অবলীলায় মিথ্যা কথা বলেন আবুল মাল আবদুল মুহিত

প্রকাশ:| বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর , ২০১৪ সময় ১১:৪৫ অপরাহ্ণ

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত পরিবারতন্ত্রে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন জনতা ব্যাংকের সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান আবুল বারকাত।

আবুল বারকাততিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী বুদ্ধিবৃত্তিক জালিয়াতি করেন। অবলীলায় মিথ্যা কথা বলেন। তিনি দেশের জন্য ক্ষতিকর, অন্যায় তদবির করেন।

আজ বুধবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ‘জনতা ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতার পাঁচ বছর: ২০০৯-২০১৩’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক বারকাত অভিযোগ করেন, একটি টিভি চ্যানেলের জন্য ৪০ কোটি টাকা ননফান্ড থেকে ফান্ড হিসেবে দেয়ার জন্য তিনি (অর্থমন্ত্রী) আমাকে তদবির করেন। আমি তার তদবিরের কারণে টাকা দিয়েছি। এর দায় অর্থমন্ত্রীকে নিতে হবে।

অর্থমন্ত্রী মিথ্যা কথা বলতে পারদর্শী দাবি করে বারকাত বলেন, তিনি অবলীলায় মিথ্যা কথা বলতে পারেন। মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করতে শেখেননি। তাই কথায় কথায় তিনি ‘রাবিশ’, ‘ফটকা’ এই সব শব্দ ব্যবহার করেন। সংবিধানে আছে, প্রজাতন্ত্রের মালিক হবে জনগণ। কিন্তু তিনি সেই জনগণকেই কথায় কথায় অপমান করছেন। অর্থমন্ত্রীকে নব্য উদারবাদীদের দালাল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বিশেষ একটি শ্রেণীকে সুবিধা দিয়ে থাকেন অভিযোগ করে জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান বলেন, ক্ষমতার অপব্যহার করে নিজ এলাকার এলিট শ্রেণর মানুষকে বেশি সুবিধা দিচ্ছেন। তিনি প্রজাতন্ত্রের সেবা না করে ক্ষতি করছেন।

বারকাত বলেন, সিএসআর (করপোরেট স্যোশাল রেসপনসিবিলিটি ) বন্ধ হলেও আমরা আইএসআর (ইনডিভিজুয়ালিটি স্যোশাল রেসপনসিবিলিটি) গঠন করি। যখন বন্যায় বানভাসি মানুষের হাহাকার, ঠিক তখন অর্থমন্ত্রী সিএসআর বন্ধ করলেন। তাই আমরা আইএসআরের মাধ্যমে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাঁদার মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ টাকা আদায় করে কুড়িগ্রাম ও জামালপুর এলাকায় সাহায্য করি।

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের মোট মুনাফার ১০ শতাংশ সিএসআরে ব্যয় হওয়া উচিত বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে মোট মুনাফার ১০ শতাংশ সিএসআর আদায় করে এর ৫ শতাংশ আলাদা করে সৎ মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করলে দুই বছরে তাদের দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব। কিন্তু অর্থমন্ত্রী তা করবেন না।

পাঁচ বছর চেয়ারম্যান রেখেছি, মেয়াদ আর বাড়ানো হচ্ছে না, এ জন্যই তিনি (বারাকাত) ভুল বকছেন- অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বারাকাত বলেন, ব্যাংকের চেয়ারম্যান রাখার উনি কে? আমি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হয়েছি। তিনি (অর্থমন্ত্রী) একজন প্রতিহিংস্যাপরায়ণ মানুষ। তাই তার মুখে এসব কথা মানায়।

এ সময় সরকারে প্রতি আবেদন জানিয়ে বারকাত বলেন, অর্থমন্ত্রী কী বলছেন, আর আমি কী বলছি, তার সত্যতার জন্য একটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করুন। তদন্তে যদি প্রমাণ হয় আমি দোষী, তাহলে আমি সব অভিযোগ মাথা পেতে নেব।

জনতা ব্যাংকের কাগজপত্র সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরে আবুল বারকাত বলেন, ২০১৩ সালে সব বাদ দিয়ে নিট লাভ ৯৫৫ কোটি টাকা, যা বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে দেশী-বিদেশী ৫৬টি ব্যাংকের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০০৮-১৩ সালে জনতা ব্যাংকের আমানত বেড়েছে ১১৬ শতাংশ এবং মোট সম্পদ বেড়েছে ১১৯ শতাংশ।