অভয়মিত্র মহাশ্মশানকে অনিবার্য বিপর্যযের হাত থেকে রক্ষার দাবি

প্রকাশ:| শনিবার, ২ আগস্ট , ২০১৪ সময় ০৬:৪৯ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের বলুয়ারদীঘি অভয়মিত্র মহাশ্মশানকে অনিবার্য বিপর্যযের হাত থেকে রক্ষার দাবি জানিয়েছেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এবং মানবতাবিরোধী আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত।

অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্তগণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি অবিলম্বে সিটি মেয়র এম মনজুর আলমের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন- চট্টগ্রাম মহানগরীতে বসবাসকারী কয়েক লক্ষ হিন্দু সম্প্রদায়ের একমাত্র শ্মশানভূমি অভয়মিত্র মহাশ্মশান আজ অনিবার্য বিপর্যয়ের মুখোমুখি। বছরের বেশিরভাগ সময়ে বিশেষ করে অমাবস্যা-পূর্ণিমায় এবং আষাঢ় ও শ্রাবণে শ্মশানের পূর্ব-উত্তর দিকে লাগোয়া চাক্তাই খালের জোয়ারের পানিতে শ্মশানভূমি প্রায় একহাঁটু তলিয়ে যায়। জোয়ারের পানিতে শবদাহ করার কাঠের চুল্লী, পার্বতী-সুহৃদ মাতার মন্দিরসহ নানান সমাধি সৌধও তলিয়ে যায়।

এতে একদিকে শ্মশানভূমির ধর্মীয় পবিত্রতা, অন্যদিকে পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। প্রচন্ড জোয়ারের পানির চাপে যে কোন মুহুর্তে শ্মশানের সীমানার উত্তর দিকের প্রায় ৩০০ ফুট দেয়াল ধসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী লোকজনকে অহেতুক বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। শবদাহ করা কোনভাবে সম্ভব হচ্ছে না।

অভয়মিত্র মহাশ্মশানবিবৃতিতে তিনি বলেন, এমন বিপর্যয়কর পরিস্থিতির পাশাপাশি বেশ কিছুদিন ধরে গ্যাস চুল্লীর রোলার সেফ ও ভাটি এবং দুটি কাঠের চুল্লীর একটির লোহার কাঠামো নষ্ট থাকায় তা শবদাহে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। অন্য যে কাঠের চুল্লী চালু রয়েছে তা অনতিবিলম্বে মেরামতের উদ্যোগ নেয়া না হলে যে কোন সময় অকেজো হয়ে পড়ার ব্যাপক সম্ভাবনা আছে। শ্মশানভূমিতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় শববাহী লোকেরা রাতের বেলা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। শবদেহ স্নানের জন্য সংরক্ষিত পানি অনুপ্রবেশকারীরা অবৈধভাবে নিয়ে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় সময়ে শবদেহ স্নানের ব্যাঘাত ঘটছে।

অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত উদ্ভূত পরিস্থিতিকে যথাযথ বিবেচনায় নিয়ে নগরবাসীর স্বার্থে অভয়মিত্র মহাশ্মশানকে যাবতীয় বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।