অরক্ষিত বেড়িবাঁধ, ঝুঁকিতে তিন হাজার পরিবার

প্রকাশ:| সোমবার, ২৮ ডিসেম্বর , ২০১৫ সময় ০৯:১৬ অপরাহ্ণ

অনাবাদি হয়ে পড়ে আছে শতশত একর ফসলি জমি

অরক্ষিত বেড়িবাঁধ, ঝুঁকিপূতে তিন হাজার পরিবারলিটন কুতুবী, কুতুবদিয়া, কক্সবাজার::

৯১’ঘর্নিঝড়ের পর থেকে দুই যুগ অতিবাহিত হয়ে গেলেও স্থায়ী বসতঘর তৈরী করতে পারেনি জোহরা বেগম (৬৫) । বছরের পর বছর স্থায়ীভাবে বসতঘর তৈরী করার স্বপ্ন দেখলেও অর্থের অভাবে তা সম্ভব হয়নি। অর্থ এবং সাগরের জোয়ারের বিরোধিতার কারণে রাস্তার পাশে মাঁচাঘর তৈরী করে দিন গুনে রাত পোহাই। বৈরী আবহাওয়া শুরু হলে কথা নেই। সহায় সম্বল নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে চলে যেতে হয়। দীর্ঘ দুই যুগ ধরে জোহরা বেগমের জীবনকাল এভাবে চলে আসছে। ৯১’সনের প্রলয়কারী ঘূর্নিঝড়ে জোহরা বেগমের বসতঘর জোয়ারের পানিতে ভেসে যায়। তার সাথে জোয়ারে ভেসে যায় স্বামী আবদুল মোতালেব, ছেলে রাসেদ, কন্যা হোসনে আরা। দুই যুগ অতিবাহিত হয়ে গেলেও স্বজনদের ফিরে পায়নি জোহরা বেগম। আবেগ আফ্লুত হয়ে ভেঙে পড়ে এ কথাগুলো বলেছে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া দ্বীপের উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের চর ধুরুংয়ের বাসিন্দা জোহরা বেগম।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৭১ পোল্ডারের কুতুবদিয়া দ্বীপের উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের ৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভাঙা থাকায় জোয়ার ভাটা বসছে প্রতিনিয়তই। বিগত ৪ বছর ধরে আকবরবলী ঘাট, পূর্ব চর ধুরুং, পশ্চিম চর ধুরুং, কাইছারপাড়া, চুল্লারপাড়া, ফয়জনিরবাপের পাড়া এলাকায় ৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বিলীন থাকায় এ এলাকার তিন হাজার পরিবার মারাতœক ঝুঁকিতে বসবাস করছে বলে দাবী তোলেন উত্তর ধুরুং ইউপির আ’লীগের সম্ভাব্য চেয়ারম্যানপ্রার্থী মুজিবসেনা ঐক্যলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইয়াহিয়া খান কুতুবী। তিনি আরো দাবী তোলেন,গত বর্ষা মৌসুমে অমাবষ্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারের সময় একাধিকবার নি¤œচাপের ফলে উত্তর ধুরুং এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় চাষাবাদ না হওয়ায় সাধারণ খেটে খাওয়া গরীব দূূঃখী মানুষ চরম অভাব অনটনে দিন কাটাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কুতুবদিয়া সাব-ডিভিশন অফিসের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডি) নজরুল ইসলামের সাথে বেড়িবাঁধ মেরামতের ব্যাপারে কথা হলে তিনি জানান, উত্তর ধুরুং এলাকায় ভাঙন বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য নকশা ও প্রাক্কলন তৈরী করা হয়েছে। চলতি শুস্ক মৌসুমে টেন্ডার আহবান করা হবে। কুতুবদিয়া বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য অর্থ বরাদ্দ একনেকে অনুমোদন দিয়েছে। কুতুবদিয়া উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আওরঙ্গজের মাতবর বলেন, বিগত চার বছর ধরে উত্তর ধুরুং এলাকায় বেড়িবাঁধ ভাঙা থাকায় এসব এলাকায় শতশত একর ফসলি অনাবাদি হয়ে পড়ে আছে। প্রতিনিয়তই এসব জমিতে জোয়ার ভাটা বসছে। এসব এলাকার যানমাল ও মানুষের নিরাপত্তার জন্য চলতি শুস্ক মৌসুমে বেড়িবাঁধ মেরামত করার জন্য সংশ্লিষ্ট পাউবো কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান। উত্তর ধুরুং ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি অধ্যাপক শফিউল মোর্শেদ চৌধুরী জানান, জোয়ারের পানিতে ঘরবাড়ি ভেসে যাওয়ায় অর্ধশত পরিবার কুতুবদিয়া দ্বীপ চেড়ে অন্যত্রে পূর্নবাসিত হয়েছে।