অবৈধভাবে বালি উত্তোলন রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর , ২০১৫ সময় ০৯:১৬ অপরাহ্ণ

মহেশখালীএ.এম হোবাইব সজীব: মহেশখালীতে পাহাড় কাটায় ও ভাঙ্গায় জেগে উঠা বালি মহাল ইজারা না হওয়ায় সরকার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। উপজেলার কালারমারছড়ায় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে দখলে নিয়ে বালু লুটের মহোৎসবে মেতে উঠেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকতাদের নজরদারী না থাকায় তারা দিগুন উৎসাহিত হয়ে বালূ বিক্রির মহোৎসবে মেতে উঠেছে বলে স্থানিয় লোকজন অভিযোগ করেছেন। জড়িতরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বালু মহাল গুলো নিয়ন্ত্রনে রেখে প্রতিমাসে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এতে করে সরকার হারাচ্ছে প্রতিবছর বিপুল অঙ্কের রাজস্ব। বর্তমানে মহেশখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জড়িতরা ছড়াখাল এবং বিভিন্ন ফসলি জমি থেকে টপসয়েল মাটিসহ অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখায় সংশ্লিষ্ট এলাকার জনবসতি ও আবাদি জমি ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। এ অবস্থার কারনে স্থানীয় লোকজনের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, বর্তমানে পাহাড় কাটা ও ভেঙ্গে ধসে পড়া, পাহাড় কেটে পানের বরজ তৈরি, অবৈধ ভাবে জনবসতি স্থাপনের ফলে বেশ কয়েকটি বালুমহাল সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার ৮ টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার মধ্যে ৫ টি ইউনিয়ন পাহাড় বেষ্টিত সব ইউনিয়নের প্রাকৃতিক সৃষ্টি বালুমহাল গুলি সরকারী ইজারা আওতায় নেওয়া হলে বছরের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় হবে বলে সচেতন লোকজন জানান। পাহাড় কাটার কারনে একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে অপরদিকে সৃষ্টি বালি মহাল গুলি জনসাধারনে চলাচলের পথে প্রতিবন্ধিকতার সৃষ্টি করছে। অপরদিকে কালারমারছড়ার-চালিয়াতলী বিশাল বালি মহাল প্রভাবশালীরা দখলে নিয়ে ওখানে চালাচ্ছে বালুু লুটের মহোৎসব।

জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এসব বালি মাতারবাড়ী ইউনিয়নে ও পাশ্ববর্তী চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নে পাচার করছে বলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে। উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের চালিয়াতলী ১নং ওয়ার্ড (গোলাম কুদ্দুস চৌধুরীর) কামার বাড়ির সংলগ্ন মৌজার বালি মহল থেকে পিকআপ (ডাম্পার) যোগে পাচার করছে ওই সব ভূমিদস্যুরা। তারা হলেন, কালারমারছড়া চালিয়াতলী এলাকার মোঃ নছিমের পুত্র বদি আলম, মকছুদের পুত্র শাহাদাত কবির, মকছুদের ভাইফো ইসমাইলসহ মাহমুদুল করিম। প্রতিদিন শত শত পিক আপ (ডাম্পার) যোগে বালি মাতারবাড়ী-পাশ্ববর্তী বদরখালী ইউনিয়নে বিভিন্ন নিচু জায়গা জলাশয়,পুকুর, খাল ভরাট করতে পাচার করে আসছে ওই সব ভূমিদস্যুরা। দিবালোকে মহেশখালী সেতু দিয়ে বদরখালীতে পাচার হচ্ছে শত শত পিক আপ বালি। সরকারী বালু মহাল থেকে ইজারা ছাড়া বালি উত্তোলন সরকারী ভাবে নিষিদ্ধ থাকলেও মানা হচ্ছেনা এসব নিষেধ। এসব প্রভাবশালীদের নিকট থেকে বালি মহাল গুলি উদ্ধার করে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রের মাধ্যমে ইজারার ব্যবস্থা করা হলে সরকারের রাজস্ব বাড়বে। স্থানিয় লোকজন বলেন, কালারমারছড়া চালিয়াতলী বালি মহাল থেকে প্রভাবশালীরা বালি বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আয় করে নিজের পকেট ভারী করে। যার ফলে সরকার প্রচুর পরিমানে রাজস্ব হারাচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হলে মহেশখালী উপজেলা নিবার্হী অফিসার মোঃ আবুল কালাম জানান, পরিবেশ ধবংসকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায়আনা হবে।


আরোও সংবাদ