অহংবোধ স্পর্শ করতে পারেনি অনুপম সেনকে

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৭ আগস্ট , ২০১৫ সময় ১১:৪১ অপরাহ্ণ

একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেনকে বহুমাত্রিক গুণে গুণান্বিত উল্লেখ করে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেছেন, ‘অনুপম সেনকে অহংবোধ স্পর্শ করতে পারেনি। ’
অনুপম সেনকে
শুক্রবার জেলা শিল্পকলা একাডেমির অনিরুদ্ধ মুক্ত মঞ্চে বিকেল ৫ টায় ‘বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব ড. অনুপম সেন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

লোক গবেষক শামসুজ্জামান খান বলেন, ড. অনুপম সেন দেশের একজন প্রতিকৃৎ মানব, বুদ্ধিজীবী এবং তাত্ত্বিক। সমাজ-দেশ, সাহিত্য-সভ্যতা, কৃষ্টি-সংস্কৃতি প্রভৃতিকে ধারণ এবং লালন করে তিনি পরিণত হয়েছেন রেনেসাঁ-মানবে। বহুমাত্রিক এ পন্ডিতকে কখনো অহংবোধ স্পর্শ করতে পারেনি। তদুপরি তিনি জ্ঞানের ভারে ন্যূব্জ হয়ে থাকেন। তিনি আমাদের দেশের দীপ্তিমান এক মহাব্যক্তিত্ব।

তিনি বলেন, আমি এ অনুষ্ঠানে বসেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি অসাধারণ এ ব্যক্তিত্বকে নিয়ে বাংলা একাডেমি কিছু একটা কাজ করবে। তবে কি কাজ করব এ ব্যাপারে এখনই কিছু বলতে চাই না।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধে চবির বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মহীবুল আজিজ বলেন, ‘ব্যক্তিগত কষ্ট এবং জাতিগত কষ্ট অনুপম সেন তাঁর সত্তায় জারণ-বিজারণ ঘটিয়ে নিজেকে উপনীত করেছেন এক গভীর জীবনোপলব্ধির জগতে। তাঁর সমাজ, সাহিত্য, সংস্কৃতি কিংবা অন্যতর রচনাকর্মের বিচার-বিশ্লেষণে সেটি প্রতিভাত হয়। তার বুদ্ধিজীবিতা বরাবর মানবকল্যাণের স্বপক্ষে পরিচালিত হয়েছে এবং তাঁর জীবন ও কর্মের একটা বৃহৎ বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে দায়বদ্ধতা, সুবিধাবাদবর্জিত স্বচ্ছ। তাঁর এষণায় বিগত দশকের পর সমাজ ও মানুষ ব্যতিরেকে অন্য কোন ভাবনার ঠাঁই হয়নি।তার মনে। ’

সভাপতির বক্তব্যে অর্থনীতিবিদ ড. মইনুল ইসলাম বলেন, ড. অনুপম সেন শুধু লেখালেখি নয় প্রগতিশীল আন্দোলন, সংগ্রামেও অগ্রভাগে থেকে মুক্তবুদ্ধি চর্চা তথা বুদ্ধিবৃত্তি চর্চায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। এখনও তাঁর চিন্তা-দর্শনকে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, সমাজে বৈষম্য না থাকলে দরিদ্রতা আপনা আপনি কমে যাবে। লুন্ঠনকারীদের কারণে রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের বিনিময়ে যে রাষ্ট্র পেয়েছি সেটি তেমন করে বিকশিত হয়নি। রাষ্ট্র চরিত্রকে গণতান্ত্রিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরিয়ে নিতে হবে। আর সে কাজটি করতে পারেন ড. অনুপম সেনের মতো মানুষরাই।

ড. ভূঁইয়া ইকবাল বলেন, ড. অনুপম সেন সমাজবিজ্ঞানী হয়েও বাংলা সাহিত্যের রস আস্বাদন করতে পেরেছেন। তিনি চিন্তা-চেতনায় এবং মননে রবীন্দ্রনাথকে ঠাঁই দিয়েছেন। তাঁর জীবনে এসব প্রতিফলিত হতে দেখেছি। তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রেনেসাঁর বিষয়ে যে প্রাঞ্জল আলোচনা করেন তা এখনো স্মৃতিতে ভাস্বর।

ড. ওবায়দুল করিম বলেন, মহাব্যক্তিরা সময় কালকে ধারণ করেন। তাঁদের চিন্তার খোরাক বহুমাত্রিক। সেন স্যারের জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে অনুরূপ বহুমাত্রিকতা বাক্সময় হয়ে উঠতে দেখা যায়।

ড. হরিশংকর বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল তাঁদের নিজস্ব কিছু কিছু লোককে নিয়ে গর্ববোধ করে। ঠিক তেমনি চট্টগ্রাম গর্ববোধ করে অনুপম স্যারের মতো ব্যক্তিকে নিয়ে। শুভ্র ভূষণের এ মানুষটি নিষ্পাপ, নিরংহকারী এবং শুভ্র মনের।

কবি এজাজ ইউসুফী বলেন, ড. অনুপম সেন দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রায় আড়াই হাজার দিন যে বক্তব্য দিয়েছেন তা আমাদের জন্য পাথেয় হয়ে থাকবে। তিনি বিশ্ব জ্ঞান ধারণ করতে পেরেছেন বলে তাঁর প্রাজ্ঞতাও বিশাল।

অনুষ্ঠানে ড. অনুপম সেনের কবিতা থেকে আবৃত্তি করেন বাচিকশিল্পী মিলি চৌধুরী, কংকন দাশ, মো. মুজাহিদুল ইসলাম। একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন কন্ঠশিল্পী মালবিকা দাশ ও শ্রেয়সী রায়। দলীয় পরিবেশনায় অংশ নেয় তারুণ্যের উচ্ছ্বাস, সঙ্গীত পরিষদ ও অভ্যুদয়।

অনুষ্ঠানে ড. অনুপম সেনকে বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে উপহার তুলে দেন মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।