অসুস্থ ধারা ও মতবাদকে আধুনিকতা দিয়েই জয় করতে হবে

প্রকাশ:| রবিবার, ১২ মার্চ , ২০১৭ সময় ০৯:৪২ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগ এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ৬০ দশকের মেধাবী ছাত্রনেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে আমাদের তরুণদের আরও আধুনিক, মানসম্পন্ন শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে শুধু বিনোদন বা অবসর সময় কাটানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করলে চলবে না এর মধ্য থেকে সত্যকে তুলে ধরতে হবে। তিনি বলেন, ফেসবুক সহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাথে আমাদের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে- এর ভালো দিক গুলোকে কাজে লাগিয়ে সমাজের ও রাষ্ট্রের ভীতকে মজবুত করতে হবে। তিনি বলেন, যে দেশে ৬ লাখ ৮২ হাজার মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে সে দেশকে তাচ্ছিল্য করার সুযোগ আর নেই- এদেশের তরুন যুবকরা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী হয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করেছিল শুধুমাত্র সাহস আর দেশপ্রেমকে পুঁজি করে। তিনি বলেন, অনলাইনে মিথ্যা অপপ্রচার করে একটি মহল দেশ, মুক্তিযুদ্ধ আর গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে- যুক্তি দিয়ে এদের মিথ্যাকে পরাজিত করতে হবে লেখনী আর মেধা দিয়ে। তিনি লেখাপড়ার সময় ফেসবুক বা অনলাইনে আসক্তিকে পরিহার করে একটি নির্দিষ্ট অবসর সময়ে তা ব্যবহার করার আহ্বান জানান।

তিনি অদ্য বিকেল ৫ ঘটিকায় জি, ই, সি প্যালেস হোটেলের কনফারেন্স রুমে- ঈযরঃঃধমড়হম ঙহষরহব অপঃরারংঃং ঋড়ৎঁস আয়োজিত “তথ্য প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে- মুক্তিযুদ্ধ, দলীয় আদর্শ প্রচার এবং আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মানে নতুন প্রজন্মের করনীয় শীর্ষক কর্মশালা।” ইয় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে একথা বলেন।

ঈযরঃঃধমড়হম ঙহষরহব অপঃরারংঃং ঋড়ৎঁস এর অন্যতম উদ্যোক্তা, কোতোয়ালি থানা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান মন সুর এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় এই কর্মশালায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকার বেসরকারি কলেজের অনলাইন কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীত গেয়ে অনুষ্ঠের উদ্বোধন করা হয়।

কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন- ইসতিয়াক আহমেদ চৌধুরী সাদিদ, হাজি সেলিম রহমান, ইমতিয়াজ সেজান সানি, কামরুল হুদা পাভেল, সাব্বির সাকির, সৈয়দ মাইনুল আলম সৌরভ, আকলিমা আক্তার, মোঃ আরিফ উদ্দিন, সেলিম হোসেন চৌধুরী, মাইনুল আহসান সরওয়ার সুজন, ইয়াসির আরাফাত, সেলিম পারভেজ ববি, দোলন চন্দ্র দে, ছাত্রনেতা মনিরুল হক মুন্না, মোবারক এইচ খান, এম.এন ইসলাম রানা, এনামুল ইসলাম রনি, ইকবাল রাসেল প্রমুখ।

রাজনীতির নামে নিজের প্রচার, পরের সম্পদ হরণ, দেশের প্রতি মমত্ববোধের অভাব বর্তমান রাজনীতিতে বিরাট এক প্রভাব এনেছে, তাই মেধাবীরা দিন দিন রাজনীতিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে তিনি বর্তমান অচলায়তন ভেঙে আদর্শ চর্চার মধ্য দিয়ে প্রথ্যেক কর্মীকে সমাজে নিজেকে অনুকরনীয় করে তোলার আহ্বান জানান।

অনলাইন কর্মী হাসান মনসুর সেমিনারে তার মূল বক্তব্যে বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে ১৫ই আগষ্টে নির্মমভাবে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পাঠ্য পুস্তক থেকে শুরু করে তৎকালীন প্রচার মাধ্যমে বিকৃতভাবে বার বার উপস্থাপন করে নতুন প্রজন্মের বৃহৎ এক অংশকে বিভ্রান্ত করার হয়েছিল। পাকিস্তানী ভাবধারায় পরিচালিত ১৯৭৫ পরবর্তী সামরিক শাসকরা তাদের স্বার্থে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তিকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে এদেশে মৌলবাদ, জঙ্গিবাদে উৎসাহ দিয়েছিল। বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের গণতান্ত্রিক সরকার থাকলেও দেশের ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে এই পরাজিত শক্তি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এরা খুব সক্রিয় এবং সুকৌশলে মিথ্যার বেসাতি দিয়ে সাধারণকে বিভ্রান্ত করছে। তিনি বলেন ধর্মীয় বিভিন্ন পেজ এবং সাইট থেকে তারা উস্কানি মূলক মিথ্যা অপপ্রচার করছে। ইন্টারনেটের ব্যবহার সহজলভ্য এবং ব্যবহার কারীর সংখ্যা মূল জন গোষ্ঠীর অর্ধেক হওয়ায় এই অপশক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কাজে লাগাচ্ছে। হাসান মনসুর বলেন, আমরা যারা রাজনীতি সচেতন বা রাজনীতি করি তাদেরকে রাজপথের পাশাপাশি অনলাইনেও সক্রিয় হতে হবে। তিনি বলেন, উগ্রতা দিয়ে নয়- লেখনী আর যুক্তির মধ্যে দিয়ে মানুষকে বুঝাতে হবে। গায়ের জোরে নিজের মত প্রতিষ্ঠা করা যায়না। যুক্তির মধ্য দিয়ে সেই সমালোচনার জবাব দিতে হবে। অনলাইনে ম্যিথার জবাব- যুক্তি আর সুস্থ বিতর্ক করে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে পারলেই আমাদের আদর্শের হবে জয়। হাসান মনসুর বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে সমাজে, পরিবারে অসহিষ্ণু একটা পরিবেশ তৈরি হচ্ছে- সারাদিন এর মধ্যে ডুবে না থেকে, এটাকে অনিবার্য অনুষঙ্গ না ভেবে এটাকে অবসর বা সময় কাটানোর মাধ্যমে হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মীদের দলীয় প্রচারণা শীর্ষক এই সেমিনারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ শোকের মাস আগস্টে নিহদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।