অরক্ষিত মাতারবাড়ী ভূমি অফিস, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

প্রকাশ:| বুধবার, ১০ আগস্ট , ২০১৬ সময় ১০:৩০ অপরাহ্ণ

মাতারবাড়ি ভূমি অফিসএ.এম হোবাইব সজীব: কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ভূমি অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম অনেকটা ভেঙ্গে পড়ার পাশা-পাশি দপ্তরটি ব্যবসায়ীক বা দালাল প্রতিষ্টান পরিণত হয়েছে। একই সাথে অনিয়ম-দুর্নীতি মাথা ছাড়া দিয়ে উঠেছে। চলছে লাগামহীন ঘুষ বাণিজ্য। তসিলদার ছাড়াও দালালদের দাপটে অসহায় মাতারবাড়ী ভূমি অফিসে আসা সেবা প্রার্থী লোকজন। ভূমি অফিসটি দীর্ঘদিন অরক্ষিত থাকলেও দেখার যেন কেউ নেই। সীমানা প্রাচীর না থাকায় দিনের পর দিন অনেকটা বেদখল হয়ে যাচ্ছে সরকারী এ প্রতিষ্টানের জায়গা এমন অভিযোগ স্থানিয়দের। অরক্ষিত থাকায় একজন দালালের যোগসাজসে বর্তমানে বাঁশ ও কাঠ ব্যবসায়ীরা ভূমি অফিসের অধিকাংশ জায়গা ব্যবহার করে যাচ্ছেন মাসিক মাসোহারা দিয়ে। ফলে ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে ভূমি অফিসের আয়তন।
এছাড়া ও বিগত কয়েক বছর ধরে ভূমি অফিস সংল্গন জায়গায় মিনি পুকুর বাৎসারিক লাগিয়াত করে আসলেও এসব টাকা সরকারী কোষাগারে জমা না করে তসিলদার নিজে পকেট ভারী করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ভূমি অফিসারে পুরোনু ভবনটি বর্তমানে ফার্নিচারের দোকানে রুপান্তরিত হয়েছে। এবং আঙ্গিনা বাঁশের স্তুফ দেখা গেছে চোখে পড়ার মত। নতুন ভবনের ২য় তলায় ভূমি কর্মকর্তার অফিসে ফাইল দেখাভাল করছেন দায়িত্বরত পিয়ন আলম। তার সাথে কথা হলে তিনি প্রতিবেদককে গ্রাহক মনে করে বলেন তসিলদার ফিরোজ আহমদ মাসে চার/ পাঁচ দিন উপস্থিত থাকেন। আর তার অনুপস্থিতিতে তিনি অফিস চালিয়ে যান। আর কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকলে মোবাইলে জানালে আসেন।
অভিযোগ পাওয়া গেছে তসিলদারের চিহ্নিত দালালদের যোগসাজসে স্থানিয় অহিদ মিস্ত্রিকে বাৎসারিক মৌখিক ত্রিশ হাজার টাকা চুক্তি করে পুরাতন ভূমি অফিস ও আঙ্গিনা বাঁশ ব্যবসায়ী নুরু প্রকাশ নুরগা ও মাতম্বারকে ভাড়া দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান, তহশীলদার ফিরোজ আহমদ সাপ্তাহে একদিন মাসে চারদিন এভাবে অফিস করলে ও নিরব কর্তৃপক্ষ।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাতারবাড়ী ভূমি অফিসের তহশীলদার ফিরোজ আহমদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে তিনি বলেন আমি যোগদান করার সময় বাঁশ রাখার স্তুপ থাকায় আমি নিষেধ করি নাই। তিনি অনিয়ম হচ্ছেনা বলেও জানান।
অরক্ষিত ভূমি অফিস বিষয়ে জানতে বিভীষণ কান্তি দাশ সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহেশখালী বলেন, অরক্ষিত ভূমি অফিস একটি চক্র ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে শুনেছি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
চলবে…