অশ্লিল ভিডিও ধারণের প্রতিবাদ করায় পিঠিয়ে রক্তাক্ত

mirza imtiaz প্রকাশ:| বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি , ২০১৯ সময় ০১:৫২ পূর্বাহ্ণ

রাঙ্গুনিয়ায় গোপনে এক গৃহবধুর অশ্লীল ভিডিও ধারণের প্রতিবাদ করায় পিপলু শীল (৩২) নামের এক স্বামীকে বেধড়ক পিঠিয়ে রক্তাক্ত করেছেন নুরুল আলম কালু (৩৫) নামের এক বখাটে ও তার সহযোগীরা। গুরুতর আহত পিপলু শীলকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সুত্র জানায়। বখাটে কালু রাঙ্গুনিয়ার পোমরা ইউনিয়নের মেম্বার জামাল উদ্দিন প্রকাশ সেগুন জামালের ভাই এবং পোমরা সিকদার বাড়ি গ্রামের ফজলুল করিমের পুত্র। মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে তিনটায় হামলার এই ঘটনা ঘটে। এর আগে মঙ্গলবার ভোর পাঁচটায় গোসল করতে ঘরের পাশের শৌচাগারে গেলে পিপলু শীলের স্ত্রী’র অশ্লীল ভিডিও ধারণ করেন বখাটে কালু। গোপনে ভিডিও ধারণ করার দৃশ্য দেখে ফেলার পর পাড়ার লোকজন কালুকে ধরে মারধর করে মোবাইল কেড়ে নেন। এরপর বিকেলে পোমরা মালিরহাট এলাকায় নুরুল আলম কালু, তার সহযোগী চাইনি পাড়ার আলী আকবরের পুত্র মো. ইমন, নোয়াপাড়ার তৌহিদসহ কয়েকজন সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে গৃহবধুর স্বামী পিপলু শীলের উপর হামলা চালান। এতে লাঠির আঘাতে মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হয় পিপলু শীল। ঘটনার পর থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। আহত পিপলু শীলের মা মিনতি শীল জানান, চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকায় আরএসআরএম রড ফ্যাক্টরিতে শিফট ইনচার্জ পদে চাকুরি করেন ছেলে পিপলু শীল। মঙ্গলবার ভোর পাঁচটায় চাকুরির উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হন সে। স্বামীকে বিদায় করে শৌচাগারে যান ছেলের বউ প্রিয়া শীল। কিছুক্ষণ পর বউয়ের চিৎকার চেচামেচি শুনে আমরা এগিয়ে গিয়ে জানতে পারি কেউ একজন শৌচাগারের ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে গোপনে ভিডিও করছিলেন। একটা সাদা মোবাইলে ভিডিও ধারণের সময় বউমা এক ব্যক্তির হাতসহ দেখেছেন। এরপর ঘটনা পিপলুকে ফোন করে জানানো হলে সে আধাপথ থেকে বাড়ি ফিরে আসেন। পাড়ার লোকজন গোপনে ভিডিও ধারণকারীকে খোঁজতে থাকেন। সকাল সাতটায় পাশের পুকুর পাড়ে বসে এসব অশ্লিল ভিডিও দেখছিলেন বখাটে নুরুল আলম কালু। এসময় পেছন থেকে এসব দৃশ্য দেখে তাকে ঝাপটে ধরেন পিপলু শীল। পাড়ার লোকজন কালুকে ধরে উত্তম মধ্যম দিয়ে মোবাইল ফোন ও মেমোরীকার্ড কেড়ে নেন। এরপর কর্মস্থলে চলে যান পিপলু। বিকেল সাড়ে তিনটায় ফেরার পথে পোমরা মালিরহাট এলাকায় কালু তার ৫/৬জন সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে পিপলুকে লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। স্থানীয় যুবক মো. শাকিল জানান, মূমূর্ষ অবস্থায় পিপলুকে উদ্ধার করে প্রথমে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পিপলুর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি ইমতিয়াজ ভুঁইয়া ঘটনা জেনেছেন জানিয়ে বলেন, রাত নয়টা পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেননি, অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আরোও সংবাদ