অফিস রেখে নির্বাচনী প্রচারণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

প্রকাশ:| সোমবার, ১৯ আগস্ট , ২০১৩ সময় ০৫:১৮ অপরাহ্ণ

বাংলানিউজটোয়িন্টিফোর.কম>>ctg bordকার্যদিবসে অফিস না করে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের সংগঠন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নির্বাচনী কর্মকান্ডে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা।

সোমবার শিক্ষাবোর্ডে চলছে ছুটির আমেজ। কয়েকজন কর্মকর্তা ছুটি নিলেও বাকিদের বিষয়ে জানেন না স্বয়ং বোর্ড চেয়ারম্যান। ফলে দুর্ভোগে পড়েছে দূর-দুরান্ত থেকে আসা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহ‍াম্মদ আলী চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন,‘কয়েকজন কর্মকর্তা ছুটি নিয়েছে বাকিদের বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’

তবে কার্যদিবসে কর্মকর্তাদের অফিস না করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সোমবার শিক্ষাবোর্ডে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড.পীযুষ দত্ত, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জামাল উদ্দিন, কলেজ পরিদর্শক সুমন বড়ুয়া, বিদ্যালয় পরিদর্শক কাজী নাজিমুল ইসলাম, উপ-পরিচালক মঈনুদ্দিন, উপ সচিব মাহবুব হাসানের কক্ষের দরজায় তালা ঝুলছে।

বোর্ডে ডেপুটেশনে কর্মরত ১৭ জন বিসিএস কর্মকর্তার অধিকাংশই সোমবার কার্যদিবসে উপস্থিত ছিলেন না। শাখা প্রধানদের কেউ উপস্থিত নেই। তাদের কক্ষের সামনে সাক্ষাত প্রার্থীদের ভিড়। অফিসে কর্মকর্তা না থাকলেও সাক্ষাত প্রার্থীরা কর্মকর্তা কখন আসবেন সে অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।

অফিসের পিয়নরাও সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারছেন না কর্মকর্তারা কোথায় গেছেন। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কক্ষের সামনে ভীড় করেছেন চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লোকজন। এদের একজন জাবেদ। এসেছেন ফটিকছড়ির নাজির হাট এলাকা থেকে। ‌

নাজির হাট কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পাশ করেছেন। এসএসসি’র সনদে নাম ভুল ছিল। সেটি সংশোধন করেছেন। কিন্তু এবার এইচএসসি’র মার্কশীটে আবারও আগের ভুল নাম চলে এসেছে। কয়েকদিন ধরে তা সংশোধনের জন্য ধরণা দিচ্ছেন বোর্ডের বিভিন্ন শাখায়।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘কযেকদিন ধরে এসে এ শাখা ও শাখা ঘুরছি সমস্যার কোন সুরাহা হচ্ছে না। আজকে এসে নাম সংশোধন শাখায় যাই। ওখানকার কর্মকর্তা বললেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক স্যারের সঙ্গে দেখা করতে। কিন্তু উনার কক্ষে গিয়ে দেখি উনি নেই। কোথায় গেছেন তাও বলতে পারছেন না ওই শাখার লোকজন।’

তিনি বলেন,‘বারবার এতদ‍ূর থেকে আসা যেমন কষ্টের তেমন ভোগান্তির।’

স্কুলের কিছু ঝামেলা নিয়ে সাতকানিয়া থেকে এসেছেন উচ্চ বিদ্যালয়ের এক প্রধান শিক্ষক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘স্কুলের একটি ঝামেলা নিয়ে বিদ্যালয় পরিদর্শকের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। এসে দেখি তিনি নেই। এতদূর থেকে বারবার আসা কি সম্ভব?’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বোর্ডের কাজ পেলে কর্মকর্তারা বিভিন্ন কলেজে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছেন। সোমবার সকালে নগরীর বিভিন্ন সরকারি কলেজের শিক্ষকদের কাছে গিয়ে ভোট চাইছেন।

হাজী মহসিন কলেজের এক শিক্ষক বাংলানিউজকে বলেন,‘ সকাল ১১টার দিকে বোর্ডের কর্মকর্তাদের মহসিন কলেজে দেখেছি। তারা এসময় বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন।’

বিভিন্ন সাক্ষাত প্রার্থীদের ভোগান্তি নিয়ে জানতে চাইলে বোর্ড চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী চৌধুরী বলেন, ‘কর্মকর্তা না থাকায় লোকজনের একটু ভোগান্তি হচ্ছে। আমি নিজে যেটুক‍ু সুরাহা করতে পারছি তা করছি। বাকিদের কর্মকর্তারা এলে করে দেবেন।’

কারা ছুটিতে আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ মুহুর্তে আমার নলেজে নেই’।

প্রসঙ্গত, ২০ আগস্ট ক্যাডার সার্ভিসের সবচেয়ে বড় সংগঠন ১০ হাজার ৩০০ সদস্যবিশিষ্ট বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নির্বাচন। নির্বাচনে তিনটি প্যানেল প্রতিদ্বন্ধীতা করছে।


আরোও সংবাদ