অবশেষে ক্রীড়া পরিষদে বিসিবি’র চিঠি!

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৬ আগস্ট , ২০১৩ সময় ০৫:৫৬ অপরাহ্ণ

স্পোর্টস রিপোর্টার: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)’র নির্বাচন চেয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)কে চিঠি দেয়া a href=”http://www.newschittagong24.com/wp-content/uploads/2013/07/বিসিবি.jpg”>বিসিবিহয়েছে কিনা তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। যদিও বিসিবি’র ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন সুজন নিশ্চিত করেছেন গতকালই চিঠি দেয়া হয়েছে এনএসসিকে। অন্যদিকে এনএসসি’র ক্রীড়া পরিচালক হাইয়ুল কাইয়ুম বলেছেন তারা এখনও সেই চিঠি তাদের হাতে পাননি। তিনি বলেন, ‘আসলে আমরা এখনও বিসিবি’র নির্বাচন চেয়ে যে চিঠি তা হাতে পাইনি। আমরা হয়তো বুধবার অফিস খোলার পর সেই চিঠি পাবো।’ চিঠি পাওয়ার পর তাদের নির্বাচনী কাজ শুরু করতে কত সময় লাগবে সেই প্রসঙ্গে বলেন, ‘আগেতো চিঠি হাতে পাই। তারপর সেখানে দেখবো কি ভাষায় কি লেখা হয়েছে? আর ঈদের আগে একদিন অফিস করা যাবে তাই বুঝতেই পারছেন ঈদের পর ছাড়া আমাদের কিছুই করার নেই।’ তবে বিসিবি’র সিইও বলেন, ‘আমরা চিঠি দিয়েছি তবে এটা সত্য যে ঈদের আগে চিঠি নিয়ে কিছুই হচ্ছে না।’
জানা যায় বিসিবি এই চিঠিটি দিয়েছে এনএসসি’র চেয়ারম্যান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকারের বরাবর। সেই কারণেই চিঠিটি মন্ত্রীর হাত হয়ে যাবে এনএসসিতে। চিঠিটি নিয়ম অনুযায়ী এনএসসি’র সচিবের কাছে যাওয়ার কথা থাকলেও বোর্ড সভাপতি চিঠিটি সভাপতি বরাবরই পাঠিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বিসিবি’র দায়িত্বশীল একটি সূত্র।
অন্যদিকে বিসিবি’র নির্বাচন চেয়ে চিঠি প্রসঙ্গে সাবেক এক বোর্ড পরিচালক বলেন, ‘হায় চিঠি!, কি যে হচ্ছে তা এই এডহক কমিটিই বলতে পারে। বিসিবি নির্বাচন চেয়ে চিঠি দিতে এত কেন দেরি করছে আর কেনই বা চিঠি দেয়া নিয়ে লুকোচুরি করছে বুঝতে পারছি না।’
ওদিকে গুঞ্জন উঠেছে সোমবারই বিসিবি কঠোর গোপনীয়তায় এনএসসিকে চিঠি পাঠিয়েছে। এ নিয়ে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। তবে বিষয়ে সিইও সুজন বলেন, ‘এটা সত্য নয়, আসলে আমরা সোমবার কোন চিঠি পাঠাইনি। আমরা গতকালই চিঠি দিয়েছি।’ তবে চিঠিতে বিসিবি’র নির্বাচন আয়োজন করতে কোন ধরনের সময় উল্লেখ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, এটা সাধারণ একটা চিঠি, নির্বাচন আয়োজন করার অবেদন করা হয়েছে এনএসসি’র কাছে। এছাড়া আর কিছুই না। তবে ঈদের ছুটির কারণে এনএসসি’র হাতেও সময় থাকবে না। তাই এটা বলতে পারি নির্বাচন নিয়ে ঈদের ছুটি শেষ না হলে কিছু করার থাকবে না। ঈদের পর তারা নির্বাচনের যে কাজগুলো আছে সেইগুলো এগিয়ে নেবে। এই কাজের মধ্যে অন্যতম নির্বাচন কমিশন গঠন করা ও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচনী প্রক্রিয়াগুলো শুরু করা।’
অন্যদিকে হাইয়ুল কাইযুম নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিষয় নিয়ে বলেন, ‘আসলে আমি চিঠি হাতে না পেয়ে কিছু বলতে চাচ্ছি না। তবে যদি বিসিবি চিঠি দিয়ে থাকে আর আমরা চিঠি পাই তাহলে আমাদের প্রথম কাজ হবে নির্বাচন কমিশন গঠন করা। আর সেই সঙ্গে বিসিবি’র যে গঠনতন্ত্রে নির্বাচন সম্ভব তাতে সেই অনুযায়ী নির্বাচনী প্রক্রিয়াগুলো এগিয়ে নেয়া।’ আদালত থেকে যে গঠনতন্ত্রে নির্বাচনের দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে সেই গঠনতন্ত্র অনুসরণ করেই নির্বাচন হবে বলেও উল্লেখ করেছেন এনএসসি’র ক্রীড়া পরিচালক। তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকরা যে গঠনতন্ত্রে নির্বাচনের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন সেই অনুসারেই গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আমরা নির্বাচনের কার্যক্রমগুলো শুরু করবো।’
ওদিকে বিসিবি’র এডহক কমিটির সদস্য লোকমান হোসেন ভূঁইয়াও এনএসসিকে চিঠি দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চিঠি দিয়েছি। এখন এনএসসি সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবে। আমরা সেখানে কোন সময় বেঁধে দেইনি। এনএসসি স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেই নির্বাচন আয়োজনের সব ব্যবস্থা নিবেন।<