অস্তিত্ব হারাতে বসেছে ১২টি খাল

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২০ জুলাই , ২০১৭ সময় ০৬:৫১ অপরাহ্ণ

পলি জমে এবং দখলের কবলে পড়ে আরো অন্তত ১২টি খাল অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। আর ৪৬ বছরে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে ৩৬টি খাল। বিদ্যমান খালগুলোও তার গতি হারিয়ে ফেলেছে। অথচ বৃষ্টি এবং জোয়ারের পানি নিঃসরণের প্রধান পথ ছিল এসব খাল।

নগরীর উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এসব খাল দখল হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতার কবল থেকে রক্ষা পাচ্ছে না নগরবাসী।

বলা চলে এক শতাব্দী আগেও এ নগরীতে জালের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলো শতাধিক খাল কিংবা ছড়া। এসব খাল নগরীর এক প্রান্ত থেকে শুরু হয়ে মিশতো আরেক প্রান্তে বঙ্গোপসাগর কিংবা কর্ণফুলী নদীতে।

বিশেষ করে পানি প্রবাহের জন্য এ খালগুলো মূল ভূমিকা পালন করতো। ১৯৬৯ সালের প্রথম ড্রেনেজ মাষ্টার প্ল্যানে নগরীতে ৭০টি খালের কথা উল্লেখ করা হয়।

১৯৯৫ সালের মাষ্টার প্ল্যানে মাত্র ৩৪টি খালের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। আর বর্তমানে ৩৪টি খালের কথা বলা হলেও পূর্ণাঙ্গ অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২২টি খালের।

কর্ণফুলী নদীর ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গবেষক আলীউর রহমান বলেন, ‘যেহেতু স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সরকার কাউকে কোন খাল লিজ দেয় নাই, দখল করার অনুমতি দেয়নি।

লোকজন প্রশাসনের নির্লিপ্ততার সুযোগেই এই খালগুলি গোপনে গোপনে দখল করে নিয়েছে। সরকার চাইলে এক মাসের মধ্যেই এই খালগুলি উদ্ধার করা সম্ভব।’

একে একে খালগুলো অস্তিত্ব হারানোর কারণে নগরীর পানি প্রবাহে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হচ্ছে অসহনীয় জলাবদ্ধতা।

ফোরা ফর প্ল্যান্ড চিটাগাং-এর সাধারণ সম্পাদক স্থপতি সুভাষ বড়ুয়া, ‘যেহেতু প্রত্যেকটা খাল ভরাট হয়ে গেছে, জায়গা কমে গিয়ে এর প্রস্ত সংকুচিত হয়েছে, এর গভীরতা নেই। এর ধারণ ক্ষমতা একেবারেই এক তৃতীয়াংশে চলে এসেছে। যার কারণে আমাদের অল্প বৃষ্টিপাত হলেও জলে তলিয়ে যায়।’

বিশেষ করে নগরীর চাক্তাই খাল, মহেশ খাল, রাজাখালী খাল, হিজড়া খাল, নাসির খালের অবস্থা সবচে বেশি শোচনীয়। একদিকে পলি জমে খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে। অন্যদিকে অবৈধ দখলদারদের আধিপত্যে খালগুলো অস্তিত্ব সংকটে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, ‘খালের সম্প্রসারণ, খালের খনন মাস্টাপ্লানের আওতায় আমরা তৈরি করে সরকারের কাছে পাঠিয়েছি। সরকার যদি এটার অনুমোদন দেয় তাহলে এটি হবে।’

সরকারি তথ্য মতে, এক সময় নগরীর ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সবগুলো খালের দৈর্ঘ্য ছিলো ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার। এখন তা কমে ৩ থেকে ৫ কিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। আর প্র¯হ ২০ মিটার থেকে কমে হয়েছে ১০ থেকে ১২ ফুট।