অভিমানী সন্তানের শোকে মায়ের আত্মহনন

প্রকাশ:| সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর , ২০১৬ সময় ০৫:২০ অপরাহ্ণ

আত্মহত্যাঠিকমত লেখাপড়া না করায় মাঝে মাঝে গৃহশিক্ষকের হাতে মার খেতো অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সুমন মণ্ডল (১৩)। গতকাল রোববার বিকালে দুষ্টু ছেলেটাকে শাসানোর জন্য তার মাও মারধর করেন। সেই অভিমানে রাত ৮টার দিকে ঘরের মধ্যে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সুমন। আর সেই শোক সইতে না পেরে সুমনের মা চন্দনা মণ্ডল ( ৫৫) বাড়ির পাশে একটি গাছের সঙ্গে শাড়ির আঁচল পেঁচিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেন।

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রাতে মা ও ছেলের লাশ নামানো হয়। আজ সোমবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ঘটনাটি শোনার সঙ্গে সঙ্গেই নিজেকে ধরে রাখতে পারছেন না স্বজন, প্রতিবেশী আর এলাকাবাসী। আর গৃহকর্তা মনোরঞ্জন মণ্ডল এখন পাগল প্রায়।

কাদাকাটি ইউপি সদস্য সঞ্জয় কুমার জানান, পড়ালেখা না করায় সুমনকে মারধর করেছিলেন তার মা চন্দনা। এর কিছুক্ষন পর সে বাড়ির কাছে একটি বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে যায়। সেখান থেকে ফিরে এসে সবার অজান্তে ঘরের আড়ার সঙ্গে চাদর পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে সুমন।

তিনি জানান, কিছু সময় পর সুমনের মা চন্দনা রানী ঘরে ঢুকতে গিয়ে অন্ধকার দেখেন। লাইট জ্বালিয়েই দেখতে পান নিজের ছেলের ঝুলন্ত লাশ।

সঞ্জয় কুমার বলেন, মায়ের ডাকাডাকিতে পাড়ার সবাই ছুটে আসে। স্থানীয় চিকিৎসক বিনয় কুমার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

‘হায়রে কেন মারলাম আমার সোনাটারে’ বিলাপ করতে করতে চন্দনা সকলের চোখের আড়ালে চলে যায়। এর পর চন্দনা রানীকে বাড়ির পাশের একটি গাছে ঝুলতে দেখেন স্বজনরা।

আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম রহমান জানান, সোমবার সকালে ছেলে ও মায়ের মরদেহ উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।