. হাসান কায়েস, মো. লোকমান, মো. ওমর ফারুক, মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু, মোহাম্মদ আলী ইয়াছিন, মোহাম্মদ এহছানুল হক, মোহাম্মদ ইয়াছিন এবং মুহাম্মদ আকিব চৌধুরী প্রার্থী হয়েছেন।

সমমনা সংসদের মো. এনামুল ইসলাম ও গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির উত্তম বিশ্বাসও নির্বাহী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে কমিশনার আখতার কবির চৌধুরী জানান, আশা করছি শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হবে। কারণ যারা প্রার্থী হয়েছেন তারা সবাই দায়িত্বশীল আইনজীবী। অনেকে আবার দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের নেতাও। কোন অপ্রীতিকর ঘটনা হবে না বলেই মনে করছি। তবে এবার প্রার্থী বেড়েছে। সেজন্য পরিস্থিতি কিছুটা জটিল অবশ্য। তবে আমাদের সব প্রস্তুতি আছে।