অভিযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নগর ছাত্রলীগের কঠোর হুঁশিয়ারী

প্রকাশ:| শনিবার, ২১ জানুয়ারি , ২০১৭ সময় ০৮:১২ অপরাহ্ণ

সরকারি নীতিমালা ভঙ্গ করে অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়

সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে নগরীতে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বর্ধিত ভর্তি ফি আদায় করেছে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর হয়ে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ। চট্টগ্রাম নগরীতে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভর্তির জন্য অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে তাদের প্রতি “হুঁশিয়ারী বিজ্ঞপ্তি” পাঠ কর্মসূচী পালন করেছে তারা। একই সাথে এসব বাণিজ্যিক মনোভাবের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নগরীর চারটি স্থানে অভিযোগ বাক্স স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে, শিক্ষার্থীদের মতামত ও অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানায় তারা। শনিবার দুপুরে নগরীর প্রেসক্লাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিকায়নের বিরুদ্ধে এক সমাবেশে এসব কথা জানান সংগঠনের নেতারা।
সমাবেশে ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ হুশিয়ারী বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, স্কুলের নতুন ভর্তি-পূন:ভর্তি সংক্রান্ত সরকারি নীতিমালা দেয়া হলেও নগরীর অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তা মানছে না। নিয়ম ভঙ্গ করে তারা এখনও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভর্তির অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। জেলা প্রশাসনের ম্যাজিষ্ট্রেটের অভিযান এবং ছাত্রলীগের আন্দোলনের পরও কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের বাণিজ্যিক ও দুর্নীতিপ্রবণ মনোভাব থেকে সরে আসেনি। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শীঘ্রই তাদের এই অন্যায় নিয়ম প্রত্যাহার না করলে তাদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর আন্দোলনে নামবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, চট্টগ্রাম মহানগর। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষর্থীদের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ আদায় করছে তাদের অনেকের তালিকা ইতিমধ্যেই ছাত্রলীগ সংগ্রহ করেছেন বলে জানিয়েছেন, তাদের প্রত্যেকেকে হুঁশিয়ারি পত্র পাঠানো হবে বলে ঘোষণা দেন তারা। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগগুলো জেলা প্রসাশক বরাবর পেশ করা হবে বলেও জানান তারা।
এসময় নগর ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে নগরীর চারটি স্থানে “অভিযোগ বাক্স” খোলার ঘোষণা দেন নেতারা। তারা জানান, নগরীর জামালখানের বাতিঘর, নিউমার্কেটের স্বাদ, আগ্রাবাদের জামান হোটেল ও জিইসির মোড়ের সানমার ওশান সিটিতে চারটি অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হয়েছে। এসব অভিযোগ বাক্সে শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত তথ্য প্রমাণসহ অভিযোগপত্র জমা দেয়ার আহ্বান জানান তারা। আগামী সাতদিন এ চারটি অভিযোগ বাক্স নগরীর সকল শিক্ষার্থীর জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে ঘোষণা দেন নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, জননেত্রী, বিদ্যানন্দিনী শেখ হাসিনা সরকার সবার জন্য নিরক্ষরতা-দুর্নীতি-বাণিজ্যিকায়ন মুক্ত যে শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে যে গতিশীল ধারা চালু করেছে, অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায় করা প্রতিষ্ঠানগুলো তার পরিপন্থী। এসময় সমাবেশ থেকে ইংরেজী মাধ্যমের যেসব স্কুল এখন ব্রিটিশ কারিকুলাম অনুসরণ করছে তাদের তদারকি ও নজরদারির জন্য নির্দিষ্টভাবে কোন প্রতিষ্ঠান ভূমিকা রাখবে সেই প্রশ্ন তুলেন বক্তারা। পাশাপাশি কিন্ডারগার্টেন এবং ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নজরদারী বাড়ানোসহ তাদেরকে নির্দিষ্ট নীতিমালায় আনার আহ্বন জানানো হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও সাধারন সম্পাদক নূরুল আজিম রনির পরিচালনায় সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন, এমপিওভুক্ত কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি সুযোগ সুবিধা ব্যবহার করে নিজেদের শিক্ষা কার্যক্রমকে আরো গতিশীল ও মানসম্পন্ন করার সুযোগ পেয়েছে। অথচ, এসব এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি সুযোগ সুবিধার নাম ভাঙ্গিয়ে নিজেদের বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন প্রচার করছে যা বর্তমান সরকারের শিক্ষানীতি বিরোধী।
এসময় আরো বক্তব্য রাখেন, সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান রুমি, ইয়াছিন আরাফাত কচি, জয়নাল উদ্দিন জাহেদ, নোমান চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুজন বর্মন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইরফানুল আলম জিকু, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য হাসানুল আলম সবুজ, উপ সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য এম.আর. হৃদয়, মিজানুর রহমান মিজান, শফিকুল ইসলাম পারভেজ, সহ-সম্পাদক নাদিম উদ্দিন, হৃদয় মিত্র সুমন, এহসানুল কবির ববি, সদস্য আবু সালেহ নুর রিমন, আরাফাত রুবেল, মিজানুর রহমান মিজান। উপস্থিত ছিলেন এম.ই.এস. কলেজ ছাত্রলীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ মামুন, সিটি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা আকবর হোসেন রাজন, আশেকান আউলিয়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা জিএস আমিনুল করিম, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল করিম, মহসিন কলেজ ছাত্রলীগ নেতা কাজী নাঈম প্রমুখ।