অবশেষে সমঝোতা, বেইলআউট পাচ্ছে গ্রিস

প্রকাশ:| সোমবার, ১৩ জুলাই , ২০১৫ সময় ১০:০৩ অপরাহ্ণ

স্নায়ুক্ষয়ী উত্তেজনা আর রাতভর আলোচনার পর দেউলিয়াত্বের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাওয়া গ্রিসকে তৃতীয় দফায় ঋণ দিতে সমঝোতায় পৌঁছেছে ইউরোজোনের দাতারা।

আর এর মধ্যে দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইতিহাসের অন্যতম গভীর এই সঙ্কট থেকে উত্তরণের পথ পাওয়া গেছে; একক মুদ্রা ব্যবহারকারী ১৯ দেশের ইউরো পরিবার থেকে গ্রিসের ছিটকে পড়াও আপাতত ঠেকানো গেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান জ্যঁ-ক্ল ইয়াঙ্কার।

গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপ্রাস বলেছেন, ‘কঠিন এক লড়াইয়ের’ পর তার দেশ বেইল আউট ও ঋণ পুনর্গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পেরেছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যেসব সংস্কারের শর্তে ইউরোজোনের দাতারা নতুন করে টাকা দিতে রাজি হয়েছে, তা বুধবারের মধ্যে গ্রিসের পার্লামেন্টে পাস করাতে হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক বিবৃতিতে বলা হয়, নতুন সমঝোতার আওতায় তিন বছরে ৮৬ বিলিয়ন ডলার পাবে গ্রিস।

তবে এজন্য জার্মানি নেতৃত্বাধীন ঋণদাতা মোড়লদের যেসব শর্ত গ্রিসকে পূরণ করতে হবে, তাতে বামপন্থি সিপ্রাসের সরকারকে অনেক বেশি চাপে থাকতে হবে, জনগণের ক্ষোভও সামাল দিতে হবে বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়।

২০১০ সাল থেকে ইউরোপীয় কমিশন, ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক ও আইএমএফের কাছ থেকে দুই দফায় প্রায় ২৪০ বিলিয়ন ইউরো ঋণ নেয় গ্রিস। তবে ওই টাকার জন্য পেনশন, বেতন ও সরকারি সেবায় কাটছাঁটসহ কঠিন কৃচ্ছ্বতার শর্ত মেনে নিতে হয় গ্রিসের জনগণকে।

গ্রিসকে দেওয়া ইউরোজোনের দ্বিতীয় বেইল আউটের মেয়াদ শেষ হয় গত ৩০ জুন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে নেওয়া ঋণের ১৬০ কোটি (১ দশমিক ছয় বিলিয়ন) ইউরো পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় একই দিনে খেলাপি হয়ে যায় গ্রিস।

নতুন করে সহায়তার জন্য (বেইল আউট) গ্রিসকে কর বাড়ানোর পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক ব্যয় কমানোসহ কঠিন আর্থিক পুনর্গঠনের শর্ত দেয় ইউরোজোন। ‘মোড়লদের’ এসব কঠিন শর্তের বিরোধিতা করে ক্ষমতায় আসা বামপন্থি সিরিজা পার্টি বিষয়টি গণভোটে দেয় এবং রোববার ৬১ শতাংশ ভোটার দাতাদের শর্ত প্রত্যাখ্যান করে ‘না’ ভোট দেয়।

গ্রিসের গণভোটের ‘অপ্রত্যাশিত’ ফলাফলে কার্যত হতভম্ভ ঋণদাতারা বৈঠক ডাকলে গ্রিস নতুন একটি প্রস্তাব তাদের সামনে তুলে ধরে, যাতে বিভিন্ন খাতে কর বাড়ানো, ভর্তুকি ও পেনশনে কাটছাঁট এবং বিরাষ্ট্রীকরণের পরিকল্পনার কথা বলা হয়।

এদিকে হাতে যথেষ্ট টাকা না থাকায় গ্রিসের ব্যাংকগুলো গত দুই সপ্তাহে ধরে বন্ধ। গত ২৮ জুন থেকে এটিএম বুথেও দিনে ৬০ ইউরোর বেশি তুলতে দেওয়া হচ্ছে না।

এই পরিস্থিতিতে নতুন করে ঋণ না পেলে গ্রিসকে ইউরোজোন থেকে বের হয়ে যেতে হতে পারে বলে আলোচনা শুরু হয়, যাকে সংক্ষেপে বলা হতে থাকে ‘গ্রিক্সিট’। ইউরোজোনের সামনে এই বড় ধরনের ধাক্কার শঙ্কায় পড়তে থাকে শেয়ার সূচক।

সংকট উত্তরণে গ্রিসের প্রস্তাব নিয়ে ব্রাসেলসে জরুরি বৈঠকে বসেন ইউরোজনের নেতারা। রোববার রাতভর আলোচনার পর আসে সমঝোতার সুখবর।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ডোনাল্ড টাস্ক এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গ্রিসকে বেইল আউট দেওয়ার বিষয়ে ইউরোপের নেতারা ‘নীতিগতভাবে সম্মত’ হয়েছেন।

“অন্যভাবে বললে এর অর্থ গ্রিসকে সমর্থন দিয়ে যাওয়া,” বলেন তিনি।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান জ্যঁ-ক্ল ইয়াঙ্কার বলেন, “গ্রিক্সিট (গ্রিক এক্সিট) হচ্ছে না।”