‘অরুণ বহ্নি জ্বালাও চিত্ত মাঝে, উৎসবে মাতিব হে তোমারে লয়ে’

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল , ২০১৬ সময় ০৯:৪০ অপরাহ্ণ

নাজিম উদ্দিন

পটিয়ায় দুইদিনব্যাপী বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ উৎসব উপলক্ষে ব্যাপক আয়োজন
পটিয়ায় প্রতিনিধি॥
‘অরুণ বহ্নি জ্বালাও চিত্ত মাঝে, উৎসবে মাতিব হে তোমারে লয়ে’ এ স্লোগানকে প্রতিপাদ্য করে পটিয়ায় দুইদিনব্যাপী বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের ব্যাপক আয়োজন করা হয়েছে। অন্যান্য বছরের ন্যায় পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠকে যেন বৈশাখী রঙ্গে রাঙ্গানো হচ্ছে।
আবারো ফিওে এলো বৈশাখ। বাঙালির হৃদয়তন্ত্রীতে বেজে উঠা নিজস্ব সত্ত্বার নাম। যে সত্ত্বা আমাদের হাজার বছরের ঋদ্ধ সংস্কৃতি-ঐতিহ্য-গৌরবের স্বকীয় অনুষঙ্গের নাম। বৈশাখের এ চিরাচরিত উৎসবকে বুকে ধারণ করে পটিয়া সম্মিলিত বর্ষবরণ উদ্যাপন পরিষদ মহাধুমধামে আয়োজন করতে যাচ্ছে দুইদিন ব্যাপী বাঙালীর উৎসব বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠান।
এ উৎসবকে পরিপূর্ণ রূপ দিতে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সামশুল আলম বাবু’কে চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও তরুণ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মী নাজিম উদ্দীন পারভেজ কে সদস্য সচিব করে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠণ করা হয়েছে। এছাড়া কাজের অগ্রগতির জন্য গঠন করা হয় বিভিন্ন উপ কমিটি।
আগামী ৩০ চৈত্র ১৪২২ বুধবার বর্ষবিদায়ের দিনে দিনব্যাপী সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক, চিত্রাংকন, নৃত্য ও সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সন্ধ্যায় থাকছে চট্টগ্রামের বেতার টিভি শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
পরদিন ১ বৈশাখ ১৪২৩ বৃহস্পতিবার বর্ষবরণ উপলক্ষে সকাল থেকে থাকছে বাঙালী সংস্কৃতির নানা আয়োজন। ওইদিন সকালে পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে মঙ্গলশোভাযাত্রার মাধ্যমে অনুষ্ঠানমালা শুরু হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন পটিয়ার সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী এমপি। এছাড়া এখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজি, সাংস্কৃতিক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দের ব্যাপক সমাবেশ ঘটবে। এছাড়া দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় থাকছে পটিয়ার সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহের পরিবেশনা, মুক্তিযুদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধা গবেষক ও সাংবাদিক এবং রাজনীতি ও সমাজ সেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান, বেতার-টিভি শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখীমেলা।
এ বিষয়ে পটিয়া সম্মিলিত বর্ষবরণ উদযাপন পরিষদের চেয়ারম্যান সামশুল আলম বাবু জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় আমরা এবার আরো বৃহত্তর ও ভিন্ন পরিসরে বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠানমালা সাজিয়েছি। প্রতিবছর বর্ষবিদায় অনুষ্ঠান স্বল্প পরিসরে আয়োজন করা হলেও এবছর দুইদিনই আমরা এ অনুষ্ঠানকে সমানভাবে গুরত্ব দিয়ে অনুষ্ঠানমালা সাজিয়েছি। তাছাড়া তিন বিশিষ্টজনকে সম্মানা দেয়ার মাধ্যমে বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে নতুনত্ব আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে পটিয়া সম্মিলিত বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ উদ্যাপন পরিষদের সদস্য সচিব নাজিম উদ্দীন পারভেজ জানান, আমরা ব্যাপক আয়োজনের মাধ্যমে দুইদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা সাজানোর পাশাপাশি মাঠের পরিসর আরো বড় করেছি। যাতে উৎসবে আগত নারী পুরুষ সবাই মিলে অনুষ্ঠানকে সুন্দরভাবে উপভোগ করতে পারে। আমরা নিয়মিত উপ কমিটির সাথে বৈঠকের মাধ্যমে আলাপ আলোচনা ও পরামর্শের ভিত্তিতে এবারের উৎসবকে সত্যিকার অর্থে বাঙালীর পহেলা বৈশাখের উৎসবে রূপদিতে চেষ্টা করছি।
এদিকে সাজসজ্জা উপ কমিটির আহবায়ক চারু শিল্পী কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে পটিয়ার বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠানকে নানারূপে সাজাতে গত কয়েকদিন ধরে বেশ পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। সাজসজ্জ্বা উপ কমিটির যুগ্ন আহবায়ক ফয়সল মো. ফাহিদুর রহমান, প্রকাশ দে, রাজন দে, ওয়াহেদ জাবের ইমন, আরিফুল ইসলাম, জয় দেব চন্দ্র সরকার, আজমুল হোসেন মানিক, সাকিবুল হোসেন, রবিউল হোসেন আকাশ, মো. রাশেদ, শওকত হোসেন, কানিজ ফাতেমা, শাহিন আকতার ওইদিনের অনুষ্ঠানের জন্য তৈরী করছেন, গ্রাম বাংলার বিভিন্ন ঐতিহ্য যেমন মুখোশ, ছাতা, গরুর গাড়ীর চাকা, ফিউশান টেরাকোটা, তোরণ, ঘৌড়া, হাতি, পাখি, হাস, ঘন্টা, হাত পাখা, মৎস কুমারী, লক্ষিè পেঁচা, বাঘ, একতারা, ঢুল, ঘুড়ি, ওরিয়েন্টাল ফিগার, কূলা, ইষ্টিক বেলুন ইত্যাদি। চারু শিল্পীদের এ গ্রুপটি অনুষ্ঠান সাজাতে রাতজেগে তাদের কাজ করে যাচ্ছে।