অভিযানস্থলের কাছে বোমা বিস্ফোরণে নিহত ২, আহত ৩৫

প্রকাশ:| শনিবার, ২৫ মার্চ , ২০১৭ সময় ১০:৫৬ অপরাহ্ণ

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শিববাড়ি এলাকায় জঙ্গিবিরোধী অভিযানস্থলের বাইরে বোমা বিস্ফোরণে পুলিশের একজন পরিদর্শক ও এক যুবক নিহত হয়েছেন। ৠাব-পুলিশের সদস্য এবং একজন স্থানীয় সাংবাদিকসহ আহত আরও ৩৫ জনকে ভর্তি করা হয়েছে সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তাদের মধ্যে আরও ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ওই এলাকায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চলাকালেই শনিবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় বাইরের রাস্তায় বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। আহত ৩৮ জনকে সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর পুলিশের কোর্ট পরিদর্শক কাওসার আহমেদ ও ওয়াহিদুল ইসলাম অপু (২৬) নামক এক যুবককে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। নিহত অপু সিলেট মহানগর ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন।

শনিবার সকাল থেকে শিববাড়ির ‘আতিয়া মহল’ নামক বাড়ির জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালাচ্ছে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ও পুলিশের সোয়াট সদস্যদের সমন্বয়ে যৌথ বাহিনী।

সন্ধ্যায় আতিয়া মহলের অদূরে অন্য একটি বাড়িতে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন যৌথ বাহিনীর কর্মকর্তারা। এরপর সাংবাদিকসহ অন্যরা বের হয়ে সামনে এগোনোর সময় বোমা বিস্ফোরণের খবর আসে।

আতিয়া মহল থেকে ৩০০ গজ উত্তরের রাস্তায় এ বোমার বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। আহতদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় একটি দৈনিকের সাংবাদিক আজমল হোসেন (৩০), সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সিটি এসবি’র ওসি (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম, দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি হারুনুর রশিদ, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রলীগের উপ-পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফাহিম এবং উৎসুক জনতার মধ্যে রিমন, নাজিম, রাসেল, ওহেদুল, ইসলাম আহমেদ, নুরুল আলম, বিপ্লব, হোসেন আবদুর রহিম, ফখরউদ্দিন, মামুন, রহীম, মোস্তাক, ফারুক মিয়া, সালাহউদ্দীনসহ
ও কয়েকজন পথচারী।

আহতদের মধ্যে অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতে ওসি (তদন্ত) মনিরুল ইসলামকে সিলেটের ইবনে সিনা হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, যৌথ বাহিনীর ব্রিফিং শেষে সবাই ওই রাস্তা ধরে ফেরার সময় প্রথম বোমাটি বিস্ফোরিত হয়। সে সময় ৠাব-পুলিশ সদস্যরা অন্য একটি অবিস্ফোরিত বোমা দেখতে পান। নিরাপদ দূরত্বে সরানোর সময় ওই বোমাটিও বিস্ফোরিত হওয়ায় আহতের সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়।

এদিকে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালানো সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ও পুলিশের সোয়াট সদস্যরা এখনো আতিয়া মহলের ভেতর থেকে বের হয়ে আসেননি। শনিবার সকাল ৮টা ২৮ মিনিটে লে. কর্নেল ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বে ‘অপারেশন টোয়ালাইট’ নামের অভিযানটি শুরু হয়েছে।

৭৮ জন বেসামরিক ব্যক্তিকে উদ্ধারের খবর জানিয়ে ১৭ পদাতিক ডিভিশনের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান ব্রিফিংয়ে জানান, তারা ভালো আছেন, সুস্থ আছেন।

তিনি জানান, ‘৫তলা ও ৪তলা বিশিষ্ট আতিয়া মহলের দু’টি ভবনের ৩০টি ফ্ল্যাটে ১৫০টি কক্ষ রয়েছে। এসব কক্ষ, সিঁড়িঘর ও আনাচে কানাচে বিস্ফোরক ছড়ানো-ছিটানো রয়েছে। জঙ্গিরা বিস্ফোরক দিয়ে কমান্ডোদের প্রবেশে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে। এজন্য অপারেশনটি অনেক সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হচ্ছে। তাই অনেক সময় লাগছে’।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফ্তরের (আইএসপিআর)  পরিচালক লে. কর্নেল রাশিদুল হাসানও এর আগে বিকেলে বাংলানিউজকে জানান, সকাল ৯টা ৫০ মিনিট থেকে বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে আতিয়া মহলের ৫তলা ও ৪তলা দু’টি ভবনের সবক’টি ফ্ল্যাটে জিম্মি থাকা ২৮টি পরিবারের ৭৮ জনকে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছে যৌথ বাহিনী। তাদের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ, ২৭ জন নারী ও ২১ শিশু রয়েছে।

এর আগে শুক্রবার (২৪ মার্চ) ভোর থেকে উস্তার মিয়ার বাড়ি আতিয়া মহল ঘেরাও করে রাখে পুলিশ। ভেতর থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা বিস্ফোরণ ও গুলি ছুড়লে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানায় পুলিশ।

এতে জঙ্গিরা সাড়া না দেওয়ায় সোয়াট টিমের সঙ্গে অভিযানে যোগ দেয় সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো ইউনিট। শুক্রবার সারারাত ধরে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা বাড়িটি ও আশপাশের এলাকা ঘিরে রেখে অভিযানের প্রস্তুতি নেন।

পুলিশের ধারণা, ‘মর্জিনা’ নামে কোড ব্যবহার করে ওই বাড়িটিতে অবস্থান নিয়েছেন জঙ্গিরা। ভেতরে নব্য জেএমবি নেতা মুছা থাকতে পারেন বলেও ধারণা করছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।