লিয়াকতের ৭০ বছর বয়সের পিতা গ্রেফতার

প্রকাশ:| সোমবার, ১৬ মে , ২০১৬ সময় ০৯:১৩ অপরাহ্ণ

বাঁশখালীবাঁশখালীর গণ্ডামারায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। অভিযানে বিদ্যুৎকেন্দ্র বিরোধীদের নেতা ‘গণ্ডমারা বসত ভিটা ও গোরস্থান রক্ষা কমিটির’ আহ্বায়ক ও বিএনপি নেতা লিয়াকত আলীর পিতা হাজী দুদু মিয়াকে (৭০) আটক করে পুলিশ।

এসময় লিয়াকতের বাড়ি থেকে দুটি দেশীয় তৈরি এলজি, চার রাউন্ড গুলি ও একটি হ্যান্ড মাইক উদ্ধার করেছে বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) হাবীবুর রহমান।

এদিকে বিকেলে থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত চলা সাঁড়াশি অভিযানে অনেকটাই পুরুষ শূণ্য হয়ে পড়েছে গণ্ডামারা। লিয়াকের বাবাকে গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে অনেকে পুলিশে সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত হলে পুলিশও ব্যাপকহারে ফাঁকা গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে। তবে এখনো লিয়াকত আলীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি বলে স্থানীয় সূত্র জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশের গুলিতে অন্তত ১৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশংকাজনক।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) হাবীবুর রহমান বলেন, ‘লিয়াকতের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সেখানে তল্লাশি করে দুটি দেশীয় তৈরি এলজি, চার রাউন্ড গুলি ও একটি হ্যান্ড মাইক উদ্ধার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লিয়াকতের বাবাকে আটক করা হয়েছে।’

তবে সেখানে সংগঠিত হওয়া উত্তেজিত জনগণকে সরাতে সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছুড়ার কথা স্বীকার করলেও কেউই গুলিবিদ্ধ হয়নি বলে দাবি করেছেন হাবীবুর রহমান। গত গত ৫ এপ্রিল বিকেলে গণ্ডামারায় কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকে কেন্দ্র করে ত্রিমুখী সংঘাতে চার গ্রামবাসী নিহতের ঘটনায় তিনটি মামলায় লিয়াকতসহ প্রায় ৬ হাজার গ্রামবাসীকে আসামি করা হয়েছে।

তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পুলিশকে প্রতিহত করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে অন্তত ১৫ গ্রামবাসী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশংকাজনক। এদের মধ্যে শামসুল ইসলাম (৫৫), বখতেয়ার (৩৮), দিদার (২৭), মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন (২৫), মো. ইলিয়াছ (২৫), শামসু (৫৫), জাহাঙ্গীর (৪২)।

স্থানীয়রা জানান, চার ভাগে ভাগ হয়ে পুরো এলাকাজুড়ে প্রায় চার শতাধিক পুলিশ সদস্য সেখানে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে বিকেল থেকে। এরআগে গতকাল ১৩টি গাড়িতে করে প্রায় ১৩০ জন পুলিশ সদস্য বড়ঘোনার বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকাসহ পুরো ইউনিয়নে টহল দেয়। তবে তিন মামলায় প্রায় ছয় হাজারের অধিক আসামি সেখানে থাকলেও কাউকে গতকাল আটক করেনি পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গত ৫ এপ্রিল বিকেলে গণ্ডামারায় কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকে কেন্দ্র করে ত্রিমুখী সংঘাতে চার গ্রামবাসী নিহত হন। আহত হন শত শত গ্রামবাসী। এঘটনার পর আন্দোলনের মুখে সেই সময়ে গ্রেপ্তার ১৩ জনকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় প্রশাসন। এমনকি নিহত চারজনের পরিবারকে মোট ২০ লাখ টাকা করে এবং আহতদেরসহ মোট ৮৭ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা করা হয়। তবে গত সপ্তাহে জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের পক্ষে প্রতিবেদন দিয়ে আন্দোলনকারীদের নেতা লিয়াকত আলীকে উস্কানিদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন।

আন্দোলনকারীদের দাবি- সহিংসতার ঘটনার পর থেকে পুলিশ গণ্ডামারায় যেতে সাহস করেনি। তাই এখন পরিকল্পিতভাবে অভিযানের পরিকল্পনা করছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দোহাই দিয়ে গত সপ্তাহে নোটিশ দিয়ে গণ্ডামারা ইউনিয়নের লাইসেন্স করা সব অস্ত্র জমা নিয়ে ফেলে বাঁশখালী থানা পুলিশ। এরপর এক সপ্তাহের বেশি সময় অভিযানের পরিকল্পনা করে আসছে প্রশাসন। আজকে পুলিশ শুধুমাত্র টহল দিলেও যে কোন মুহুর্তে অভিযানের আশংকা করছেন আন্দোলনকারীরা।

এদিকে লিয়াকত আলীর বাবা হাজী দুদু মিয়াকে গ্রেপ্তার ও গ্রামবাসীর ওপর গুলিবিদ্ধ করার প্রতিবাদ জানিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগরস্থ বাঁশখালী ছাত্র ফোরামের আহ্বায়ক শাহনেওয়াজ চৌধুরী।