অবরোধের চেষ্টা এলাকাবাসীর, ফাঁকা গুলি ছুড়ে ও লাঠিপেটা করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২ মে , ২০১৪ সময় ০৭:২২ অপরাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জে অপহূত ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামকে উদ্ধারের দাবিতে বেঁধে দেওয়া তিন ঘণ্টা পার হওয়ার পর আজ শুক্রবার এলাকাবাসী সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেছেন। তবে পুলিশ শটগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে ও লাঠিপেটা করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে।
আজ সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টার পর থেকে সাইফুলের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর পরিবারের দাবি, সাইফুলকে অপহরণ করা হয়েছে।
সাইফুলের স্ত্রী আফরিন সুলতানার ভাষ্য, সাইফুল সানারপাড়ের লামিয়া সুপার স্টোর নামের একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের মালিক। গতকাল রাতে অপহরণকারীরা ফোন করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়েছে। প্রথমে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল বলে জানা গেছে।

সাইফুলের সন্ধানের দাবিতে আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সানারপাড় বাসস্ট্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ী ও তাঁর স্বজনেরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এ সময় পুলিশ তাঁদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরাতে গেলে তাঁরা পুলিশকে তিন ঘণ্টার সময় বেঁধে দেন। এর মধ্যে জুমার নামাজের সময় হওয়ায় তাঁরা মহাসড়ক থেকে সরে যান। কিন্তু তিন ঘণ্টার মধ্যে সাইফুলকে উদ্ধার করতে না পারলে তাঁরা আবার মহাসড়ক অবরোধ করবেন বলে ঘোষণা দেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. জাকারিয়া বলেন, নিখোঁজ সাইফুলকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মতিন জানান, সাইফুল ইসলাম নামের একজন ব্যবসায়ী নিখোঁজ রয়েছেন। এ নিয়ে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে গত রোববার একসঙ্গে সাত ব্যক্তি অপহূত হন। তাঁরা হলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তাঁর বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িচালক ইব্রাহিম।
গত বুধবার দুপুরে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের ও গতকাল একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।