টাকার লোভে পরিকল্পিতভাবে শিক্ষককে খুন করে তারই ৩ ছাত্র

প্রকাশ:| সোমবার, ১৩ জানুয়ারি , ২০১৪ সময় ০৭:৫৭ অপরাহ্ণ

পটিয়ার জিরি ইউনিয়নের শাহজাহান আউলিয়া (রহ.) মাদরাসা সুপার মওলানা আবদুল আজিজ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একই মাদরাসার ৩ ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায় অর্থ আত্মসাতের লোভে পরিকল্পিতভাবে শিক্ষককে খুন করে তারই ৩ ছাত্র। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. আতাউল্লাহ (১৫), আবদুর রহমান টিপু সুলতান (১৫) ও রোমান উদ্দীন (১৪)।

রোববার রাতে মাদরাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কিরিচ, একটি ক্রিকেট ব্যাট এবং হুজুরের দানবাক্সের আড়াই হাজার টাকা ও মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ওই ৩ ছাত্র বেশ কিছু দিন ধরে মাদরাসার দানবাক্সের চাবি বানিয়ে দান বাক্স থেকে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অজ্ঞাতে টাকা আত্মসাৎ করে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে নিহত মাদরাসা সুপার আবদুল আজিজ ওই ৩ ছাত্রকে একাধিকবার শাঁসিয়ে দেয় এবং তাদের কাছ থেকে নকল চাবি উদ্ধার করে। পরে তাদের অভিভাবকদের মাদ্রাসায় ডেকে এনে অভিযোগ করেন।

এতে ওই ৩ ছাত্র সুপারের উপর ক্ষিপ্ত হয়। এছাড়াও মাদরাসা ছাত্র আব্দুর রহমান টিপু সুলতানের খালা মাদরাসার মহিলা বাবুর্চির সঙ্গে খুন হওয়া সুপারের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করে গ্রেপ্তার ছাত্ররা। এ নিয়ে একাধিকবার মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ করে এই ৩ ছাত্র।

গ্রেপ্তারকৃত ছাত্ররা পুলিশের কাছে স্বীকার করে, বিভিন্ন সময় দাওয়াত বা কোরান খতম পড়তে গেলে তারা যা টাকা পেত তার চেয়ে কম টাকার হিসাব দিলে এতে নিহত শিক্ষক ওই ছাত্রকে বকাবকি করতেন। যার ফলে দিন দিন সুপারের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে তারা। তারা সুপারের উপর প্রতিশোধ নিতে তাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে।

পুলিশ আরো জানায়, গত ৯ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১১টায় নিহত সুপার আবদুল আজিজকে রুম থেকে ডাকে। তিনি রুম থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে কিরিচ দিয়ে কোপ দেয় ছাত্র আতাউল্লাহ। তিনি দৌঁড়ে গিয়ে মাদ্রাসা মাঠে পড়ে গেলে সেখানে ওই তিন ছাত্র তাকে উপুর্যপরি কোপাতে থাকে ও ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে মাথায় আঘাত করে।

এক পর্যায়ে খবর পেয়ে মাদরাসার বাবুর্চি টিপুর খালা দৌঁড়ে গিয়ে সুপারকে বাঁচাতে চেষ্টা করে। এসময় তিনিও মারাত্মক আহত হন এবং পরে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তখন বাবুর্চিকে মাদরাসায় রেখে সুপার আবদুল আজিজের লাশ মাদ্রাসার সেপটিক ট্যাংকিতে ফেলে রাখে।

সকালে খুনি আতাউল্লাহ মাদ্রাসার অর্থ পরিচালক জাকির মেম্বারকে গিয়ে বলেন হুজুরকে কে বা কারা রাতে মেরে ফেলেছে। পরে পুলিশের তদন্তে ঘটনার প্রকৃত সত্যতা বেরিয়ে আসে।

পটিয়া থানার পটিয়া থানার ওসি (তদন্ত) শওকত জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা পুরো ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তারা সরাসরি ঘটনার সাথে জড়িত।

মূলত মাদ্রাসার দানবাক্সের টাকা আত্মসাত নিয়ে হুজুরের সঙ্গে ওই ৩ খুনির সম্পর্ক খারাপ হয়। এতে তারা হুজুরকে খুন করতে পরিকল্পনা করে এবং তাদের পরিকল্পনা মোতাবেক হুজুরকে হত্যা করে বলেও প্রাথমিক তদন্তে বের হয়ে এসেছে। তবে বাবুর্চির সাথে অবৈধ সম্পর্কের কোন আলামত পাওয়া যায়নি।