অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৫ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ সময় ১১:২৯ অপরাহ্ণ

ফটিকছড়িতে স্বেচ্ছা সেবক লীগের এক নেতাকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। পুলিশ নিজে অস্ত্র দিয়ে উল্টো অস্ত্র উদ্ধারের নাটক করছে বলেও অভিযোগ করেন ভূক্তভোগীর স্ত্রী।

অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগসম্প্রতি ফটিকছড়ির ভূজপুর বাগান বাজার এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বাড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন শাহাদাত হোসেন সাজুর স্ত্রী রোজিনা আক্তার।

রোজিনা আক্তার বলেন, আমার স্বামী অস্ত্রধারী নয়। আমার স্বামীকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হচ্ছে। একটি আওয়ামী পরিবারকে ধ্বংস করতেই পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজিয়েছে। এলাকায় আমার স্বামীর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়েই প্রতিপক্ষের সাথে হাত মিলিয়ে এস আই আবদুল বাতেন এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, তাঁর শশুর দীর্ঘ ত্রিশ বছর বাগান বাজার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তাদের পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের উন্নয়নের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। কোনো ধরনের সন্ত্রাসী বা অস্ত্রবাজির রাজনীতিকে তারা সমর্থন করে না।

গত ইউপি নির্বাচনে তার স্বামী বিজয়ী প্রার্থীর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নিয়ে তাঁর মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখেই প্রতিপক্ষ বর্তমান চেয়ারম্যান পাগলের মত আচরণ করছেন।

শাহাদাত হোসেন সাজুকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই মূলত দাঁতমারা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই বাতেনকে মোটা অঙ্কের উৎকোচ দিয়ে একাজ করাচ্ছেন চেয়ারম্যান রুস্তম আলী।

সংবাদ সম্মেলনে সাজুর স্ত্রী আরো বলেন, আটক খুরশিদ ড্রাইভারকে দিয়ে পুলিশ যে কথিত স্বীকারোক্তি আদায় করেছেন মর্মে দাবি করছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। খুরশিদের সাথে আমার স্বামীর রাজনৈতিক বা পারিবারিক কোন সম্পর্ক নাই। খুরশিদ আমাদের পরিচিত কেউ নন।

গণমাধ্যম কর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে সাজুর স্ত্রী বলেন, অস্ত্রটির প্রকৃত মালিক কে তা বেরিয়ে আসবে ফিঙ্গার প্রিন্ট পরীক্ষা করালে। তিনি বলেন, রুস্তম চেয়ারম্যান তার ইতালি প্রবাসী ছেলেকে মনোনয়ন পাইয়ে দিতেই এসব কাজ করাচ্ছেন।

মামলা হওয়ার পর পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই আবদুল বাতেন রাতে বিরাতে যে কোনো সময় তাদের বাড়িতে গিয়ে মহিলাদেরকে নানাভাবে হয়রানি ও হুমকি ধমকি দিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাজুর ভাই আমজাদ হোসেন সরকার, আলমগীর সরকার,রাশেদা আক্তার,রিনা আক্তার,সাজুর মাতা রাবেয়া সরকার। স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মো. মাহবুব, মো. করিম, এম এ হাসেম, মুজিবুল হক, তানভীর, এয়াকুব আলী, সাব্বির প্রমুখ।

এসময় সাজুর স্ত্রী আরো বলেন, এসআই বাতেন মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে তাঁকে অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে একটি আওয়ামী পরিবারের সুনাম ক্ষুন্ন করছে। এ ছাড়া এসআই বাতেন তদন্তের নামে বাড়িতে বহিরাগত লোক নিয়ে গিয়েও বাড়ির লোকজনকে ধমকাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে সাজুর স্ত্রী বলেন, মামলাটির নিরপেক্ষ তদন্ত হলে আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে। তিনি এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের আইজিপি ও ডিআইজির নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ কামনা করেন।