অপহরণেও রোহিঙ্গা

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর , ২০১৫ সময় ১০:১২ অপরাহ্ণ

সাতকানিয়া উপজেলার একটি মাছের খামারের মালিক ওসমান গণি চৌধুরীর নয় বছর বয়সী ছেলে অপহরণের পর তদন্তে এই চিত্র বেরিয়ে আসার কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রামের সহকারী পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) এ কে এম এমরান ভূঁইয়া।

আট দিন অভিযানের পর শিশুটিকে মঙ্গলবার রাতে বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তমব্রু সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মিয়ানমারের নাগরিক নুর আলম এই অপহরণে জড়িত বলে দাবি করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার এমরান।

চার মাস আগে ওসমান গনির মাছের খামারে কাজ নিয়েছিলেন নুর আলম। তখন তিনি পরিচয় গোপন করে নিজেকে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার বাসিন্দা বলেছিলেন।

মালিকের সঙ্গে সু-সম্পর্ক তৈরি করে তার ছেলেকে অপহরণ করে নুর আলম শিশুটিকে মিয়ানমার সীমান্তে নিয়ে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন বলে পুলিশ জানায়।

নুর আলমের দুই ভাই দুদু মিয়া (২৬), খুইল্যা মিয়া (৩৫) ও আবুল হাশেমকে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মনখালী নামক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা মিয়ানমারের মংডুর বাসিন্দা বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা এমরান বলেন, গত ১২ অক্টোবর শিশুটিকে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে অপহরণ করেন নুর আলম।

“নুর আলম শিশুটিকে নিয়ে প্রথমে তার ঘরে রাখে। পরে সেখান থেকে টেকনাফ থানার লেদা টাওয়ার বাজার রিফিউজি ক্যাম্পে মো. আলম নামে এক ব্যক্তির ঘরে নেয় এবং সেখান থেকে মিয়ানমার নিয়ে গিয়েছিল।”

মুক্তিপণ চাওয়ার পর ওসমান গণি ৩০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠিয়েছিলেন। তার মধ্যে পুলিশকেও ঘটনাটি জানানো হয়।

পুলিশ দুদু মিয়া, খুইল্ল্যা মিয়া ও হাশেমকে গ্রেপ্তারের পর তাদের মাধ্যমে নুর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

“এরপর শিশুটিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তমব্রু সীমান্ত এলাকার নো-মেন্সল্যান্ডে রেখে পালিয়ে যায় নুর আলম,” বলেন পুলিশ কর্মকর্তা এমরান।

মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ৭-৮ লাখ রোহিঙ্গাদের অনেকেই মাদক পাচারসহ নানা অপরাধে যুক্ত বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন।

চট্টগ্রামের পুলিশ কর্মকর্তা ইমরান বলেন, অবৈধভাবে আসা রোহিঙ্গারা কম টাকায় বিভিন্ন স্থানে কাজ নেয়। তখন তারা নিজেদের চট্টগ্রামের নানা এলাকা ও কক্সবাজারের বাসিন্দা বলে পরিচয় দেয়।

“পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি ডাকাতি, চুরি ও অপহরণের মতো বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।”

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া এলাকায় রোহিঙ্গারা ঢুকে পড়ছে জানিয়ে অপরিচিত কাউকে কাজে নিয়োগ দেওয়ার আগে তাদের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেন এএসপি এমরান।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের দুটি শরণার্থী শিবির থাকলেও বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে তারা।