অবৈধ অস্ত্র দরকার অশান্তির জন্য

প্রকাশ:| বুধবার, ৩০ নভেম্বর , ২০১৬ সময় ১০:০৩ অপরাহ্ণ

মো: আব্দুল মালেক সুমন:
নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, অবৈধ অস্ত্র দরকার অশান্তির জন্য। আপনারা শান্তি চান বলে অস্ত্র সমর্পণ করেছেন। অতীতে পার্বত্য চট্টগ্রামে অনেক রক্ত ঝরেছে। অনেক মায়ের কোল খালি হয়েছে। অনেক অশান্তি হয়েছে। সেই অশান্তির অমানিশায় আমরা আর ফিরে যেতে চাই না। আজ বুধবার রাঙ্গামাটিতে আয়োজিত এক বিশাল গণসংবর্ধনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সন্তু লারমার উদ্দেশ্যে এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, পার্বত্য শান্তিচুক্তির পর গত ১৯ বছরে পার্বত্য চট্টগ্রামে কি হয়েছে এবং তার আগে কি ছিল তা মিলিয়ে দেখুন। যোগাযোগ, তথ্য-প্রযুক্তিসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে আজ ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সন্তু লারমাকে উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আপনি ছিলেন দুর্গম পাহাড়ে অনেক কষ্টে। এখন স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকাবাহী গাড়িতে চড়েন। এসব হয়েছে শেখ হাসিনার আন্তরিকতার ফলে, আপনাকে সম্মান করেছেন বলে। তাই শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, পার্বত্য শান্তিচুক্তি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। এজন্য আন্দোলন দরকার নেই। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় ছিলেন বলেই পার্বত্য শান্তিচুক্তি হয়েছে। এটা যেন কেউ ভূলে না যান। শান্তিচুক্তি আমরা করেছি। বিএনপি করে নাই। চুক্তি যারা করেছে, বাস্তবায়ন করবেও তারা। অনেকে তো আছে, মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশী দেখায়। কিন্তু বাস্তবে তারা কিছুই করে না। পাহাড়ে শান্তিচুক্তির শান্তির পারাবত উড়িয়েছিলেন শেখ হাসিনা। তাই এখানকার পাহাড়ি বাঙালি সবার আপনজন তিনি।
পার্বত্য শান্তিচুক্তির অতীতের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে সন্তু লারমার উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনার বার্তা নিয়ে খাগড়াছড়ির সেই দুর্গম দুদুকছড়িতে গিয়ে আপনার সঙ্গে প্রথম দেখা করেছিলাম আমি। আর দুই দিন বাদে এই শান্তিচুক্তির ১৯তম বর্ষপূর্তি। পার্বত্য শান্তিচুক্তি রাতারাতি হয়নি। এজন্য অনেক সাহসিকতা ভূমিকা নিতে হয়েছে। তার আগের সরকারগুলো পাহাড়ে শান্তির নামে বারবার ধোকা দিয়ে প্রতারণা করেছিল। যা করেছে সব লোক দেখানো। তাদের আন্তরিকতা থাকলে অনেক আগে এখানে শান্তি প্রতিষ্ঠা হতো। শেখ হাসিনার আন্তরিকতা, সদিচ্ছা ছিল বলেই এই পার্বত্য শান্তিচুক্তি করেছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে আরও অনেক সমস্যা আছে। এগুলো সমাধানের পথ খুঁজছি। সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম এসেছি। আমরা কথা দিয়েছি, শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন করব। কোনো আন্দোলন করে অশান্তি সৃষ্টি করা ঠিক হবে না।
ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, খুব শিগগির রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর সেতু নির্মাণ, রাঙ্গামাটি-মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়ক এবং রাঙ্গামাটি-রাজস্থলী-বান্দরবান সড়ক উন্নয়ন কাজ শুরু হবে। নানিয়ারচর সেতু নির্মাণ কাজ প্রক্রিয়াধীন। জানুয়ারিতেই কাজ শুরু হবে। রাজস্থলী-বিলাইছড়ি-জুরাছড়ি-বরকল-ঠেগামুখ ১৩০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ কাজ চলছে। কর্ণফুলি পেপার মিল যাতে ভালোভাবে চলতে পারে সেই উদ্যোগ নেয়া হবে।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় ওবায়দুল কাদেরকে গণসংবর্ধনা দিতে এই সমাবেশের আয়োজন করে জেলা আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন। সকাল ১০টায় রাঙ্গামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য দীপংকর তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, দলের চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম ও রাঙ্গামাটির সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ফিরোজা বেগম চিনু। এছাড়া জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমাসহ জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মুছা মাতব্বর।