আইটি সুবিধা বাড়ায় দুর্নীতি কমেছে: জয়

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১ আগস্ট , ২০১৩ সময় ১১:৪৪ অপরাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও আইটি বিশেষজ্ঞ সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, সরকার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আইটি joyসুবিধা পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে ব্যাপক হারে দুর্নীতি কমিয়েছে। তিনি বলেন, এদেশের মানুষকে আগে মালয়েশিয়ায় যেতে বিপুল পরিমাণ অর্থ রিক্রুটিং এজেন্সির হাতে তুলে দিতে হতো। বিএনপির শাসনামলে এর একটি অংশ হাওয়া ভবনে যেতো। কিন্তু এখন তারা মাত্র কয়েক হাজার টাকা খরচ করে মালয়েশিয়ায় যেতে পারেন। আইসিটির সুবাদে ওই দেশে যাওয়ার প্রক্রিয়া যথেষ্ট সহজ হয়েছে। এ ব্যাপারে এখন অনিয়ম করার কোন সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডমেস্টিক নেটওয়ার্ক কো-অর্ডিনেশন কমিটির (ডিএনসিসি) ত্রয়োদশ বৈঠকে সূচনা বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। কমিটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব শেখ মোহাম্মদ ওয়াহিদ-উজ-জামান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। জয় বলেন, জনগণের জীবন যাত্রার মানোন্নয়নের জন্য তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন দেখেন। তিনি বলেন, এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে দুটি জিনিস জরুরি। এর একটি হচ্ছে- বিদ্যুৎ এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে সংযোগ।
জয় বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম হয়েছে এবং গত সাড়ে চার বছরে সংযোগের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বলেন, ডমেস্টিক নেটওয়ার্ক কো-অর্ডিনেশন কমিটি সংযোগ ক্ষেত্রের সীমা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছে এবং এক্ষেত্রে উলে¬খ্যযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, কেননা জনগণ এখন ইউনিয়ন তথ্য সার্ভিস কেন্দ্রের মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন সেবা লাভ করছে। বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে- পল্লী এলাকাসহ সারাদেশে ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক সুবিধা পৌঁছে দেয়া। এলক্ষ্যে ২০১০ সালে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার সমন্বয়ে ডমেস্টিক নেটওয়ার্ক কো-অর্ডিনেশন কমিটি (ডিএনসিসি) গঠন করা হয়।
তারেক রহমান হাওয়া ভবন খুলে চাঁদাবাজি করতেন:
এদিকে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, বিরোধী দলীয় নেত্রীর ছেলে তারেক রহমান হাওয়া ভবন খুলে চাঁদাবাজি করতেন। সিএনজি চালকদেরও চাদা দিতে হতো। এমন কোন ব্যবসায়ী নেই যাদেও চাঁদা দিতে হয়নি। কিন্তু আমরা ক্ষমতায় এসে চাঁদাবাজি বন্ধ করেছি। আমরা মালয়েশিয়ায় লোক পাঠিয়েছি। হজে লোক পাঠিয়েছি। সেখানে কোন ধরনের চাঁদাবাজি হয়নি।
৬ই এপ্রিলের শাপলা অভিযোনের ব্যপারে তিনি বলেন, শাপলা চত্বরে অবস্থানরত হেফাজতে ইসলামকে সরাতে যে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল সেখানে সব মিডিয়া উপস্থিত ছিল উল্লেখ করে। এনিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চলানো হচ্ছে তা আমাদের কাভার করতে হবে। সবাইকে বুঝাতে হবে, ধরনের কোন সমস্যা হয়নি। জয় বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে ক্যাম্পেইনের ব্যাপরে বিশেষ ভ’মিকার রাখা চেষ্টা করছি। আওয়ামী লীগে যে লোকবল আছে এবং ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করলে তাহলে আমাদেও হারনো কঠিন হবে। আওয়ামী লীগে অনৈক্য আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে জয় বলেন, দল যখন ক্ষমতায় থাকে তখন ঐক্য ধরে রাখতে কিছু সমস্যা হয়। কারণ সব সময় মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের খোঁজখবর রাখা যায় না।
নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ যেসব ওয়াদা দিয়ে এসেছিল তা পূরণ হয়েছে কিনা এ ব্যপারে তিনি বলেন, আমাদের ইশতেহারে দেয়া ওয়াদার বেশির ভাগই পূরণ হয়েছে। কারণ প্রধান সমস্যা ছিল বিদ্যুৎ। আমরা সেটার সমাধান করেছি। বিদ্যুতের কুইক রেন্টালের দুর্নীতির সম্পর্কে তিনি বলেন, দ্রুত বিদ্যুত সমস্যা সমাধানের জন্য কুইক রেন্টালের মাধ্যমে বিদ্যুতের সমাধান করেছি। কুইক রেন্টালের ভর্তুকিকে আপনি দুর্নীতি বলবেন কিভাবে। কুইক রেন্টালের বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানের ফলে আমাদের অর্থনীতি অনেক দূর এগিয়ে গেছে। প্রথম তিন বছর যদি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্রও তৈরির জন্য আমরা বসে থাকতাম তাহলে অনেক কারখানা বন্ধ থাকতো। ফলে দেশের অর্থনীতির অনেক ক্ষতি হতো। আওয়ামী লীগের সাফল্য সম্পর্কে জয় বলেন, আমরা বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছি। এরপর শিক্ষাক্ষেত্রে আমরা সাফল্য অর্জন করেছি। আমরা কোটি কোটি বই বিনামূল্য বিতরণ করছি। এছাড়া অবকাঠামোতে আমরা উন্নয়ন করেছি। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু করেছি। দুর্নীতির সমস্যাও আমরা দূর করার চেষ্টা করছি। আপনারা দেখেছেন বিএনপির আমলে কি ধরনের দুর্নীতি হয়েছে। আপনাকে ঘিরে কোন ধরনের ক্ষমতার বলয় গড়ে উঠবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে জয় বলেন, আমার মা গত সাড়ে চার বছর ক্ষমতায় ছিলেন, এর প্রমাণ আপনারা দেখেছেন। আমি রাজনীতিতে কোন ধরনের হস্তক্ষেপ করিনি। সম্পদের পাহাড় গড়িনি। কিন্তু তারেক রহমানের মা যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন কিভাবে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। আমি এসেছি আমার দলকে সহযোগিতা করতে, কোন ধরনের ক্ষমতার জন্য নামছি না।