অযত্ন-অবহেলায় আলেকজান বিবি !

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২৯ মে , ২০১৪ সময় ০৮:১৮ অপরাহ্ণ

ভ্রম্যমাণ প্রতিনিধি>
আলেকজান বিবি গোয়াল ঘর থেকে এক মাস পর ঘরে ঠাই পেলেও অযত্ন-অবহেলায় আছেন আলেকজান বিবি। তার পরও বললেন ‘আমার ছেলেকে মাফ করে দাও’স্ত্রীর নামে জমি লিখে না দেয়ায় গর্ভধারিনী মা এখন ভারি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নে ৮০ বছরের বৃদ্ধ মাকে গোয়াল ঘরে ফেলে রেখেছিল ছেলে। গত এক মাস ধরে অসহায় ওই বৃদ্ধার ঠাঁই হয়েছিল গোয়াল ঘরে। বৃহস্পতিবার ঘরে নিলেও অবহেলা-অযত্নে তাকে ফেলে রেখেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গত এক মাস ধরে উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের ছোটবাইশদিয়া গ্রামের আলহাজ্ব লিটন খোনার তার মা আলেকজান বিবিকে গোয়াল ঘরে ফেলে রেখেছে। স্থানীয় লোকজন লিটনের এই অমানবিক আচরণের প্রতিবাদ করায় লিটন তার মাকে নিজের ঘরে নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানেও আলেকজনকে মাটিতে বিছানা করে ফেলে রাখা হয়েছে। লিটনের স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েরা আরাম দায়ক চৌকিতে ঘুমালেও আলেকজানের কপালে রয়েছে অবহেলার বিছানা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লিটন খোনারের স্ত্রী আছিয়া বিবির নামে ২০৪ শতাংশ জমি লিখে না দেয়ায় অবহেলায় ও অযত্নে রাখা হতো ৮০ বছরের বৃদ্ধ মা আলেকজানকে। স্ত্রী আছিয়া বাধ্য করেছে তার স্বামী লিটনকে দিয়ে তার মাকে গোয়াল ঘরে রাখার জন্য। আলেকজানের স্বামী মৃত্যু বেলায়েত খোনার ১৫ বছর আগে মারা গেছে। আলেকজানের ৪ ছেলে-মেয়ে। তারা কেউ রাঙ্গাবালী না থাকায় আলেকজন তার ছেলে লিটনের কাছেই থকতো।
ছেলে লিটন খোনারের নিষ্ঠুর এই আচরণে মা আলেকজান বিবি কোন অভিযোগ না করে বলেন, ‘আমার ছেলেকে মাফ করে দাও। এ কথা বলে আর কিছুই বলতে পারেনি আলেকজান। ’
জানতে চাইলে ছোটবাইাশদিয়া গ্রামের আলহাজ্ব লিটন খোনার বলেন, ‘সব করেছে আমার বউ আছিয়া। ওর নামে জমি লিখে দেয়নি মা। তাই তাকে ঘরে উঠতে না দিয়ে গোয়ালঘরে রেখেছে। কিন্তু তখন কোন গরু-মহিষ ছিলনা। আমার মায়ের প্রতি আমার কোনও অবহেলা নেই।’
লিটনের স্ত্রী আছিয়া বিবি বলেন, ‘আমি আম্মার জমি কিনতে চাইছি। আমাকে দেয়নি। এই কারণে আম্মাকে ভালো লাগেনা।’
ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ আব্দুল ছালাম বলেন, ‘লিটন তার বৃদ্ধ মা আলেকজান বিবিকে এক মাস ধরে গোয়াল ঘরে ফেলে রেখেছে। ওই গোয়াল ঘরে গরু ও মহিষ থাকে।
এলাকাবাসী থানা পুলিশকে বিষয়টি জানালে। পুলিশ আসার আগেই লিটন তার মাকে নিজের ঘরে নিয়া যায়।’ এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনির হোসেন বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে ছিলাম। কিন্তু তখন আলেকজানকে গোয়ালঘরে পাওয়া যায়নি। তখন আলেকজান তার লেলে লিটনের ঘরে ছিল।