অবরোধের দ্বিতীয় দিনে সহিংসতায় নিহত ৯

প্রকাশ:| বুধবার, ২৭ নভেম্বর , ২০১৩ সময় ১১:৩১ অপরাহ্ণ

নিহত লাশ১৮ দলীয় জোটের ডাকা অবরোধের দ্বিতীয় দিনেও রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয়েছে। এতে বিভিন্ন স্থানে ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গভীর রাতে সাতক্ষীরায় র‌্যাব-পুলিশের যৌথ বাহিনীর সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের সংঘর্ষে এক জামায়াত কর্মী মারা গেছেন। আজ দুপুরে একই জেলায় অবরোধের জন্য গাছ কাটার সময় গাছচাপায় এক মহিলার মৃত্যু হয়। ঢাকায় গতকাল ককটেলে আহত আনোয়ারা বেগম আজ সকালে মারা গেছেন। অন্য দিকে দুপুরে সিরাজগঞ্জের বেলকুচীতে সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছেন। যদিও জামায়াতের দাবি এখানে মৃতের সংখ্যা ৩। চট্টগ্রামের পটিয়ায় অবরোধকারীদের ধাওয়ায় সিএনজি অটোরিক্সা উল্টে ১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। গাজীপুরে অবরোধকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে মারা গেছেন এক আওয়ামী লীগ নেতা। এছাড়া অন্যান্য বিভাগীয় ও জেলা শহরেও চলছে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটছে। এদিকে রেল লাইনে নাশকতার ফলে কমলাপুর রেলস্টেশনের সব ট্রেনের যাত্রা স্থগিত করা হয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার, উত্তরা থেকে জানান, রাজধানীর উত্তরায় জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় চার জামায়াত কর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনাস্থলে ব্যাপক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে অবরোধকারীরা। পুলিশও পাল্টা টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। এর আগে উত্তরা আশকোনা হাজী ক্যাম্পের চত্বরে দুইটি প্রাইভেটকার ও মুক্তিযোদ্ধা কমেপ্লক্স মার্কেটের সামনে একটি প্রাইভেটকারে আগুন দিয়েছে জামায়াত কর্মীরা। ওই তিনটি গাড়ি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে।
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, সাতক্ষীরায় গাছের গুড়ি ভেঙে পড়ে এক পথচারী মহিলার মৃত্যু হয়েছে আজ দুপুরে। এর আগে গতরাতে সদর উপজেলার আবাদেরহাটখোলা এলাকায় পুলিশ-র‌্যাব ও বিজিবির সদস্যদের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের সংঘর্ষে শামসুর রহমান (৪০) নামের এক জামায়াত কর্মী নিহত হয়েছেন। গতরাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নাসির উদ্দিন বলেন, গভীর রাতে অভিযানে বেরিয়েছিল পুলিশ। আগেই জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা তা টের পেয়ে সতর্ক হয়ে যায়। কয়েক হাজার নেতা-কর্মী এলাকায় জড়ো হয়ে যৌথ বাহিনীর গাড়ি লক্ষ করে ককটেল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে সড়কে গাছ ফেলে অবরোধ তৈরি করে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা। আত্মরক্ষার্থে কাঁদানে গ্যাসে, রাবার বুলেট ও শর্টগানের গুলি ছোড়ে যৌথ বাহিনী। এসময় শামসুর রহমান নিহত হয়। ভোর চারটার দিকে যৌথ বাহিনী ওই এলাকা থেকে ফিরে আসে।
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বেলকুচি উপজেলায় পুলিশ-আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের ধফায় দফায় সংঘর্ষে ২জন নিহত হয়েছেন। আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিছিল বের করলে তাতে হামলা চালায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সমর্থকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ গুলি, টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এতে গুলিবদ্ধ হয়ে মারা যান জামায়াত কর্মী আবদুল জলীল (৫৫) এবং স্থানীয় ইউনিয়ন ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক মাছুম বিল্লাহ (২২)। তবে জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহমদ দাবি করেছেন তাদের আরেক নেতাও গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন।
সোনারগাঁও প্রতিনিধি জানান, বুধবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁওয়ে মেঘনা শিল্পনগরী আষাড়িয়ারচর এলাকায় অবরোধকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলিবর্ষণ, টিয়ারসেল নিক্ষেপ করলে থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রউফসহ ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এলাকায় চার প্লাটুন পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সকাল সোয়া ছয়টায় সোনারগাঁও থানা বিএনপির কয়েকশ’ নেতাকর্মী আষাড়িয়ারচর ও মেঘনা টোল প্লাজায় এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় নেতাকর্মীরা মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। তারা প্রায় ২০টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে।
এ নিয়ে অবরোধের দুই দিনে সাতক্ষীরায় তিন জনের মৃত্যু হল। সেখানে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় গতকাল। কুমিল্লায় গতকাল বিজিবির এক সদস্য নিহত হন। এর আগে কুমিল্লায় এক বিএনপি কর্মী নিহত হন পুলিশের গুলিতে। বগুড়ায় সংঘর্ষে বিএনপির এক নেতা এবং সিরাজগঞ্জ ও বরিশালের গৌরনদীতে দুজন পথচারী মারা গেছেন। ফেনীতে ককটেল বিস্ফোরণে আহত সিএনজিচালিত অটোরিকশার এক চালক রাতে হাসপাতালে মারা গেছেন। রাজধানীতে গতকাল ককটেল হামলায় আহত বেসরকারি ব্যাংক কর্মচারি আনোয়ারা বেগম মারা গেছেন। সব মিলে অবরোধে সহিংসতায় মৃত্যু সংখ্যা দাড়িয়েছে ১০ জনে।