অবিশ্বাস্য! অসাধারণ! অভূতপূর্ব! ক্রিকেট ইতিহাসে জোহানেসবার্গ

প্রকাশ:| রবিবার, ২২ ডিসেম্বর , ২০১৩ সময় ১১:১৭ অপরাহ্ণ

কখনো ড্র হয়ে যেতে পারে জয়ের চেয়েও বেশী কিছু, তখন শিরনামটা এমন হলে সবাই অনুধাবন করেতে পারে কি হলো…
অবিশ্বাস্য! অসাধারণ! অভূতপূর্ব!
জোহানেসবার্গ টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকা জিতলে ম্যাচ রিপোর্ট শুরু করার পরিকল্পনা ছিল উল্লিখিত শব্দত্রয়ী দিয়েই।

দক্ষিণ আফ্রিকা খুব কাছে এসেও ছুঁতে পারল না আরাধ্য বিজয়স্তম্ভ। তবুও কি ম্যাচটিকে অবিশ্বাস্য বা অসাধারণ কিংবা অভূতপূর্ব বলা যায় না? ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা কেউই না জিতলেও জয়টা হয়েছে মূলত ক্রিকেটেরই। সুনির্দিষ্টভাবে বললে, এ জয় টেস্ট ক্রিকেটের! টি-টোয়েন্টির এ যুগে হারাতে বসা টেস্টের সেই চিরায়ত রোমাঞ্চ সূর্যমুখী ফুলের মতো ফুটে উঠেছে ওয়ান্ডারার্সের সবুজ ময়দানে।

ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার এই টেস্টে কি ছিল না? পরতে পরতে উত্তেজনা আর রোমাঞ্চের শিহরণ! শেষ দিনের চা-বিরতির পর স্নায়ুচাপের তোড়ে হূদস্পন্দন তো বন্ধ হওয়ার জোগাড়! দুই দলের খেলোয়াড়-সমর্থকেরা হয়তো এ সময় বারবার বলে উঠেছেন, ‘উফ! এত্ত টেনশন নেওয়া যায় না!’

ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক কোনটি? উভয় ইনিংসে কোহলির অনবদ্য ব্যাটিং, অজিঙ্কা রাহানের ১৫৩ রানের দৃষ্টিনন্দন ইনিংস? ফিল্যান্ডারের দুর্দান্ত বোলিং? নাকি ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসে ফ্যাফ ডু প্লেসিস ও এবি ডি ভিলিয়ার্সের কাব্যময় দুটি শতক? এগুলো সবই হয়তো ম্যাচটির গায়ে ক্ষণে ক্ষণে রং ছড়িয়েছে। তবে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেছে ডু প্লেসিসের ওই রান আউটটিই। মিড অফ থেকে রাহানের সরাসরি থ্রোতে উইকেট ছত্রখান হওয়ার আগ পর্যন্ত ম্যাচটি যে দুলছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরেই।

১৩২.৫ ওভার। দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ তখন ৬ উইকেটে ৪৪২। খেলা বাকি রয়েছে ১৯ বল। প্রয়োজন ১৮ রান। টি-টোয়েন্টির অভিজ্ঞতা রয়েছে উভয় দলের খেলোয়াড়েরই। এ অবস্থায় ১৯ বলে ১৮ অসম্ভব কিছু? চরম সাসপেন্স যখন ভর করেছে ম্যাচের কাঁধে। ঠিক তখনই দারুণ ক্লাইমেক্স!

রানআউটে থেমে গেলে ডু প্লেসিসের কাব্যময় ইনিংসটির প্রাণ। সঙ্গে ধূসর হলো দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের স্বপ্নও। এরপর সামি ও জহির খানের পরপর দুটি ওভার মেডেন হওয়ার পর পুরো দিনের উত্তেজনা থিতিয়ে এল ওয়ান্ডারার্সের গ্যালারিতে। আর ঝুঁকি নিতে চাইল না প্রোটিয়ারা!

যারা প্রায় দুটো দিন লড়ল এক অসম্ভবকে সম্ভব করতে। পরাজয় নয়, ড্র নয় বরং জয়ের জন্য শুরু থেকে খেলার পরও একদম অন্তিম মুহূর্তে কেন নুইয়ে পড়ল দক্ষিণ আফ্রিকা? এ প্রশ্ন বহুদিনই ঘুরবে জোহানেসবার্গের বাতাসে।

চতুর্থ দিন শেষে ভারতের ক্রিকেট বিজ্ঞজনেরা বলেছিলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট ড্র করে ফেললে সেটাই নাকি হবে ভারতের পরাজয়! চতুর্থ ইনিংসে ৪৫৮ রানের লক্ষ্য দিয়ে জিততে না পারাকে কী বলা যায়? ‘নৈতিক পরাজয়’? আপাতত জয়-পরাজয় নয়; বরং এমন একটি রোমাঞ্চকর টেস্ট ম্যাচ উপহার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ দেওয়া যেতে পারে উভয় দলকেই।>>সূত্র প্রথম আলো.কম