অর্থনীতির নাজুক এ পরিস্থিতিতে ব্যাংকের সব ধরনের সুদহার কমছে

প্রকাশ:| শনিবার, ৩০ নভেম্বর , ২০১৩ সময় ০৭:০৮ অপরাহ্ণ

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক

ব্যাংকদীর্ঘদিন গ্রাহকদের ভুগিয়ে অবশেষে ঋণ ও আমানতে সুদ, কলমানি মার্কেটে সুদহারসহ সব ধরনের সুদহার কমছে। অর্থনীতির নাজুক এ পরিস্থিতিতে এটি এক ধরনের কৌশল হিসেবে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, সুদহার কমানো হচ্ছে। তবে এটি সাময়িক কৌশল মাত্র। কারণ এখন ব্যবসার অবস্থা ভালো যাচ্ছে না। সুস্থ অবস্থা ফিরে এলে আগের অবস্থানেই চলে যাবে বলে মনে করেন এ কর্মকর্তা। জানা গেছে, চলতি বছরের অক্টোবর শেষে ব্যাংক ব্যবস্থায় ঋণ ও আমানতে সুদহার পাঁচ শতাংশীয় পয়েন্টের নিচে এসেছে। অক্টোবর মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে গড় সুদহার দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৪২ শতাংশ, আগের মাস সেপ্টেম্বর শেষে যা ছিল ১৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। অন্যদিকে অক্টোবর পর্যন্ত আমানতে গড় সুদহার কমে ৮ দশমিক ৪৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আগের মাসে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। এতে তাদের ঋণ ও আমানতে সুদহারের গড় ব্যবধানও (সেপ্রড) সামান্য কমে ৪ দশমিক ৯৫ শতাংশীয় পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, সেপ্টেম্বরে যা ছিল ৫ দশমিক ০১ শতাংশীয় পয়েন্ট। বছরের শুরু থেকেই ঋণ আমানতের সুদের ব্যবধান লঙ্ঘনকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবার শীর্ষে রয়েছে বিদেশী খাতের পাঁচ ব্যাংক। এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ ও আমানতের সুদহারের ব্যবধান পাঁচ শতাংশীয় পয়েন্টের মধ্যে নামিয়ে আনার নির্দেশনা থাকলেও তা ভঙ্গ করছে দেশী-বিদেশী খাতের ২৪ ব্যাংক। এ তালিকায় রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানার রূপালী, বিশেষায়িত খাতের বেসিক ব্যাংক, বেসরকারি খাতের এবি, সিটি, আইএফআইসি, পূবালী, উত্তরা, ইস্টার্ন, প্রাইম, সাউথইস্ট, ঢাকা, এসআইবিএল, ডাচ্‌-বাংলা, স্ট্যান্ডার্ড, বাংলাদেশ কমার্স, প্রিমিয়ার, ব্যাংক এশিয়া, যমুনা ও ব্র্যাক ব্যাংক, বিদেশী মালিকানার স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, হাবিব, সিটি ব্যাংক এনএ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, উরি ও এসএসবিসি ব্যাংক। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৩ সালের অক্টোবর শেষে রাষ্ট্র্রীয় মালিকানার রূপালী ব্যাংক ছাড়া প্রায় সব ব্যাংকেরই সেপ্রড নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে। আলোচ্য সময়ে এসব ব্যাংকে সেপ্রড দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। এ সময়ে চারটি ব্যাংকের ঋণে গড় সুদ দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৭৩ শতাংশ। আমানতে ছিল ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এ দিকে দেশের কলমানি মার্কেটে সুদের হারও কমছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৮শে নভেম্বর ব্যাংক টু ব্যাংক লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সুদের হার ছিল ৬.৭৫% ও ব্যাংক থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ৭.৭৫%। গত ২১শে নভেম্বর সর্বোচ্চ সুদের হার ছিল যথাক্রমে ৭ ও ৮%। জানা যায়, বৃহস্পতিবার কলমানি মার্কেট থেকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক কোন ধার করেনি। অন্যদিকে বেসরকারি ও বিদেশী ব্যাংকগুলো একত্রে ধার করেছে ২ হাজার ৪৮৮ কোটি টাকা। সর্বোচ্চ ধার নিয়েছে এনসিসি ব্যাংক ১ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া, পূবালী ব্যাংক ৪০০ কোটি টাকা, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ৩৫০ কোটি টাকা, ইস্টার্ন ৩০০ কোটি টাকা, এবি ব্যাংক ২১৮ কোটি টাকা, বিডিবিএল ২০০ কোটি টাকা এবং সাউথইস্ট ব্যাংক ২০ কোটি টাকা ধার নিয়েছে। অন্যদিকে কলমানি মার্কেটে মোট ৪ হাজার ৩০২ কোটি টাকা ধার দেয়া হয়। এর মধ্যে সর্বাধিক ধার দিয়েছে বেসিক ব্যাংক ১ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। এছাড়া রূপালী ব্যাংক ১ হাজার ৪২৭ কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংক ৩৫০ কোটি টাকা, সোনালী ব্যাংক ৩৩৫ কোটি টাকা, ইউসিবিএল ৩০০ কোটি টাকা, এইচএসবিসি ২৫০ কোটি টাকা এবং সাউথইস্ট ব্যাংক ৩০ কোটি টাকা ধার দিয়েছে। এ সময়ে রাষ্ট্রীয়, বেসরকারি ও বিদেশী কোন ব্যাংক ধার করেনি। এ সময়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ধারের মোট পরিমাণ ৮১৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে সর্বাধিক ধার দিয়েছে সাউথইস্ট ব্যাংক ১৬৮ কোটি টাকা। এছাড়া, এবি ব্যাংক ১১৩ কোটি টাকা, সোনালী ব্যাংক ১০০ কোটি টাকা, বেসিক ব্যাংক ১০০ কোটি টাকা, ইউসিবিএল ৯০ কোটি টাকা, বিডিবিএল ৮৪ কোটি টাকা, পূবালী ব্যাংক ৬৭ কোটি টাকা, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ৫০ কোটি টাকা এবং অগ্রণী ব্যাংক ৪০ কোটি টাকা ধার দিয়েছে।